বেঙ্গালুরু, ৭ মে : কর্ণাটকের মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়া ‘অপারেশন সিন্দুর’-এর অধীনে পাকিস্তানে জঙ্গি ঘাঁটিতে ভারতীয় সেনাবাহিনীর হামলার প্রশংসা করে জানিয়েছেন, “আমি ভারতীয় সেনাদের দক্ষতা ও সাহসিকতাকে কুর্নিশ জানাই।” তিনি সাফ কথা, “ভারতের বিরুদ্ধে কেউ আগ্রাসন চালালে, প্রয়োজনে যুদ্ধ করতেও আমরা পিছপা হব না।”
বেঙ্গালুরুতে সাংবাদিক সম্মেলনে মুখ্যমন্ত্রী জানান, “পাকিস্তান ও পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরে জঙ্গি ঘাঁটিগুলিকে লক্ষ্য করে ‘অপারেশন সিন্দুর’ চালানো হয়েছে। নয়টি স্থানে এই হামলা চালিয়েছে ভারতীয় সেনা। শুধুমাত্র সন্ত্রাসবাদী ঘাঁটিগুলিকেই লক্ষ্য করা হয়েছে, কোনো নিরপরাধ পাকিস্তানি নাগরিক ক্ষতিগ্রস্ত হননি।”
তিনি আরও বলেন, “পহেলগামে বর্বর জঙ্গি হামলায় ২৬ জন নিরপরাধ মানুষের প্রাণ গিয়েছে। এরই প্রেক্ষিতে ভারত পাল্টা জবাব দিয়েছে। পাকিস্তান এই হামলার নিন্দা পর্যন্ত করেনি। তাই এটাই ছিল সময়োচিত প্রতিক্রিয়া।” “ভারতীয় সেনাবাহিনীর প্রতি আমাদের সরকারের পক্ষ থেকে ১০০ শতাংশ সমর্থন রয়েছে। জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নে কোনও আপস করা যায় না,” দৃঢ় কণ্ঠে জানান মুখ্যমন্ত্রী।
তিনি আরও বলেন, “পাকিস্তানের পাল্টা হামলা হলে, ভারত তার উপযুক্ত জবাব দিতে সম্পূর্ণভাবে প্রস্তুত। আমরা কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে সমন্বয় রেখে সমস্ত সুরক্ষা ব্যবস্থাও গ্রহণ করব। বেঙ্গালুরুতে মক ড্রিলের প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে।”
এদিন কর্ণাটক কংগ্রেস একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়ে জানায়, বর্তমান পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে যে প্রতিবাদ মিছিলের পরিকল্পনা ছিল, তা স্থগিত করা হয়েছে। “এই মুহূর্তে আন্দোলন করা অনুচিত। সেনাবাহিনীর প্রতি সম্মান জানিয়ে আমরা এই কর্মসূচি বাতিল করেছি,” বলেন মুখ্যমন্ত্রী।
কংগ্রেসের একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট মুছে ফেলার পর বিজেপির কটাক্ষ সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে, মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “এখন রাজনীতি নয়, দেশের স্বার্থে একত্রিত হওয়ার সময়। সশস্ত্র বাহিনীর পাশে থাকাই উচিত।” গান্ধীজির অহিংস নীতির প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে মুখ্যমন্ত্রী জানান, “মহাত্মা গান্ধী, গৌতম বুদ্ধ বা বসবেশ্বরের যুগ ভিন্ন ছিল। আজ যদি বিনা উসকানিতে আমাদের উপর হামলা হয়, আমরা চুপ করে থাকতে পারি না।” “এই মুহূর্তে পুরো জাতিকে একসাথে দাঁড়াতে হবে। ভারত যদি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে, আমরা সবাই মিলে তা মোকাবিলা করব,” জানিয়ে বক্তব্য শেষ করেন মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়া।

