মেঘালয় শিক্ষক নিয়োগ কেলেঙ্কারি: আমপারিন লিংডো-সহ একাধিক অভিযুক্তের বিরুদ্ধে শুনানি জারি রেখেছে হাইকোর্ট

শিলং, ২১ মে: ২০০৮-০৯ শিক্ষাবর্ষে নিম্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগে অনিয়ম সংক্রান্ত বহুচর্চিত মামলায় মেঘালয় হাইকোর্ট আজও শুনানি চালিয়ে গেছে। মামলায় অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন মেঘালয়ের বর্তমান মন্ত্রিসভায় দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী আমপারিন লিংডো এবং তৎকালীন শিক্ষা দপ্তরের একাধিক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা।
এই মামলায় প্রধান বিচারপতি আইপি মুখার্জি অভিযুক্তদের আইনজীবীদের অতিরিক্ত সময় প্রদান করেছেন, যাতে তারা তাদের মক্কেলদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগসংক্রান্ত নথিপত্র আদালতে পেশ করতে পারেন। মামলাটি কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা (CBI) তদন্ত করছে।
আদালতের নথি অনুযায়ী, অভিযোগ হল—নিয়োগ প্রক্রিয়াকে ভঙ্গ করে, ফলাফলপত্রে হেরফের, জালিয়াতি ও নকল নথিপত্রের মাধ্যমে নির্দিষ্ট প্রার্থীদের অবৈধ সুবিধা প্রদান করা হয়েছে।
প্রধান অভিযুক্ত আমপারিন লিংডোকে প্রতিনিধিত্ব করছেন বিশিষ্ট আইনজীবী সালমান খুরশিদ, যিনি ইতিমধ্যেই তাঁর যুক্তি শেষ করেছেন। দ্বিতীয় অভিযুক্ত জেফ্রি ডি. সাংমা, যিনি অভিযোগের সময়কালে স্কুল শিক্ষা দপ্তরের অধিকর্তা ছিলেন, তাঁকে প্রতিনিধিত্ব করছেন সিনিয়র অ্যাডভোকেট পল। তিনি আজকের শুনানিতে যুক্তি উপস্থাপন শুরু করেন।
আদালতের আদেশে বলা হয়েছে, “আজ, অভিযুক্তের আইনজীবী তাঁর মক্কেলের বিরুদ্ধে চার্জশিটে উল্লিখিত অসংখ্য অভিযোগের মধ্যে নির্দিষ্ট কয়েকটি অভিযোগের সংকলন আদালতে জমা দেওয়ার অনুমতি প্রার্থনা করেন।” আদালত এই আবেদন মঞ্জুর করেছে এবং নির্দেশ দিয়েছে, “এই সংকলন আগামী ৪ জুন, ২০২৫-এর মধ্যে জমা দিতে হবে।”
মামলার অন্তর্গত মোট পাঁচটি পৃথক ক্রিমিনাল পিটিশনের শুনানি চলছে, যার মধ্যে একটি দায়ের করেছে সিবিআই—ক্রিমিনাল কোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে। বাকি চারটি পিটিশন অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে দায়ের করা হয়েছে, যা ভারতীয় দণ্ডবিধির ৪৮২ ধারা (বর্তমানে ‘ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা’ বা BNSS নামে পরিচিত) অনুযায়ী মামলার বাতিল চেয়ে করা হয়েছে।
মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য হয়েছে আগামী ১৩ জুন, ২০২৫। প্রধান বিচারপতি আইপি মুখার্জি আদেশে উল্লেখ করেছেন, “বর্তমান সমস্ত অন্তর্বর্তী আদেশ মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত অথবা পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বহাল থাকবে।”