মণিপুরের চূড়াচাঁদপুরে গোষ্ঠী সংঘর্ষ, হত এক, ভাঙচুর, ঘায়েল বহু, জারি কারফিউ

– জেলায় বনধ-এর আহ্বান জোমি স্টুডেন্টস ফেডারেশনের

ইমফল, ১৯ মাৰ্চ (হি.স.) : মণিপুরের চূড়াচাঁদপুর জেলা সদরের উপকণ্ঠে জোমি এবং মার উপজাতীয় মানুষের মধ্যে নতুন করে সংঘর্ষের ঘটনায় এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছেন বেশ কয়েকজন। নিহতকে বছর ৫৩-এর জনৈক লালরোপুই পাখুমাতে বলে শনাক্ত করা হয়েছে।

আজ বুধবার রাজ্য পুলিশের সদর দফতরের এক সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার গভীর রাতে চূড়াচাঁদপুর শহরের উপকণ্ঠে সংগঠিত হয়েছে সংঘর্ষের ঘটনা। গতকাল দুই জনগোষ্ঠীয় শীর্ষ দুই সংস্থা জোমি এবং মার-দের মধ্যে শান্তি মীমাংসা হওয়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা সংগঠিত হয়েছে। এদিন মার ইনপুই এবং জোমি কাউন্সিল জেলায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত করে এমন সমস্ত কার্যকলাপ বন্ধ করতে এক শান্তিতে চুক্তি স্বাক্ষর করেছিল। এর কয়েক ঘণ্টা পর কতিপয় যুবক জোমি জঙ্গি সংগঠনের পতাকা নামানোর চেষ্টা করলে নতুন করে সংঘর্ষ শুরু হয়।

সূত্ৰটি বলেন, জোমি জঙ্গি সংগঠনের পতাকা নামানোর চেষ্টা করা হচ্ছে দেখে তাৎক্ষণিকভাবে হাতে হাতে লাঠিসোটা নিয়ে একদল মানুষ পাথর ছুঁড়তে শুরু করে। চলে ভাঙচুরের ঘটনা। কেবল পাথর ছোঁড়াই নয়, জনতার মধ্যে থেকে বিবাদী পক্ষকে লক্ষ্য করে গুলিও চালানো হয়েছিল। পুলিশের সূত্র বলেছেন, তবে কে গুলি চালিয়েছিল তা এখনও স্পষ্ট নয়।

জনতাকে নিয়ন্ত্রণ করতে নিরাপত্তা বাহিনীকে বেশ বেগ পেতে হচ্ছিল। শেষে উন্মত্ত জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে নিরাপত্তা কর্মীরা কাঁদানে গ্যাসের শেল এবং কয়েক রাউন্ড গুলি ছুঁড়েছেন।

পুলিশ সূত্ৰের খবর, জোমি-মার সংঘর্ষের পরিপ্রেক্ষিতে গোটা চূড়াচাঁদপুর জেলায় কারফিউ জারি করা হয়েছে। ইতিমধ্যে শহরে ফ্ল্যাগমাৰ্চ করছে নিরাপত্তা বাহিনী। পরিস্থিতির ওপর কঠোর নজরদারি রাখার পাশাপাশি মাইকযোগে জনগণকে ঘর থেকে না বেরনোর আহ্বান জানানো হচ্ছে।

এদিকে চূড়াচাঁদপুর ডিস্ট্ৰিক্ট ম্যাজিস্ট্রেট ধরুন কুমার এস এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘গতরাতে সংঘর্ষের ফলে উভয় পক্ষই উল্লেখযোগ্যভাবে দুর্ভোগের সম্মুখীন হয়েছে। আমাদের এলাকায় শান্তি পুনরুদ্ধার এবং আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখা জরুরি প্রয়োজন।’

সকল অংশকে আর কোনও সহিংসতায় জড়িত না হওয়ার আহ্বান জানিয়ে জেলাশাসক ধরুন কুমার এস বলেন, ‘কোনও ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার অনুমতি দেওয়া হবে না। এ ধরনের যে কোনও পদক্ষেপের বিরুদ্ধ কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ তিনি সকলকে কর্তৃপক্ষের সাথে সহযোগিতা করা এবং যে কোনও সন্দেহজনক কার্যকলাপ দেখলে বা আঁচ করলে স্থানীয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলিকে জানানোর আহ্বান জানান। শান্তিপূর্ণভাবে সমস্যা সমাধানের জন্য জেলা প্রশাসন এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সাথে আলোচনায় অংশ নিতে সব পক্ষের নেতাদের আহ্বান জানান জেলাশাসক ধরুন কুমার।

অন্যদিকে গতকাল গভীর রাতে সংঘটিত ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় জোমি স্টুডেন্টস ফেডারেশন তাৎক্ষণিকভাবে জেলায় বনধ-এর ডাক দিয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *