মণিপুরে বিপুল অস্ত্র উদ্ধার, জঙ্গি গ্রেফতার, মাদক দ্রব্য বাজেয়াপ্ত

ইমফল, ৫ মে : রাষ্ট্রপতি শাসনের অধীনে থাকা মণিপুরে নিরাপত্তা বাহিনীর টানা তল্লাশি ও অভিযানে চূড়াচাঁদপুর ও বিষ্ণুপুর জেলার সীমানা সংলগ্ন সামুচেপ লোক/নালার এলাকা থেকে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করা হয়েছে।

পুলিশ কন্ট্রোল রুমের অফিসিয়াল বিজ্ঞপ্তি অনুসারে, রবিবারের উদ্ধার হওয়া অস্ত্রগুলির মধ্যে রয়েছে – ২টি এসএলআর, ১টি এসবিবিএল বন্দুক, ২টি ইম্প্রোভাইজড মর্টার, ৪টি হ্যান্ড গ্রেনেড, ২টি দেশি তৈরি ৯ মিমি পিস্তল, টিয়ার গ্যাস গ্রেনেড এবং অন্যান্য সামরিক সরঞ্জাম। রাজ্যের সংবেদনশীল পাহাড় ও সমতল এলাকার ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলে নিরাপত্তা বাহিনীর তীব্র তল্লাশি ও ‘এরিয়া ডমিনেশন’ অভিযানের অংশ হিসেবে এগুলি উদ্ধার হয়েছে।

অভিযানে তথ্যভিত্তিক তল্লাশি ও কর্ডন-অ্যান্ড-সার্চ অপারেশনের মাধ্যমে চাঁদাবাজি ও নিষিদ্ধ সংগঠনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এসময়ে কেসিপি(পিডব্লিউজি) ও কেওয়াইকেএল(এসওআরইপিএ)-এর সক্রিয় দুই ক্যাডারকে গ্রেফতার করা হয় এবং তাদের কাছ থেকে দুটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে।

এছাড়াও, রবিবার ইমফল ইস্ট জেলা থেকে পৃথক এক অভিযানে দুই ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়, যাদের কাছ থেকে ৩৪ গ্রাম সন্দেহভাজন হেরোইন পাউডার উদ্ধার করা হয়েছে। ইমফল ইস্টে বিশেষ মোটরবাইক অভিযান চালিয়ে নথিপত্র অসম্পূর্ণ থাকায় ২০০-র বেশি বাইক আটক করে যাচাই করা হয়েছে।

শনিবার পরিচালিত আরেকটি অভিযানে ৩টি চুরি যাওয়া গাড়ি উদ্ধার এবং ৪৩টি গাড়ি থেকে টিন্টেড গ্লাস (অবৈধ কাচ) সরানো হয়েছে। জাতীয় সড়ক এনএইচ-২তে নিরাপদ মালবাহী গাড়ি চলাচল নিশ্চিত করতে ৩৬৮টি গাড়িকে নিরাপত্তা বাহিনীর কনভয়ের মাধ্যমে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। রাজ্যজুড়ে ১১১টি চেকপয়েন্ট স্থাপন করা হয়েছে, তবে কোনো গ্রেফতারের খবর নেই। পুলিশ সাধারণ মানুষকে গুজব বা ভুয়ো ভিডিও ছড়ানো থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে, বিশেষ করে রাষ্ট্রপতি শাসনের সময় পরিস্থিতি অশান্ত করার চেষ্টা রোধে।

উল্লেখ্য, গত ১৩ ফেব্রুয়ারি মণিপুরে সংবিধানের ৩৫৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করা হয়। রাজ্যের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী এন. বীরেন সিং পদত্যাগ করার পাঁচ দিনের মধ্যেই এই সিদ্ধান্ত নেয় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। এদিকে, ভারতীয় সেনা ও আসাম রাইফেলসের স্পিয়ার কর্পস-এর আওতাধীন বাহিনী গোপন তথ্যের ভিত্তিতে রাজ্যের কাকচিং, তেংনৌপাল, বিষ্ণুপুর ও কাংপোকপি জেলার পাহাড় ও সমতল এলাকায় যৌথ অভিযান চালিয়ে ১৭ জন জঙ্গিকে গ্রেফতার করেছে। এসময়ে ৩১টি আগ্নেয়াস্ত্র, ১৪টি আইইডি, গ্রেনেড, গুলি ও যুদ্ধাস্ত্রসদৃশ সামগ্রী উদ্ধার হয়েছে।