কারাকাট(বিহার), ৩০ মে : আজ বিহারের কারাকাটে এক ঐতিহাসিক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ৪৮,৫২০ কোটির টাকারও বেশি মূল্যের একাধিক উন্নয়ন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও উদ্বোধন করলেন। এই উপলক্ষে ভাষণে তিনি জানান, “মাওবাদী হিংসা সম্পূর্ণভাবে নির্মূল হওয়া এখন সময়ের অপেক্ষা। প্রতিটি গ্রামে শান্তি, নিরাপত্তা, শিক্ষা ও উন্নয়ন পৌঁছাবে নিরবচ্ছিন্নভাবে।”
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “কিছুদিন আগে পাহেলগামে সন্ত্রাসবাদী হামলায় যাঁরা প্রাণ হারিয়েছেন, তাঁদের জন্য আমি জাতিকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম যে দোষীরা শাস্তি পাবেই। আজ আমি সেই প্রতিশ্রুতি পালন করেছি।” তিনি জানান, পাকিস্তান থেকে পরিচালিত সন্ত্রাসীদের গোপন ঘাঁটি ভারতীয় সেনাবাহিনী ধ্বংস করে দিয়েছে। “এটাই নতুন ভারত – দৃঢ় সংকল্প, অটল প্রতিশোধের ভারত,” বললেন প্রধানমন্ত্রী।
শ্রী মোদী জানান, ২০১৪ সালের আগে দেশে ১২৫টির বেশি জেলা ছিল নকশাল আক্রান্ত। আজ তা কমে এসেছে মাত্র ১৮ জেলায়। তিনি বলেন, “আমরা শুধু রাস্তা তৈরি করছি না, কর্মসংস্থানের সুযোগও সৃষ্টি করছি। আজকের দিনে বিহারে যেসব উন্নয়ন প্রকল্প রূপ নিচ্ছে, তার ফলস্বরূপ যুব সমাজ মূলস্রোতে ফিরছে।” তিনি উল্লেখ করেন, “মাওবাদীরা যারা বাবাসাহেব আম্বেদকরের সংবিধানে বিশ্বাস করত না, তারা বিহারের দুর্গম এলাকায় হাসপাতালে আগুন লাগাতো, স্কুল ধ্বংস করতো। আজ সেই চিত্র বদলেছে।”
প্রধানমন্ত্রী ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর কথা উল্লেখ করে বলেন, “বিএসএফ-এর অদম্য সাহস ও বলিদান আজ গোটা বিশ্ব দেখেছে। আমাদের সীমান্ত রক্ষীরা মায়ের মতো দেশকে রক্ষা করছেন।” তিনি শহিদ সাব-ইন্সপেক্টর ইমতিয়াজের বলিদানের কথা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।
এদিন প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করেন, নবীনগরে ৩০,০০০ কোটি মূল্যের সুপার থার্মাল পাওয়ার প্রকল্প তৈরি হচ্ছে, যা ১৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করবে। দারভাঙ্গা বিমানবন্দর থেকে এখন দিল্লি, মুম্বাই, বেঙ্গালুরুর মতো শহরে সরাসরি বিমান চলছে এবং পাটনার নতুন টার্মিনাল বিল্ডিং এখন বছরে ১ কোটি যাত্রী সামলাতে পারবে। বিহারকে সংযুক্ত করতে চার ও ছয় লেনের একাধিক জাতীয় সড়ক প্রকল্প, নতুন গঙ্গা সেতু এবং গ্রিনফিল্ড করিডোর তৈরি হচ্ছে। রেল পরিকাঠামোতে বহু কোটি টাকার বিনিয়োগে চালু হয়েছে নতুন ট্র্যাক, স্টেশন আধুনিকীকরণ এবং বন্দে ভারত ট্রেন।
আজ প্রধানমন্ত্রী কৃষি ও কৃষকের জন্যও বড় ঘোষণা দিয়েছেন। তাঁর কথায়, ৭৫ লাখ কৃষক পাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী কিষাণ সম্মান নিধি। মাখন বোর্ড গঠিত হয়েছে এবং বিহারের মাখান পেয়েছে জিআই ট্যাগ, যা কৃষকদের আয় বাড়াবে। খরিফ মরসুমের জন্য ১৪টি ফসলের এমএসপি বৃদ্ধি করা হয়েছে, যার ফলে কৃষকেরা ন্যায্য মূল্য পাবেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমরা আজ বিহারে সামাজিক ন্যায়ের নতুন সূর্যোদয় দেখছি।” তিনি জানান, ৪ কোটি নতুন ঘর তৈরি হয়েছে, ৩ কোটি নারী হয়েছেন ‘লাখপতি দিদি’, ১২ কোটিরও বেশি পরিবার পাচ্ছেন পানীয় জলের সংযোগ, ৭০ বছরের ঊর্ধ্ব বয়স্করা পাচ্ছেন বছরে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত চিকিৎসা সুবিধা। তিনি জানান, বিহারে ড. বিআর আম্বেদকর সমগ্র সেবা অভিযান শুরু হয়েছে, যার মাধ্যমে ২২টি সরকারি প্রকল্প একসঙ্গে পৌঁছে যাচ্ছে প্রত্যন্ত গ্রামে। ইতিমধ্যে ৩০,০০০-এর বেশি ক্যাম্প হয়েছে এবং লক্ষাধিক মানুষ উপকৃত হয়েছেন।
এদিন প্রধানমন্ত্রী বিরোধীদের কটাক্ষ করে বলেন, “যাঁরা এক সময় বিহারকে শোষণ করেছিলেন, এখন ‘সামাজিক ন্যায়’-এর ভুয়া গল্প শুনিয়ে আবার ক্ষমতায় ফিরতে চাইছেন।” তিনি প্রশ্ন তোলেন, “বিগত সরকারগুলো যখন গরিবদের জন্য কিছুই করেনি, তখন কি সেটাই ছিল সামাজিক ন্যায়?” প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমাদের লক্ষ্য—বাবাসাহেব আম্বেদকর, কার্পূরী ঠাকুর, জয়প্রকাশ নারায়ণ ও বাবু জগজীবন রামের স্বপ্নের বিহার গড়া।” তিনি দৃঢ় বিশ্বাস প্রকাশ করেন যে, বিহার যখন এগিয়ে চলে, গোটা ভারত বিশ্বমঞ্চে নতুন উচ্চতায় পৌঁছায়।

