নিউ ইয়র্ক, ২২ মে : সমুদ্র অঞ্চলে সন্ত্রাসবাদ, জলদস্যুতা এবং অবৈধ কর্মকাণ্ডের ক্রমবর্ধমান হুমকি নিয়ে ভারত ও জাতিসংঘ গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে ভারতীয় স্থায়ী প্রতিনিধি পি. হরিশ বলেন, “সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলা ও সামুদ্রিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্বার্থের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”
সমুদ্র নিরাপত্তা বিষয়ক আলোচনায় অংশগ্রহণ করে তিনি ভারতের বিস্তৃত সামুদ্রিক কৌশলের কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, “সন্ত্রাসবাদ, জলদস্যুতা, চোরাচালান ও অবৈধ মাছ ধরা—এসব চ্যালেঞ্জের মোকাবিলায় ভারত একটি সমন্বিত কৌশল গ্রহণ করেছে, যা প্রধানমন্ত্রীর ‘সমুদ্র উদ্যোগ’-এর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।”
তিনি নজরদারি, দ্রুত প্রতিক্রিয়া ব্যবস্থা, আঞ্চলিক কূটনীতি, বৈশ্বিক সহযোগিতা এবং অবকাঠামো উন্নয়নের বিষয়গুলিকে ভারতের সামুদ্রিক নীতি ও কৌশলের গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হিসেবে তুলে ধরেন।
পি. হরিশ জানান, পশ্চিম আরব সাগরে ভারতীয় নৌবাহিনী সম্প্রতি ৩৫টিরও বেশি জাহাজ মোতায়েন করেছে এবং ৫২০ জনেরও বেশি নাবিককে উদ্ধার করেছে। সেই সঙ্গে ৩১২টি বাণিজ্যিক জাহাজকে সুরক্ষা প্রদান করেছে। তিনি আরও বলেন, ভারত হুতি বিদ্রোহীদের হামলার বিরুদ্ধে পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে, লাল সাগরে জলদস্যুতার মোকাবিলা করেছে এবং মিয়ানমার, লাওস ও ভিয়েতনামে ঘূর্ণিঝড় ত্রাণ তৎপরতায় অংশ নিয়েছে।
জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এবং গ্রিসের প্রধানমন্ত্রী কিয়ারিকোস মিৎসোতাকিসও সমুদ্র অঞ্চলে সন্ত্রাসবাদ, জলদস্যুতা এবং সমুদ্র-সংলগ্ন গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর ওপর হাইব্রিড হামলা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁরা বলেন, এইসব হুমকি আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা ও সমুদ্রপথে নিরাপদ বাণিজ্যের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।
2025-05-21

