কলকাতা, ২৩ অক্টোবর (হি.স.): প্রতিবাদী ও অভিযুক্ত পুলিশকর্তা পঙ্কজ দত্তর অসুস্থতা নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে মন্তব্য করলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।
বুধবার শুভেন্দুবাবু লিখেছেন, “রিটায়ার্ড আই. জি, ৭৩ বছর বয়সি অতি পরিচিত প্রতিবাদী মুখ, বিশিষ্ট ভদ্রলোক শ্রী পঙ্কজ দত্ত গুরুতর অসুস্থ হয়ে অচেতন অবস্থায় বেনারসের একটি হাসপাতালে বর্তমানে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন।
একটি মিথ্যা ও ভুল মামলায় তাকে সম্প্রতি ফাঁসানো হয় কারণ তিনি প্রতিবাদী। আর এই রাজ্যে প্রতিবাদীদের সাথে কি ধরণের আচরণ করা হয় তা রাজ্যের মানুষ জানেন। মামলার কারণে তিনি কলকাতার বড়তলা থানায় গেলে তাকে অনর্থক পুলিশের হেনস্থার সম্মুখীন হতে হয়। তিনি যে একজন প্রাক্তন পুলিশ কর্তা এবং দীর্ঘদিন আইন শৃঙ্খলা রক্ষায় কাজ করেছেন সেটিও বর্তমানে রাজ্যের দলদাস প্রশাসন ভুলে গিয়েছে। পঙ্কজ বাবুকে শুধু হেনস্থাই নয় স্থানীয়দের ভুল বুঝিয়ে তাঁদের বিক্ষোভের মুখে তাঁকে ঠেলে দেওয়া হয়, তাঁকে জুতোর মালা পর্যন্ত পরানোর চেষ্টা হয়। দীর্ঘ ছ ঘন্টার ওপর তাঁকে চুড়ান্ত অপমান ও হেনস্থা করা হয়, শুধু তাই নয় তাঁকে একটু জল পর্যন্ত দেওয়া হয় নি এবং তার তাঁর আইনজীবীদের ও অপমান করতে ছাড়া হয় নি। এই অসম্মান তিনি মেনে নিতে পারেন নি এবং দুদিন আগে তিনি তার আত্মীয়ের কাছে বেনারসে যান এবং সেখানেই তিনি অসুস্থ হয়ে জ্ঞান হারান। বর্তমানে বেনারসের একটি হাসপাতালে উনি চিকিৎসাধীন এবং চেষ্টা করা হচ্ছে এয়ার অ্যাম্বুল্যান্স-এ করে যাতে ওনাকে দ্রুত কলকাতায় আনা সম্ভব হয়।
পরম করুনাময় ঈশ্বরের কাছে আমি প্রার্থনা করি সম্মানীয় পঙ্কজ বাবু দ্রুত সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরুন। একই সাথে কলকাতার বড়তলা থানার এই ধরনের ঘৃণ্য আচরণের আমি তীব্র নিন্দা করছি।”
প্রসঙ্গত, আর জি কর কাণ্ডের প্রতিবাদে সম্প্রতি প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানকার অন্যতম বক্তা ছিলেন প্রাক্তন পুলিশ অফিসার পঙ্কজ দত্ত। সেখানেই তিনি যৌনকর্মীদের কথা সরাসরি উল্লেখ না করলেও ‘সোনাগাছি’ শব্দটি উল্লেখ করেন। অসাংবিধানিক শব্দ ব্যবহারের অভিযোগেঅবসরপ্রাপ্ত আইপিএস অফিসার পঙ্কজ দত্তের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ৭৯ /৩৫২ ধারায় সম্প্রতি মামলা হয় বড়তলা থানায়। হাইকোর্টে খারিজ হয় তাঁর জামিনের আর্জি। রক্ষাকবচ চেয়ে কলকাতা হাইকোর্টের সিঙ্গেল বেঞ্চের দ্বারস্থ হয়েছিলেন পঙ্কজ দত্ত। সাড়া মেলেনি। বিচারপতি রাজর্ষি ভরদ্বাজ পঙ্কজ দত্তর রক্ষাকবচের আর্জি খারিজ করেন। এরপর প্রধান বিচারপতির বেঞ্চের দ্বারস্থ হন পঙ্কজবাবু। তাতেও লাভ হয়নি।

