শান্তিনিকেতন মেডিকেল কলেজ ইস্যুতে তপ্ত বিধানসভা, যৌথ কমিটির প্রস্তাব বিরোধীদের, খারিজ হওয়ায় ওয়াকআউট

আগরতলা, ৬ সেপ্টেম্বর : শান্তিনিকেতন মেডিকেল কলেজ ইস্যুতে আজ বিধানসভা অধিবেশনে বিরোধীরা মুখ্যমন্ত্রীর অজ্ঞাতসারে নানা অনিয়ম হয়েছে, এই অভিযোগ এনে রাজ্য সরকারকে রীতিমতো চেপে ধরেছিলেন। বিধায়কদের যৌথ কমিটি গঠন করে তদন্তক্রমে সমস্ত অনিয়ম খুঁজে বের করা হোক বিরোধীরা প্রস্তাব দিয়েছিলেন। কিন্তু, ওই প্রস্তাব গুরুত্ব পায়নি। তাই, অধিবেশনের দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই বিরোধীরা ওই কমিটি গঠনের দাবিতে সোচ্চার হন। পরিশেষে অধিবেশন ওয়াকআউট করে তাঁরা বেরিয়ে যান। ওই ঘটনায় কিছু সময়ের জন্য বিধানসভা অধিবেশন উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল।

আজ বিধানসভায় কংগ্রেস বিধায়ক সুদীপ রায় বর্মন শান্তিনিকেতন মেডিকেল কলেজকে আইজিএম হাসপাতাল শিক্ষণ হাসপাতাল হিসেবে ব্যবহারে রাজ্য সরকারের অনুমতির প্রসঙ্গে দৃষ্টি আকর্ষণী নোটিশ আনেন। ওই নোটিশের জবাবে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, রাজ্য সরকারের মেডিকেল কলেজ স্থাপনের সীমাবদ্ধতার কারণে ভারত সরকার বেসরকারি খাতে মেডিকেল কলেজ স্থাপনকে উৎসাহিত করছে। যার জন্য বিদ্যমান সরকারি হাসপাতালগুলোকে শিক্ষণ হাসপাতাল হিসাবে ব্যবহার করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, ১৯৯৯ সালের মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠার নিয়মাবলী ধারা ২(৫) এবং ন্যাশনাল মেডিকেল কমিশনের ২০২৩ সালের নতুন মেডিকেল প্রতিষ্ঠান স্থাপন, নতুন কোর্স চালু করা এবং আসন সংখ্যা বৃদ্ধি সম্পর্কিত নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, যথাযথ সরকার কোনো ব্যক্তি/সংস্থা/ট্রাস্ট/সমিতি/প্রতিষ্ঠানের সাথে চুক্তির মাধ্যমে সরকারি হাসপাতালে শিক্ষণ হাসপাতাল হিসাবে ব্যবহারের অনুমতি দিতে পারে। এই নিয়মের অধীনে ভারত সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় দেশের বিভিন্ন স্থানে ১৫৭টি নতুন মেডিকেল কলেজ স্থাপনের অনুমোদন দিয়েছে, যার মধ্যে উত্তর প্রদেশে ২৭টি মেডিকেল কলেজ রয়েছে।

তিনি সরকারি হাসপাতালগুলোকে শিক্ষণ কাজে ব্যবহার করা হয়েছে এমন কয়েকটি বেসরকারি মেডিকেল কলেজের উদাহরণ তুলে জানান, কস্তুরবা মেডিকেল কলেজ, মেঙ্গালোর কিলপোক সরকারি হাসপাতালের একটি অংশ ব্যবহার করছে। সিন্ধুদুর্গ শিকশন প্রসারক মণ্ডল মেডিকেল কলেজ, মহারাষ্ট্র সিন্ধুদুর্গ সরকারি হাসপাতালের একটি অংশ ব্যবহার করছে। জে.জে.এম. মেডিকেল কলেজ, দাভাঙ্গেরে চিগাতেরি জেনারেল হাসপাতাল এবং ডঃ ডি.ওয়াই পাতিল মেডিকেল কলেজ, পিম্পরি, পুনে ইয়শওয়ন্ত্রাও চহ্বাণ মেমোরিয়াল হাসপাতালের সাথে সমঝোতা চুক্তি করেছে। সাথে তিনি যোগ করেন, শান্তিনিকেতন মেডিকেল কলেজ, বোলপুর, পশ্চিমবঙ্গ বলপুর সাব-ডিভিশনাল হাসপাতালের সাথে চুক্তি করেছে। কেরালা রাজ্য সরকার বেসরকারি মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীদের সরকারি মেডিকেল কলেজে পোস্টমর্টেম দেখার অনুমতি দিয়েছে। আগরতলায় আইএলএস হাসপাতালকে বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা সুবিধা প্রদানের জন্য সরকারী জমি ভর্তুকিমূল্যে দেওয়া হয়েছে।

তিনি উদাহরণ থেকে স্পষ্ট করে দেন, সরকারি হাসপাতালগুলোকে শিক্ষণ এবং প্রশিক্ষণ কাজে ব্যবহার করা একটি সাধারণ নিয়ম। আগের বছরগুলোতে ত্রিপুরা সরকার ২০০৬ সালে ত্রিপুরা মেডিকেল কলেজ (টিএমসি) স্থাপনের জন্য ব্রি. বি.আর. আম্বেদকর মেমোরিয়াল হাসপাতালকে (তখনকার জেলা হাসপাতাল) গ্লোবাল এডুকেশনাল ট্রাস্টকে শিক্ষণ হাসপাতাল হিসাবে ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছিল। পরবর্তীতে, ত্রিপুরা সরকার টিএমসি শিক্ষার্থীদের জন্য ময়নাতদন্ত পর্যবেক্ষণ এবং অন্যান্য মেডিকো-লিগ্যাল কাজ করার উদ্দেশ্যে এজিএমসি মর্গ কমপ্লেক্স ব্যবহারের অনুমতি দেয়। এছাড়াও, রাজ্য সরকার বেসরকারি ফার্মাসি, নার্সিং এবং প্যারামেডিক্যাল কলেজগুলোকে সরকারের হাসপাতালের সুবিধাগুলো ব্যবহার করার অনুমতি দেয় (যেমন এজিএমসি, ইন্দিরা গান্ধী মেমোরিয়াল হাসপাতাল, জেলা হাসপাতাল) শিক্ষণ হাসপাতাল হিসাবে শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণের জন্য, যেখানে একটি নির্দিষ্ট “ইউজার ডেভেলপমেন্ট ফি প্রদান করতে হয় যা সরকার দ্বারা নির্ধারিত।

তাঁর কথায়, ত্রিপুরার কিছু বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ত্রিপুরা ইনস্টিটিউট অফ প্যারামেডিক্যাল সায়েন্সেস, ভারত ফার্মাসিউটিক্যাল টেকনোলজি, ভবনস ত্রিপুরা কলেজ অফ সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি ইনস্টিটিউট অফ নার্সিং সায়েন্সেস, ত্রিপুরা সুন্দরি কলেজ অফ নার্সিং, নর্থ ইস্ট ইনস্টিটিউট অফ নার্সিং সায়েন্সেস এবং আইএলএস নার্সিং ইনস্টিটিউট এই সব বেসরকারি কলেজগুলো ত্রিপুরার বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালের সুবিধাগুলো ব্যবহার করছে শিক্ষণ এবং প্রশিক্ষণের উদ্দেশ্যে।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এখন, ‘স্বাধীন ট্রাস্ট’ যা কলকাতার অ্যাডিশনাল রেজিস্টার অফ অ্যাসিওরেন্স-৩ এর অধীনে নিবন্ধিত এবং বোলপুর, পশ্চিমবঙ্গে একটি মেডিকেল কলেজ চালানোর অভিজ্ঞতা রয়েছে। তারা গত ১২ মার্চ ত্রিপুরার মেডিকেল এডুকেশন ডিরেক্টরের কাছে আবেদন জমা দিয়েছিল, যাতে ইন্দিরা গান্ধী মেমোরিয়াল হাসপাতালের কিছু অংশ একটি গ্রামীণ স্বাস্থ্য প্রশিক্ষণ কেন্দ্র এবং একটি নগর স্বাস্থ্য প্রশিক্ষণ কেন্দ্রকে শিক্ষণ ও প্রশিক্ষণের জন্য ব্যবহারের অনুমতি চাওয়া হয়। ট্রাস্ট উল্লেখ করেছে যে তারা পশ্চিম ত্রিপুরার রানিরখামার মধুবন এলাকায় ২০.৪০ একর জমি কিনেছে যেখানে তারা ‘ত্রিপুরা শান্তিনিকেতন মেডিকেল কলেজ’ নামক একটি মেডিকেল কলেজ শুরু করার পরিকল্পনা করেছে।

মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, সিনিয়র অফিসারদের একটি দল গত ১৩ মার্চ রানিরখামার, মধুবন, আগরতলা তে ত্রিপুরা শান্তিনিকেতন মেডিকেল কলেজের প্রস্তাবিত স্থান পরিদর্শন করেন এবং দেখেন যে স্বাধীন ট্রাস্ট ইতিমধ্যে মেডিকেল কলেজ, হোস্টেল এবং তাদের নিজস্ব ৫০০ শয্যার হাসপাতালের নির্মাণকাজ শুরু করেছে যা আগামী এক বছরের মধ্যে সম্পন্ন হবে বলে আশা করা হচ্ছে। তারা আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে ১,০০০ শয্যার একটি মাল্টিস্পেশালিটি হাসপাতাল সম্পূর্ণ করার পরিকল্পনা করেছে। সম্প্রতি তারা ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে ত্রিপুরা শান্তিনিকেতন মেডিকেল কলেজে (টিএসএমসি)-এ বহির্বিভাগীয় পরিষেবা (ওপিডি) শুরু করেছে।

তিনি বলেন, স্বাস্থ্য বিভাগ স্বাধীন ট্রাস্টের নিবন্ধন সম্পর্কিত সমস্ত নথি এবং ন্যাশনাল মেডিকেল কমিশনের মান অনুযায়ী একটি মেডিকেল কলেজ স্থাপনের যোগ্যতা যাচাই করেছে এবং আইন বিভাগের মতামতও সংগ্রহ করেছে। ন্যাশনাল মেডিকেল কমিশন গত ২৯ জুন প্রস্তাবিত ত্রিপুরা শাস্তিনিকেতন মেডিকেল কলেজ এবং শিক্ষণ হাসপাতালের সুবিধা পরিদর্শন করার পর, ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষ থেকে ১৫০টি এমবিবিএস আসনে ভর্তি করার ‘অনুমতি’ প্রদান করেছে। ত্রিপুরা বিশ্ববিদ্যালয় (একটি কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়) ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষ থেকে এমবিবিএস ভর্তি প্রক্রিয়া শুরু করার জন্য ত্রিপুরা শান্তিনিকেতন মেডিকেল কলেজকে সম্মতি’ দিয়েছে।

তাঁর দাবি, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ বিভাগ, ত্রিপুরা সরকার, স্বাধীন ট্রাস্টের আবেদনের বিষয়টি ভারত সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের নীতি অনুযায়ী বিবেচনা করেছে এবং ন্যাশনাল মেডিকেল কমিশন দ্বারা নির্ধারিত ‘প্রয়োজনীয়তা শংসাপত্র’ ২৭ জুন স্বাধীন ট্রাস্টকে নিম্নলিখিত শর্ত সাপেক্ষে জারি করেছে। শর্ত অনুযায়ী, ত্রিপুরা শান্তিনিকেতন মেডিকেল কলেজ শুধুমাত্র তাদের নিজস্ব হাসপাতালের নির্মাণকাজ সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত শিক্ষণ উদ্দেশ্যে ইন্দিরা গান্ধী মেমোরিয়াল হাসপাতালের কিছু অংশ ব্যবহার করবে। স্বাধীন ট্রাস্টকে পরীক্ষার হল, অতিরিক্ত শয্যা এবং প্রয়োজনীয় যে কোনো খরচ বহন করতে হবে। স্বাধীন ট্রাস্টকে প্রতি শিক্ষার্থীর জন্য বছরে ১০,০০০ টাকা ব্যবহার ফি ত্রিপুরা সরকারকে প্রদান করতে হবে। তারা আইজিএম হাসপাতালের একটি অংশ ব্যবহারের সময় কোনো ক্ষতির জন্য ২ কোটি টাকার ব্যাংক গ্যারান্টি জমা করবে।

শর্তে আরও বলা হয়েছে, ত্রিপুরা শান্তিনিকেতন মেডিকেল কলেজের ১৫০টি এমবিবিএস আসনের ৫০ শতাংশ অর্থাৎ ৭৫টি আসন ত্রিপুরা রাজ্যের স্থায়ী বাসিন্দাদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে। স্বাধীন ট্রাস্টকে প্রথম ৬ বছরে ত্রিপুরার রাজ্য কোটা/স্থায়ী বাসিন্দা ১০ (দশ) জন শিক্ষার্থীকে আগরতলা সরকারী মেডিকেল কলেজের টিউশন ফি হারের মতো হারে ভর্তি করতে হবে। স্বাধীন ট্রাস্ট শুধুমাত্র তাদের নিজস্ব শিক্ষকদের মাধ্যমে শিক্ষণ উদ্দেশ্যে আইজিএম হাসপাতালের সুবিধা ব্যবহার করবে, যেমন বেডসাইড গ্রুপ টিচিং, ডেমোন্সট্রেশন, ক্লিনিক্যাল ক্লাস ইত্যাদি। তারা আইজিএম হাসপাতালের বর্তমান প্রশাসনিক এবং রোগীর পরিষেবা কাজে হস্তক্ষেপ করবে না। কোনো ধরণের বিবাদের ক্ষেত্রে, ত্রিপুরা সরকার স্বাধীন ট্রাস্টের সাথে সমঝোতা চুক্তি বাতিল করার অধিকার সংরক্ষণ করে এবং ছয় মাসের নোটিশের মাধ্যমে তা কার্যকর করতে পারে। মুখ্যমন্ত্রী সাফ জানিয়েছেন, ইন্দিরা গান্ধী মেমোরিয়াল হাসপাতালকে শিক্ষণ উদ্দেশ্যে ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হলেও এটি হাসপাতালের ওপিডি বা কোনো স্বাস্থ্য পরিষেবাকে বাধাগ্রস্ত করবে না।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আমাদের অভিজ্ঞতা থেকে দেখা গেছে আগরতলা গভর্নমেন্ট মেডিকেল কলেজ যখন গোবিন্দ বল্লভ পন্ত হাসপাতালের একটি অংশ শিক্ষণ কাজে ব্যবহার করেছিল, তখন রোগী সেবার মান সাধারণ হাসপাতালের তুলনায় উন্নত ছিল। এর কিছু কারণ বর্ণনা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কথায়, শিক্ষণ হাসপাতালগুলোতে সকল বিশেষজ্ঞ বিভাগের উপস্থিতি থাকে, যা সাধারণ হাসপাতালে থাকে না। রোগীর শারীরিক পরীক্ষা, ল্যাব পরীক্ষা এবং রেডিওলজিক্যাল পরীক্ষা ন্যাশনাল মেডিকেল কমিশনের মান অনুযায়ী পরিচালিত হয়। প্রবীণ শিক্ষকবৃন্দ, যেমন অধ্যাপক, সহযোগী অধ্যাপক এবং সহকারী অধ্যাপকরা পরিষেবা প্রদান করেন। আন্তঃবিভাগীয় রেফারেল ব্যবস্থা এবং রোগীর ও চিকিৎসা রেকর্ডের বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে সংরক্ষণ করা হয়। জুনিয়র রেসিডেন্ট, সিনিয়র রেসিডেন্ট এবং পোস্ট-গ্র্যাজুয়েট শিক্ষার্থীরা হাসপাতালের প্রতিটি বিভাগ এবং ওয়ার্ডে ২৪ ঘন্টা উপস্থিত থাকেন। শিক্ষণ হাসপাতালে গবেষণা কার্যক্রম বাধ্যতামূলক থাকে।

তাঁর দাবি, ত্রিপুরা সরকার স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছে এবং চিকিৎসা শিক্ষা, বিশেষজ্ঞ ও সুপার-স্পেশালিস্ট সেবার সামগ্রিক উন্নয়নে বেশ কয়েকটি পদক্ষেপ নিয়েছে, যা রোগীদের রাজ্যের বাইরে রেফার করার প্রয়োজনীয়তা কমিয়ে দেবে। এই লক্ষ্য অর্জনের জন্য, ত্রিপুরা সরকার আগরতলা গভর্নমেন্ট মেডিকেল কলেজ এবং জিবি হাসপাতালের সুপার- স্পেশালিটি সেবাগুলোকে শক্তিশালী করেছে এবং ত্রিপুরার জনগণের জন্য অঙ্গ প্রতিস্থাপন সুবিধা চালু করেছে।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নের জন্য, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা দ্বারা নির্ধারিত ডাক্তারের সংখ্যা এবং জনসংখ্যার অনুপাত (১:১০০০) অর্জন করা অত্যাবশ্যক, যা বর্তমানে ত্রিপুরায় ১:৩৪৪৮। এই প্রেক্ষিতে, সরকার ন্যাশনাল মেডিকেল কমিশনে আগরতলা গভর্নমেন্ট মেডিকেল কলেজ এবং জিবি হাসপাতালের এমবিবিএস আসন সংখ্যা বৃদ্ধির আবেদন করেছে। সম্প্রতি আগরতলা গভর্নমেন্ট মেডিকেল কলেজের এমবিবিএস আসন সংখ্যা ১০০ থেকে ১৫০-তে বৃদ্ধি এবং পোস্ট-গ্র্যাজুয়েট আসন সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধির মাধ্যমে রাজ্য সরকারের অব্যাহত প্রচেষ্টা সফল হয়েছে। সুতরাং, ত্রিপুরায় একটি বেসরকারি মেডিকেল কলেজ স্থাপন রাজ্যের অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য বিনিয়োগ আকর্ষণ করবে। ত্রিপুরার শিক্ষার্থীদের চিকিৎসা শিক্ষায় সুযোগ বাড়াবে এবং দীর্ঘমেয়াদে রাজ্যের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার উন্নতি ঘটাবে।

মুখ্যমন্ত্রীর এই জবাব শুনে পুরোপুরি সন্তষ্ট হননি কংগ্রেস বিধায়ক সুদীপ রায় বর্মণ। তাঁর বক্তব্য, রাজ্য বিনিয়োগ আসবে, নতুন কলেজ স্থাপন হবে, তাতে আমাদের আপত্তি নেই। কিন্তু, শান্তিনিকেতন মেডিকেল কলেজের কর্ণধার মলয় পিট সিবিআইয়ের নিশানায় রয়েছেন। তিনি রাজ্য থেকে পাততারি গুটিয়ে পালিয়ে গেলে ওই কলেজ পরিচালনায় অর্থের সংস্থান রয়েছে কি, জানতে চেয়েছেন তিনি। তাঁর দাবি, শান্তিনিকেতন কলেজকে অনুমতি প্রদানে প্রচুর অনিয়ম হয়েছে। মন্ত্রিসভার অনুমোদন ছাড়াই এই কলেজকে অনুমতি দেওয়া সন্দেহ তৈরী করেছে।

সুদীপ বাবু মুখ্যমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে বলেন, আপনার নাম ভাঙিয়ে বহু অনিয়ম হচ্ছে। তাই বিধায়কদের যৌথ কমিটি ওই সমস্ত অনিয়মের তদন্ত করুক, মুখ্যমন্ত্রীর কাছে প্রস্তাব দিয়েছেন সুদীপ রায় বর্মণ। বিরোধী দলনেতা জিতেন্দ্র চৌধুরীও এদিন সুদীপের সুরেই সুর মিলিয়েছেন। তিনি বলেন, মার্চে গত অধিবেশনে শান্তিনিকেতন মেডিকেল কলেজ সম্পর্কে মুখ্যমন্ত্রী অবগত ছিলেন না। অথচ, ছয় মাসের মধ্যে ওই কলেজকে অনুমোদনে রাজ্য সরকার সমস্ত ব্যবস্থা করেছে। তাতে, জনমনে সন্দেহ দানা বেঁধেছে। তিনিও বিধায়কদের যৌথ কমিটি গঠনের প্রস্তাবকে সমর্থন দিয়েছেন।

বিরোধীদের প্রস্তাবে মুখ্যমন্ত্রী সরাসরি সম্মতি দেননি। তবে, বিধায়করা চাইলেই শান্তিনিকেতন কলেজে গিয়ে সমস্ত কিছুর খোঁজ খবর নিতে পারেন। তাঁর কটাক্ষ, বিনিয়োগ আনতে গেলে বিনিয়োগকারীদের ইডি কিংবা সিবিআইয়ের সার্টিফিকেট আনতে বলতে হবে। তাতে, বিনিয়োগকারীরা নিশ্চিত বিনিয়োগে উত্সাহ হারাবেন। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, স্বাধীন ট্রাস্টের গত তিন বছরের আর্থিক লেনদেন যাচাই করে দেখা হয়েছে। কলেজের অনুমোদন ন্যাশনাল মেডিকেল কমিশন দিয়েছে। তাঁরা সন্তষ্ট হয়েছে তাই শান্তিনিকেতন কলেজ অনুমোদন পেয়েছে। তবে, স্বাধীন ট্রাস্টের কর্ণধার সিবিএইয়ের নজরে অভিযুক্ত থাকলে প্রমাণ দিন, নিশ্চয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এইকথা বলে মুখ্যমন্ত্রী বক্তব্য শেষ করেন। অধ্যক্ষ অধিবেশনের প্রথমার্ধ মুলতুবির প্রক্রিয়া শুরু করেন। তখন বিরোধীরা যৌথ কমিটি গঠনের দাবিতে মুখ্যমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। কিন্তু অধ্যক্ষ অধিবেশন মুলতুবি ঘোষণা করেন। দ্বিতীয়ার্ধে অধিবেশন শুরু হতেই বিরোধীরা পুনরায় ওই কমিটি গঠনের দাবিতে সোচ্চার হন। কিন্তু, তাঁদের দাবি অগ্রাহ্য করে অধিবেশনের পরবর্তী কার্য শুরু করে দেন অধ্যক্ষ। তাতেই, বিরোধীরা চটে লাল হন এবং ওয়েলে নেমে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। এরপর তাঁরা ওয়াকআউট করেন।