ইম্ফল, ১২ জুন: আহমেদাবাদে এয়ার ইন্ডিয়ার বিমানের ভয়াবহ দুর্ঘটনায় মণিপুরের দুই কেবিন ক্রু সদস্য নিহত হয়েছেন। তাঁরা হলেন, এনগানথোই শর্মা কংব্রাইলাতপাম এবং লামনুথেম সিংসন।
বৃহস্পতিবার দুপুরে আহমেদাবাদের কাছে এই মর্মান্তিক বিমান দুর্ঘটনাটি ঘটে। এয়ার ইন্ডিয়ার ফ্লাইট এআই১৭১ আহমেদাবাদ থেকে লন্ডনের গ্যাটউইকের উদ্দেশ্যে যাত্রা করছিল। বোয়িং ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনার বিমানটি দুপুর ১টা ৩৮ মিনিটে সরদার বল্লভভাই প্যাটেল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে উড়ে যায়। বিমানে মোট ২৪২ জন যাত্রী ও ক্রু ছিলেন, যাদের মধ্যে ছিলেন ১৬৯ জন ভারতীয়, ৫৩ জন ব্রিটিশ, একজন কানাডীয় এবং সাতজন পর্তুগিজ নাগরিক।
বিমানবন্দরের কাছেই বিজে মেডিকেল কলেজ হোস্টেলের ওপর বিমানটি ভেঙ্গে পরে। সেখানে তখন দুপুরের খাবারের সময় হওয়ায় বহু মেডিকেল ছাত্র-ছাত্রী উপস্থিত ছিলেন।
বিমানটি ক্যাপ্টেন সুমিত সাবারওয়াল, যিনি একজন লাইন ট্রেনিং ক্যাপ্টেন এবং ৮,২০০ ঘণ্টারও বেশি ফ্লাইং অভিজ্ঞতাসম্পন্ন, তার নেতৃত্বে চালিত হচ্ছিল। তাকে সহায়তা করছিলেন ফার্স্ট অফিসার ক্লাইভ কুন্ডার, যাঁর ১,১০০ ঘণ্টার উড়ান অভিজ্ঞতা রয়েছে। কেবিন ক্রুদের মধ্যে এনগানথোই এবং লামনুথেম ছাড়াও ছিলেন — শ্রদ্ধা ধবন, অপর্ণা মহাডিক, সাইনিতা চক্রবর্তী, দীপক পাঠক, মৈথিলি পাটিল, ইরফান শেখ, রোশনি সংঘারে রাজেন্দ্র এবং মনীষা থাপা।
ঘটনার পর বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সরদার বল্লভভাই প্যাটেল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সব ফ্লাইট অপারেশন সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। শোক প্রকাশে এয়ার ইন্ডিয়া তাদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্রোফাইল কালো করে দিয়েছে — যা ২০২০ সালের কোঝিকোড়ে প্রাণঘাতী বিমান দুর্ঘটনার পর প্রথমবারের মতো দেখা গেল। পরিবারের সদস্যরা যাতে প্রিয়জনদের খোঁজ পেতে পারেন, সেজন্য এয়ার ইন্ডিয়া একটি হেল্পলাইন (১৮০০ ৫৬৯১ ৪৪৪) চালু করেছে। দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

