বৈদ্যনাথ ভট্টাচার্য
আগরতলা, ৩০ এপ্রিল: প্রায় এক মাস অতিক্রান্ত হতে চলছে কিন্তু বিদ্যাজ্যোতি স্কুলগুলির সমস্যা সমাধানে রাজ্য সরকার কোন উদ্যোগ গ্রহণ করছে না। এই ব্যাপারে ক্ষোভ জানালো বাঙালি ছাত্র সমাজ।
বাঙালি ছাত্র সমাজের বক্তব্য হল, স্কুলগুলির সমস্যা সমাধানের জন্য গত ৭ এপ্রিল রাজ্য সরকারের বিদ্যালয়ের শিক্ষা অধিকর্তার কাছে ডেপুটেশন দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এখন পর্যন্ত কিছুই করা হয়নি। কুমারঘাট নিবেদিতা ইংলিশ মিডিয়াম বিদ্যাজ্যোতি স্কুলে নাশকতা মূলক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাও ঘটে।
বাঙালি ছাত্র সমাজের বক্তব্য হল, বিগত পাঁচ বছরে রাজ্যে মাত্র ৪৬৫৬ জন শিক্ষক নিয়োগ করা হয়েছে। প্রয়োজনের তুলনায় অত্যন্ত কম। ফলে সংশ্লিষ্ট সবকটি স্কুলই শিক্ষক স্বল্পতা সহ নানা পরিকাঠামো গত সমস্যার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। বিদ্যাজ্যোতি প্রকল্পাধীন স্কুলগুলির শিক্ষার মাধ্যম যেহেতু ইংরেজি ও হিন্দি সেজন্যে বাংলা মাধ্যম থেকে আসা ছাত্র-ছাত্রীগণ ভাষা সমস্যার মধ্যে পড়তে হচ্ছে। স্কুল এবং বোর্ড পরীক্ষা গুলিতে তার বড় প্রতিফলন ঘটেছে। চাপ সহ্য করতে না পেরে বিদ্যাজ্যোতি স্কুলের অনেক ছাত্র ছাত্রী বিদ্যাজ্যোতি স্কুল ছেড়ে পাশ্ববর্তী বাংলা মাধ্যম স্কুলগুলিতে গিয়ে ভিড় জমাচ্ছে। কারো কারোর শিক্ষাবর্ষও নষ্ট হওয়া উপক্রম হয়েছে। এই অবস্থার প্রেক্ষিতে বাঙালি ছাত্র সমাজ শিক্ষা অধিক র্তার মাধ্যমে রাজ্যে সরকারে র একগুচ্ছ দাবি রেখেছিল।
বাঙালি ছাত্র যুব সমাজের দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছিল, বিদ্যাজ্যোতি সহ অন্যান্য বিদ্যালয়ে ইংরেজি, বাংলা, অংক, বিজ্ঞানসহ বিষয় শিক্ষক নিয়োগ করে প্রতিটি বিদ্যালয়ে চলতি শিক্ষক সমস্যা সমাধানে দ্রুত কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। বিষয় শিক্ষক বাদেও কম্পিউটার শিক্ষক, ক্রীড়া শিক্ষকেরও নিযুক্তির দাবি জানানো হয়। বিদ্যাজ্যোতি স্কুলগুলিতে ইংরেজি একটি বিষয় হিসাবে থা কলেও শিক্ষার মাধ্যম হিসাবে বাংলা ভাষা চালু করতে হবে। বাংলা ভাষাকে কোনওভাবেই ঐচ্ছিক করা চলবে না ও হিন্দি ভাষাকে বলপূর্বক বা কায়দা করে চাপিয়ে দেওয়াকে মেনে নেওয়া হবে না ব লেও জানি য়ে দেওয়া হয়েছিল। শুধু পঠনপাঠনের মাধ্যম হিসাবে বাংলা ভাষা চালুই নয় রাজ্যে অনুষ্ঠিত জয়েন্ট এন্ট্রাস সহ চাকুরি প্রাপ্তির সমস্ত পরীক্ষা ধ্রুপদীভাষা বাংলায় নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছিল। নতুন করে কোনও বাংলা মাধ্যম স্কুলকে বিদ্যাজ্যোতি স্কুলে রূপান্তর করা চলবে না এই দাবী ও করা হয়েছিল। বিদ্যাজ্যোতি উন্নয়নের নামে দপ্তরের মর্জি মাফিক বিভিন্ন ফি রাজ্যের গরিব ছাত্র-ছাত্রীদের উপর চাপানো বন্ধ করতে হবে। বিদ্যাজ্যোতিসহ রাজ্যের প্রতিটি বিদ্যালয়ে বাউন্ডারি, আধুনিক বিজ্ঞানসম্মত ল্যাবরেটরি, ওয়াশরুম, বিশুদ্ধ পানীয় জলের ব্যবস্থা, প্রতিটি শ্রেণীকক্ষে পর্যাপ্ত বৈদ্যুতিক পাখা ফিটসহ আধুনিক পরিকাঠামো গড়ে তুলতেও দাবি জানানো হয়েছিল। আউট সোর্সিং বন্ধ করে চলতি বছরের মধ্যে শিক্ষা বিভাগসহ প্রতিটি ডিপার্টমেন্টের সমস্ত শূন্যপদগুলি পূরণের ব্যবস্থা করতেও দাবী করা হয়েছিল। এই দাবিগুলি পুরনে সরকার কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করছে না। আমরা বাঙালির নেতা সঞ্জিত পাল জানিয়েছেন দাবি পূরণে এবার রাজ্যের আটটি জেলার শিক্ষার আধিকারিকের কাছে ডেপুটেশন এবং বিক্ষোভ আন্দোলন সংগঠিত করা হবে।

