বক্সনগর প্রতিনিধি, ৬ এপ্রিল :
“স্বাস্থ্যই সম্পদ” – এই প্রবাদটি যেন আবারও বাস্তব হয়ে উঠেছে বক্সনগরের সাধারণ মানুষের জন্য। বক্সনগর সামাজিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রের আয়ুর্বেদিক ইউনিট বর্তমানে ডাক্তারের অভাবে কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। ফলে এই ইউনিটে আসা অসংখ্য রোগী আজ চিকিৎসা পরিষেবা থেকে বঞ্চিত।
প্রায় ৪৫ হাজার মানুষের বসবাস বক্সনগর সামাজিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রের অধীনস্থ ১৬টি গ্রাম পঞ্চায়েতে। দীর্ঘদিন ধরে এখানকার মানুষ আয়ুর্বেদিক চিকিৎসার উপর নির্ভরশীল। বামফ্রন্ট সরকারের আমলে চালু হওয়া এই ইউনিট একসময় বন্ধ হয়ে গিয়েছিল চিকিৎসক না থাকার কারণে। পরে বর্তমান সরকারের আমলে ইউনিটটি আবারও চালু হয়। কিন্তু সম্প্রতি ফের একই কারণে পরিষেবা বন্ধ হয়ে গেল।
এই ইউনিটে নিযুক্ত একমাত্র চিকিৎসক ডা. সঙ্গীতা দাস গতকাল ২ এপ্রিল বিশালগড় গভর্নমেন্ট হাসপাতালে বদলি হয়েছেন। তিনি সপ্তাহে তিন দিন—মঙ্গলবার, বৃহস্পতিবার ও শনিবার—এই ইউনিটে রোগী দেখতেন। তাঁর শেষ কর্মদিবস ছিল ৫ এপ্রিল। ওই দিন রোগীর চাপ ছিল ব্যাপক, কিন্তু পরদিন থেকে ইউনিটে আর কোনও চিকিৎসক না থাকায় সমস্ত পরিষেবা বন্ধ হয়ে গেছে।
রোগীদের অভিযোগ, ওষুধ থাকলেও চিকিৎসক না থাকায় তা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। অনেকেই আশাহত হয়ে ফিরে যাচ্ছেন। স্থানীয়দের দাবি, যদি একজন ডাক্তারকে বদলি করা হয়েছে, তবে তাঁর পরিবর্তে নতুন ডাক্তারের ব্যবস্থা করা একান্ত প্রয়োজন।
এই অবস্থায় স্থানীয়রা স্বাস্থ্য মন্ত্রী ও সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে দাবি তুলেছেন, ন্যাশনাল আয়ুশ মিশনের অধীনে অবিলম্বে বক্সনগর আয়ুর্বেদিক ইউনিটে নতুন চিকিৎসক নিয়োগ করা হোক। পাশাপাশি, ভবিষ্যতে যাতে এই ধরনের পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সে দিকেও প্রশাসনের নজর দেওয়া জরুরি বলে মনে করছেন এলাকার মানুষ।

