নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ৮ সেপ্টেম্বর: বন্ধুর সরলতার সুযোগে বন্ধুর জমি জালিয়াতি করে দখলের চেষ্টা করল অপর এক বন্ধু। শেষ পর্যন্ত অসহায় বন্ধু সদর অতিরিক্ত জেলাশাসক এবং ডিসিএম এর দ্বারস্থ হয় এবং অভিযুক্ত বন্ধুর কঠোর শাস্তির দাবি রাখেন। ঘটনা আমতলী থানাধীন চারিপাড়া পল্যাণপাড়া এলাকায়।
ঘটনার বিবরণে জানা যায় চারিপাড়া পল্যাণ পাড়া এলাকায় জ্যোতিলাল সরকারের দুটি প্লটে ১২ গন্ডা জায়গা রয়েছে। সেই জায়গার মধ্যে স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে ছিল জ্যোতি লাল সরকার এবং তার পরিবার। এমনকি তার যে দুইটি প্লটে ১২ গণ্ডা জায়গা রয়েছে বৈধ দলিলপত্র রয়েছে ১৯৯০ সালে সেই দলিলপত্র তিনি বের করে নেন। দীর্ঘদিন যাবত সেই জায়গার মধ্যে জ্যোতিলাল সরকার তার স্ত্রী এবং তার ছেলে রিপন সরকার বসবাস করে আসছে।
২০১৭ সালে অভাবের তাড়নায় জ্যোতিলাল সরকারের ছেলে রিপন সরকার মধ্যপ্রাচ্যের দুবাই চলে যাই। দুবাই যাওয়ার পূর্বে তার যত কাগজপত্র বের করার দায়িত্ব দিয়েছিল তার এক বন্ধু মুহুরী দিমান বিশ্বাসের কাছে। এমনকি সব কাগজপত্র বের করেও দিয়েছিল। একটা সময় রিপন সরকার যখন মধ্যপ্রাচ্যে চলে যাই যাওয়ার পূর্বে তার বাড়ির সমস্ত কাগজপত্র বন্ধু হিসেবে পরিচিত ধীমান বিশ্বাসের কাছে দিয়ে চলে যাই। কারণ তার বাবা ওই সময় ছিল অসুস্থ। তারই মধ্যে ২০২২ সালে জ্যোতিলাল সরকারের মৃত্যু হয়।
আর এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ধীমান বিশ্বাস তার যে জায়গা রয়েছে ১২ গন্ডা জালিয়াতি করে ধীমান বিশ্বাসের বাবা মধুসূদন বিশ্বাসের নামে করে নেওয়ার চেষ্টা করে। এমনকি ভুয়া দলিল বের করে নেয়। কিন্তু রিপন সরকার তা কিছুই বুঝে উঠতে পারেনি। পরবর্তী সময়ে রিপন সরকার ২০২৪ সালে যখন বাড়িতে চলে আসে তার জায়গা সঠিক রয়েছে কিনা বাধারঘাট তহসিল কাছারিতে গিয়ে যাচাই করে আসে এবং বাড়িতে একটি ঘর তোলার পরিকল্পনা নেয়।
সেখানে গিয়ে দেখতে পায় তার বাড়ির জায়গা ধীমান বিশ্বাস ভুয়া দলিলপত্র বের করে দখলের চেষ্টা চালায়। পরবর্তী সময়ে রিপন সরকার বিভিন্ন জায়গায় দৌড়াদৌড়ি করতে শুরু করে প্রথমে বাধারঘাট তহশীল কাচারী, রেজিস্ট্রিঅফিস, ডিসিএম অফিস পরবর্তী সময়ে এসডিএম অফিস এবং তার পরে ডিএম অফিস গিয়ে তদন্ত চালায়।
কিন্তু দেখা যায় বন্ধুর সরলতার সুযোগ লাগিয়ে ধীমান বিশ্বাস তার সেই জায়গাটি তার বাবা মধুসূদন বিশ্বাসের নামে জালিয়াতি করে ভুয়া দলিল বের করে নিয়েছে। এদিকে রিপন সরকার সেই ঘটনা জানতে পেরে চক্ষু যেন চরক গাছ হয়ে ওঠে। একটা সময় আইনের আশ্রয় নেয় এবং অভিযুক্ত ভুয়া মুহুরী ধীমান বিশ্বাসের কঠোর শাস্তি দাবি রাখে। পাশাপাশি তার সাথে যে প্রতারণা করেছে তার বন্ধু ধীমান বিশ্বাস তার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি রাখে।
এদিকে এলাকার জনগণের কাছ থেকে জানা যায় মুহুরী ধীমান বিশ্বাস অনেকের সাথে এমন প্রতারণা করেছেন। তার সাথে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিচ্ছে বাধারঘাট তহসিলদার কৃষ্ণ মজুমদার। এদিকে রিমন সরকারের সরলতার সুযোগ নিয়ে তার ১২ গন্ডা জায়গা বলপূর্বক দখলের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। যদিও রিপন সরকারের হাতে সম্পূর্ণ বৈধ দলিলপত্র রয়েছে। অন্যদিকে আরো প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে সম্পূর্ণ বৈধ দলিলপত্র রিপন সরকারের কাছে থাকার পরেও কি করে ভুয়া দলিলপত্র বের করে নিল ওই ব্যক্তি। ঘটনার সঠিক তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।