আগরতলা, ২৭ ফেব্রুয়ারি : পণের দাবিতে এক গৃহবধূকে পুড়িয়ে মারার অভিযোগ উঠেছে। মৃতার নাম তানিয়া নমঃ, যিনি দীর্ঘদিন ধরে স্বামী ও শ্বাশুড়ির হাতে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার ছিলেন বলে অভিযোগ। মৃতার বাবা শান্তি নমঃ জানান, বিয়ের পর থেকেই তার মেয়েকে পণের জন্য নির্যাতন করা হচ্ছিল। একাধিকবার মেয়ের শ্বাশুড়ি তাকে মারধর করেছিল এবং পণের টাকার জন্য চাপ দিত।
প্রথমে বিষয়টি পঞ্চায়েতের মাধ্যমে মীমাংসা করা হলেও, তারপরে পুনরায় টাকার দাবিতে তানিয়াকে নির্যাতন করা হতে থাকে। এ সম্পর্কিত অভিযোগে পঞ্চায়েতের পক্ষ থেকে বিচার হলেও কিছুতেই তা থামেনি।
জানা গেছে, গত শুক্রবার দুপুরে তানিয়ার গায়ে আগুন লাগিয়ে দেয় তার মদ্যপ স্বামী এবং শ্বাশুড়ি। অর্ধমৃত অবস্থায় তাকে জিবি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। মৃত্যুর আগের রাতে তানিয়ার বাবা শান্তি নমঃ’র জামাতা কৃষ্ণ দেবনাথ ফোন করে এই খবর জানান। পরবর্তীতে গৃহবধূটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।
এদিকে, তানিয়ার মৃত্যুর পর, তার বাবা সঠিক বিচার দাবি করেছেন। মৃতার পিতার অভিযোগ অনুযায়ী, এ ধরনের পণের কারণে গৃহবধূদের উপর অত্যাচার যেন আর না হয় এর জন্য প্রশাসনের কাছে এই ঘটনার সঠিক বিচার এবং অভিযুক্তদের শাস্তির দাবি করেছেন তিনি।
এছাড়া, সিপিআইএমএল আজ পূর্ব মহিলা থানায় একটি ডেপুটেশন প্রদান করেছে। তারা দাবি করছে, রাজ্যের বিভিন্ন স্থানে পণের জন্য গৃহবধূদের উপর নির্যাতন বাড়ছে এবং এই পরিস্থিতি প্রতিরোধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।

