তেলিয়ামুড়া, ১৫ ডিসেম্বর : এলাকায় হাতির আক্রমণ রুখতে শুধু প্রতিশ্রুতি দিলে হবে না, অনতিবিলম্বে প্রশাসনকে কার্যকরী এবং বলিষ্ঠ পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। শনিবার রাতে উত্তর কৃষ্ণপুর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় বন্যহাতি তাণ্ডবের পরিপ্রেক্ষিতে এমনটাই দাবি এলাকার দলমত নির্বিশেষে সকল অংশের।
ঘটনার বিবরণে জানা গেছে, শনিবার শেষ রাতে উত্তর কৃষ্ণপুর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় বন্যহাতি তাণ্ডবে একাধিক প্রান্তিক কৃষকের সব্জি ক্ষেতগুলো প্রায় ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।
প্রসঙ্গত, কৃষ্ণপুর বিধানসভা এলাকার বিভিন্ন অঞ্চলে বন্য হাতির আক্রমণ নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা। স্বাভাবিকভাবেই আতঙ্কে দিন কাটাতে হচ্ছে হাতির আক্রমণ আক্রান্ত বিভিন্ন এলাকার সাধারণ জনগণকে। এছাড়াও একাধিক বাড়িতে হাতি রাতের আঁধারে আক্রমণ সংঘটিত করে প্রচুর পরিমাণে ধান খেয়ে নষ্ট করার পাশাপাশি অন্যান্য বিভিন্ন সামগ্রীও ক্ষতি করেছে।
শনিবার রাতের ঘটনার পর এই বিষয়ে এলাকার একাধিক মানুষের সাথে কথা বলে জানা গেছে, বিগত প্রায় ১০ থেকে ১৫ বছর যাবত এই হাতির সমস্যা নিরন্তর ভাবে বেড়ে চলেছে।
তাদের কথায়, প্রশাসন থেকে একাধিকবার এই সমস্যার সমাধানের জন্য প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে কিন্তু বাস্তবিক অর্থে কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না। একই এলাকার মিন্টু ভৌমিকের দু-দুটি গবাদি পশু প্রায় বছর খানেক আগে হাতির আক্রমণের শিকার হয়ে মৃত্যু মুখে পতিত হওয়ার পর এলাকার বিধায়ক তথা রাজ্যের জনজাতি কল্যাণ দপ্তরের মন্ত্রী বিকাশ দেববর্মার উপস্থিতিতে বন দপ্তরের কর্তারা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ব্যাপারে ঘোষণা করেছিলেন। তবে ক্ষতিগ্রস্ত মিন্টু বাবুর দাবি হচ্ছে, প্রায় এক বছর হতে চললেও শুধু আশ্বাস মিলেছে, ক্ষতিপূরণ এখনো পান’নি।
সংবাদ প্রতিনিধিদের মাধ্যমে এলাকার জনগণ দাবি জানান, হাতির আক্রমণে হওয়া ক্ষতি রুখতে শুধু প্রতিশ্রুতি দিলে হবে না, বরং অনতিবিলম্বে প্রশাসনকে কার্যকরী এবং বলিষ্ঠ পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।