আগরতলা, ৮ মার্চ: ইচ্ছাশক্তি ও পরিশ্রম থাকলে সাফল্য নিশ্চিত—এর উজ্জ্বল উদাহরণ রৌয়া গ্রামের প্রতিমা দেবনাথ।আজ আন্তর্জাতিক নারী দিবসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির “লাখপতি দিদি” প্রকল্পের ঘোষণা অনেক মহিলার মুখে হাসি ফুটিয়েছে। এই বিশেষ দিনে প্রতিমা দেবনাথ তাঁর জীবনের সংগ্রাম ও সাফল্যের গল্প ভাগ করে নিলেন।
উত্তর ত্রিপুরার পানিসাগর মহকুমার রৌয়া গ্রামের তিন নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা প্রতিমা দেবনাথ ২০১০ সালে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। তাঁর স্বামী হরিধন দেবনাথ, এক পুত্রসন্তান ও শাশুড়িকে নিয়ে তাঁর ছোট্ট সংসার। সংসারের স্বচ্ছলতার কথা ভেবে তিনি ২০১৬ সালে “উমা” স্ব-সহায়ক দলে (SHG) যোগ দেন।
প্রথমে পাঁচ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে সুপারি ব্যবসা শুরু করেন প্রতিমা। দামছড়া, কাঞ্চনপুর, পেচারথল ও জলেবাসা এলাকা থেকে তিনি সুপারি সংগ্রহ করতেন এবং তা রোদে শুকিয়ে স্থানীয় বাজারে বিক্রি করতেন। সময়ের সঙ্গে ব্যবসার কৌশল রপ্ত করে তিনি সুপারি প্রক্রিয়াকরণ সম্পর্কে আরও জানতে পারেন এবং বর্তমানে তিনটি প্রধান ধরনের প্রসেসিং করেন—রটা, লালি ও টাটি। এর মধ্যে তাম্বুল নামক বিশেষ প্রজাতির সুপারির চাহিদা মিজোরাম ও মেঘালয়ে অত্যন্ত বেশি। এছাড়া রটা ও লালির প্রচুর চাহিদা রয়েছে, যা গুটকা ও বিখ্যাত টুথপেস্ট কোম্পানির উপাদান হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
বর্তমানে প্রতিমা ছয় লক্ষ টাকা ঋণ নিয়ে ব্যবসা আরও প্রসারিত করেছেন। তাঁর কাছে বর্তমানে ১৫ থেকে ২০ লক্ষ টাকার সুপারি মজুত রয়েছে। প্রতি মাসে তিনি স্ব-সহায়ক দলকে নয় হাজার টাকা করে ঋণের কিস্তি পরিশোধ করেন। ব্যবসার ব্যস্ত সময় অর্থাৎ ভাদ্র মাস থেকে পৌষ মাস পর্যন্ত তাঁর কর্মশালায় প্রায় ১০০ জন মহিলা ও ১০ জন পুরুষ কাজ করেন। কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে পেরে তিনি অত্যন্ত আনন্দিত।
প্রতিমা দেবনাথ দেশের প্রধানমন্ত্রীকে কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, “লাখপতি দিদি প্রকল্প আমাদের মতো মহিলাদের স্বাবলম্বী হতে সাহায্য করেছে। আমি গর্বিত যে আমার সাফল্যের সঙ্গে আরও অনেকের জীবিকা জড়িয়ে আছে।”
প্রতিমার এই সাফল্যের কাহিনি প্রমাণ করে যে, সংকল্প আর কঠোর পরিশ্রম থাকলে যেকোনো নারীই আত্মনির্ভর হতে পারেন এবং সমাজে দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারেন।

