নয়াদিল্লি, ৯ ডিসেম্বর (হি.স.): আংশিক কেন্দ্রীয় বাহিনীর তত্ত্বাবধানে, পূর্ব নির্ধারিত তারিখেই হবে কন্টাই কো-অপারেটিভ ব্যাঙ্কের নির্বাচন। সোমবার এই নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি সূর্যকান্তর ডিভিশন বেঞ্চ। আদালতের নির্দেশ, বুথগুলির নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার জন্য বুথে থাকবে সিসিটিভি ক্যামেরাও।
উল্লেখ্য, প্রায় তিন বছর কাঁথি কো-অপারেটিভ ব্যাঙ্কে পরিচালন কমিটি নেই। স্পেশাল অফিসার নিয়োগ করেই আপাতত ব্যাঙ্ক চলছে। এই অবস্থায় ব্যাঙ্কে পরিচালন কমিটি গঠনের জন্য ভোটের দাবিতে কলকাতা হাই কোর্টে মামলা হয়। সেই মামলায় উচ্চ আদালত ভোট করার জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেয়।
আগামী ১৫ ডিসেম্বর কাঁথি কো-অপারেটিভ ব্যাঙ্কে ভোটাভুটি। সমবায় দফতরকে এর জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতেও নির্দেশ দেওয়া হয়। ভোটার তালিকা প্রকাশ থেকে ভোটের বিজ্ঞপ্তি-সবটাই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে করার নির্দেশ ছিল। সেইমতো সমবায় দফতর রিটার্নিং অফিসার এবং অ্যাসিস্ট্যান্ট রিটার্নিং অফিসার নিয়োগ করে যাবতীয় প্রস্তুতি সেরে ফেলেছে.
ব্যাঙ্কের ১০৮টি আসনের প্রতিনিধি নির্বাচন হওয়ার কথা ১৪টি নির্বাচনী কেন্দ্রে। ওই দিনই ভোট গণনা হওয়ার কথা। কাঁথির তিনটি স্কুলে পাঁচটি বুথ করার কথা ভাবা হয়। কিন্তু পরীক্ষা চলার কারণে নির্বাচন এবং গণনার জন্য বিভিন্ন স্কুল কর্তৃপক্ষ সেখানে ভোটকেন্দ্র খুলতে দিচ্ছিলেন না।
ওইদিন সর্বভারতীয় স্তরের পরীক্ষা রয়েছে। ওই তিনটি স্কুল পরীক্ষাকেন্দ্র হওয়ায় নির্বাচনের কাজে ব্যবহার করা যাবে না। তার পরিবর্তে ওই ভোটগ্রহণ কেন্দ্রগুলি থেকে যথাক্রমে ৫০ মিটার, ১০০ মিটার, ৮০০ মিটার, ৩ কিলোমিটার ও ৭ কিলোমিটার দূরে পাঁচটি বুথ করার কথা হয়। এই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে এগরার প্রাক্তন পুরপ্রধান শঙ্কর বেরা সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেন।
স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছিল, এ বারেও কি আইনি জটে আটকে যাবে কন্টাই কো-অপারেটিভ ব্যাঙ্কের নির্বাচন? কিন্তু এ দিন সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে সেই জট কাটল।
সবপক্ষের সওয়াল জবাব শুনে আদালতের নির্দেশ, ভোটের দিন রাজ্য সরকার এবং সমবায় নির্বাচন দফতরকে নতুন ভোটগ্রহণ কেন্দ্রে যাতায়াতের জন্য পরিবহণের যথোপযুক্ত ব্যবস্থা করতে হবে। দ্বিতীয়ত, সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচনের জন্য ওই পাঁচটি ভোটগ্রহণ কেন্দ্রে আধা সামরিক বাহিনী মোতায়েন করতে হবে। তৃতীয়ত, প্রত্যেকটি বুথে সিসি ক্যামেরার বন্দোবস্তও করতে হবে।
লোকসভা এবং বিধানসভা নির্বাচনের নিরাপত্তায় বাংলায় কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন হয়েই থাকে। তবে সমবায় নির্বাচনে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের নির্দেশ যে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ, সে বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই।

