এমপক্সের বিরুদ্ধে ভারত : রোগের বিরুদ্ধে প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ সরকারের

এ বছরের অগাস্টের মাঝামাঝি নাগাদ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু) আফ্রিকার বেশ কয়েকটি অংশে এমপক্স (মাঙ্কি পক্স)-এর প্রাদুর্ভাব নিয়ে জরুরি সতর্কতা জারি করে।

হু-র তথ্য অনুসারে, জানুয়ারি, ২০২২ থেকে ৩১ জুলাই, ২০২৪ পর্যন্ত বিশ্বের ১২১টি দেশে মোট ১,০৩,০৪৮ জন এই রোগে আক্রান্ত হয়েছেন এবং ২২৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৪ পর্যন্ত আফ্রিকার ১৫টি দেশে ৩,৯০০ জনের দেহে এই রোগের জীবাণু মিলেছে। এ বছর কঙ্গো প্রজাতন্ত্র, বুরুন্ডি এবং নাইজেরিয়া – এই ৩টি দেশে সবচেয়ে বেশি সংক্রমণ হয়েছে।
২০২২ থেকে ভারতে এ পর্যন্ত ৩০ জন একপক্সে আক্রান্ত হওয়ার খবর মিলেছে। রোগ প্রতিরোধে বিভিন্ন ধরনের সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

এমপক্স একটি ভাইরাসজনিত রোগ, যার সঙ্গে স্মল পক্সের লক্ষণের মিল থাকলেও, তুলনামূলকভাবে কম ক্ষতিকারক। ২ থেকে ৪ সপ্তাহ পর্যন্ত এই রোগের জীবাণু থাকে। তবে, শিশুদের মধ্যে এই রোগ মারাত্মক আকার নেয়। আক্রান্ত ব্যক্তির সংষ্পর্শে এলে এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
রোগের বিপদ সম্পর্কে সচেতনতামূলক কর্মসূচির ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে,

১. আক্রান্ত ব্যক্তির ব্যবহৃত জিনিসপত্র (যেমন বিছানা, জামাকাপড়) এড়িয়ে চলা।
২. অন্যদের থেকে আক্রান্ত ব্যক্তিকে আলাদা রাখা।
৩. সাবান দিয়ে হাত ধোয়া, কিংবা স্যানিটাইজার ব্যবহার করা।
৪. যথাযথ ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জাম (পিপিই) ব্যবহার করা।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ১৮ অগাস্ট ২০২৪ তারিখে এমপক্স মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি এবং অন্যান্য ব্যবস্থা নিয়ে উচ্চ পর্যায়ের এক বৈঠক করেন। ইতিমধ্যে বেশকিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়্ছেে।

১২ অগাস্ট ২০২৪ তারিখে ন্যাশনাল সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল (এনসিডিসি)-এর বিশেষজ্ঞরা এক বৈঠক করেন। আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং বন্দরগুলিতে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত স্বাস্থ্য কর্মীদের নিযুক্ত করা হয়েছে।

এমপক্স সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে ডিরেক্টর জেনারেল অফ হেলথ সার্ভিসেস এক ভিডিও কনফারেন্স করেন এবং সেখানে ২০০ জনের বেশি অংশ নেন।

১৬ অগাস্ট ২০২৪ তারিখে যৌথ নজরদারি গোষ্ঠীর এক বৈঠক হয়। এই বৈঠকে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ক্ষেত্রের সঙ্গে যুক্ত বিশেষজ্ঞরা যোগ দেন। বৈঠকে রোগ নির্ণয়ের ক্ষেত্রে নজরদারি ব্যবস্থা জোরদার করা এবং কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। বর্তমানে এমপক্স চিহ্নিতকরণের জন্য ৩৫টি ল্যাবরেটরি চালু করা হয়েছে।

ভারত এমপক্সের বিরুদ্ধে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে, বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে পরামর্শ, নজরদারি বাড়ানো এবং সচেতনতামূলক প্রচারাভিযান চালানো।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *