গুয়াহাটি/লস অ্যাঞ্জেলেস, ৫ জুন : ১৪৯ মিলিয়ন ডলারের বিশাল স্বাস্থ্য কেলেঙ্কারিতে জড়িত থাকার অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রে গ্রেফতার হয়েছেন গুয়াহাটি-জন্ম, যুক্তরাষ্ট্র-প্রবাসী ফার্মাসিউটিক্যাল উদ্যোক্তা ও সাবেক সোভারেইন হেলথ গ্রুপ -এর সিইও তন্ময় শর্মা।
৬১ বছর বয়সী তন্ময় শর্মাকে মে ২৯ তারিখে লস অ্যাঞ্জেলেস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে গ্রেফতার করে এফবিআই। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় জেলা ক্যালিফোর্নিয়ার অ্যাটর্নি অফিস জানিয়েছে, তাঁর বিরুদ্ধে আটটি অভিযোগে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে — যার মধ্যে রয়েছে চারটি ওয়্যার ফ্রড, একটি ষড়যন্ত্র এবং তিনটি বেআইনি রেমুনারেশনের অভিযোগ।
দীর্ঘ তদন্তের পর জানা গেছে, তন্ময় শর্মা ও তাঁর সহযোগীরা বহু রোগীকে তাদের সম্মতি ছাড়াই স্বাস্থ্যবিমা প্ল্যানে অন্তর্ভুক্ত করেছেন, ভুয়া দাবি জমা দিয়েছেন এবং রোগী রেফারেলের বিনিময়ে অবৈধভাবে $২১ মিলিয়নেরও বেশি অর্থ প্রদান করেছেন।
মার্কিন বিচার বিভাগের মতে, পুরো প্রতারণার মাধ্যমে বীমা কোম্পানিগুলোর কাছে $১৪৯ মিলিয়নের বেশি ভুয়া দাবি জমা দেওয়া হয়েছে। তাঁর সহ-অভিযুক্ত পল জিন সেন খোর ইতিমধ্যে গ্রেফতার হয়েছেন এবং নির্দোষ দাবি করেছেন।
এই মামলার শুনানি ২৯ জুলাই নির্ধারিত হয়েছে।
তন্ময় শর্মা ১৯৮৭ সালে ডিব্রুগড় মেডিকেল কলেজ থেকে স্নাতক হন এবং দিল্লির সফদারজং হাসপাতালে ইন্টার্নশিপ করেন। এরপর তিনি বিদেশে চলে যান এবং মনোরোগ গবেষণা ও আসক্তি চিকিৎসা ক্ষেত্রে এক পরিচিত মুখ হয়ে ওঠেন।
তিনি প্রয়াত ফণী শর্মার পুত্র — গুয়াহাটির বিশিষ্ট ক্রীড়া সংগঠক ও অনুরাধা, রূপায়ণ এবং অনুপমা সিনেমা হলগুলোর প্রাক্তন মালিক।
২০১৭ সাল থেকে শর্মার বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করে এফবিআই, যার আওতায় তাঁর চিকিৎসাকেন্দ্র, সান ক্লেমেন্টের সদর দপ্তর ও সান হুয়ান ক্যাপিসত্রানোর বাসভবনে একাধিক তল্লাশি চালানো হয়।
তন্ময় শর্মা মানসিক স্বাস্থ্য ও ‘ডুয়াল ডায়াগনোসিস’ চিকিৎসা বিষয়ে একাধিক বইয়ের লেখক হিসেবেও পরিচিত। তাঁর গ্রেফতারের খবরে অসম প্রবাসী সমাজ এবং বৈশ্বিক চিকিৎসা মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।

