কানাডা , ১৭ জুন : জি৭ সম্মেলনের প্রেক্ষাপটে কানাডার কানানাস্কিসে ১৭ জুন ২০২৫ তারিখে ভারতের প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদী বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রনেতাদের সঙ্গে একাধিক গঠনমূলক এবং তাৎপর্যপূর্ণ বৈঠকে অংশ নেন। দক্ষিণ আফ্রিকার রাষ্ট্রপতি হি.ই. সিরিল রামাফোসা এবং ব্রাজিলের রাষ্ট্রপতি হি.ই. লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভার সঙ্গে তাঁর আলোচনায় গ্লোবাল সাউথের স্বার্থে ঐক্যবদ্ধ অবস্থান এবং ভবিষ্যতে একযোগে কাজ করার বিষয়ে অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত হয়। প্রধানমন্ত্রী মোদী এক্স-এ এক পোস্টে লেখেন, “দুই প্রিয় বন্ধু রাষ্ট্রপতি রামাফোসা ও রাষ্ট্রপতি লুলার সঙ্গে অসাধারণ আলোচনা হয়েছে। গ্লোবাল সাউথের স্বার্থে আমরা একসঙ্গে কথা বলব এবং ভবিষ্যৎ গড়ার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত।”
এছাড়া, ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন এবং ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কস্তার সঙ্গে মোদীর বৈঠক ছিল ফলপ্রসূ ও কৌশলগত। জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিগেরু ইশিবার সঙ্গে আলোচনায় দুই দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদার করার প্রতিশ্রুতি পুনরায় ব্যক্ত হয়। মোদী এক্স-এ লেখেন, “জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিগেরু ইশবার সঙ্গে অন্তর্দৃষ্টিপূর্ণ আলোচনা হয়েছে। ভারত ও জাপান বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও জোরদার করতে দৃঢ় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”
প্রধানমন্ত্রী মোদী ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ বৈঠকে অংশগ্রহণ করেন এবং বলেন, ভারত-ইতালি বন্ধুত্ব ভবিষ্যতে আরও দৃঢ় হবে এবং এই সম্পর্ক দুই দেশের জনগণের জন্য সুফল বয়ে আনবে। ফ্রান্সের রাষ্ট্রপতি ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সঙ্গে বৈঠকে বৈশ্বিক ইস্যুতে একযোগে কাজ করার বিষয়ে মতবিনিময় হয়। মোদী ফরাসি ভাষাতেও একটি পোস্টে লেখেন, “আমার বন্ধু রাষ্ট্রপতি ম্যাক্রোঁর সঙ্গে আলোচনা সর্বদা আনন্দদায়ক। আমরা পরিবেশ ও উন্নয়নের স্বার্থে একসঙ্গে কাজ চালিয়ে যাব।”
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টারমারের সঙ্গে বৈঠকে মোদী বলেন, ভারত ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে বাণিজ্য ও বাণিজ্যিক সহযোগিতা ইতোমধ্যে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি লাভ করেছে এবং ভবিষ্যতে আরও গতি পাবে। দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রপতি লি জে-মিয়ং এবং অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজের সঙ্গে বৈঠকে প্রযুক্তি, বিনিয়োগ, গ্রিন হাইড্রোজেন ও জাহাজ নির্মাণসহ বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা আরও বিস্তৃত করার বিষয়ে আলোচনা হয়।
জি৭ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী মোদীর এই বৈঠকগুলি বৈশ্বিক নেতৃত্বে ভারতের সক্রিয় ভূমিকা এবং বিশেষ করে গ্লোবাল সাউথের পক্ষে ভারতের অঙ্গীকারকে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেছে।

