গবেষণায়  স্বচ্ছ ভারত অভিযানের প্রভাব:  বছরে ৬০-৭০ হাজার শিশুর জীবন রক্ষা পাচ্ছে

নয়াদিল্লি, ৫ সেপ্টেম্বর : নেচার ম্যাগাজিনে প্রকাশিত এবং ইন্টারন্যাশনাল ফুড পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট, ইউনিভার্সিটি অফ ক্যালিফোর্নিয়া এবং ওহিও স্টেট ইউনিভার্সিটির গবেষকদের রচিত সাম্প্রতিক ও নতুন একটি গবেষণাপত্রে প্রকাশিত হয়েছে যে ভারতে উন্মুক্ত স্থানে মলত্যাগ নির্মূল করার ফলে, বছরে প্রায় ৬০-৭০ হাজার শিশুর মৃত্যু রোধে এক বড় অবদান রেখেছে।

এই গবেষণায় দেখা যায় যে, ইউপিএ-১ এর সময়কালে স্যানিটেশন বা স্বাস্থ্য বিধির সুবিধা সম্প্রসারণে ন্যূনতম অগ্রগতি হয়েছিল এবং এমনকি কিছু জেলাতে পরিচ্ছন্নতা এবং স্বাস্থ্যকর বিধি মেনে চলার সুবিধাই হ্রাস পেয়েছিল! 

ইউপিএ-১-এর সময় সামাজিক ব্যয় বরাদ্দ বৃদ্ধি পেয়েছিল বলে কংগ্রেসের যে দাবি তা ঠিক মেলে না । বরঞ্চ, এমনকি শৌচাগারের মতো মৌলিক সুবিধা প্রসারের হারও তখন হ্রাস পেয়েছে!

মোদী সরকারের সময়কালে, শৌচালয় এর সংখ্যা দারুণভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে এবং উন্মুক্ত স্থানে মলত্যাগ নির্মূল করা হয়েছে। নলবাহিত জল সরবরাহের কভারেজ ১৬% থেকে বেড়ে ৭৮% হয়েছে এবং ১১ কোটিরও বেশি পরিবারকে পরিছন্ন রান্নার গ্যাস সংযোগ দেওয়া হয়েছে, যার ফলে অধিকতর উত্তম সামাজিক ও স্বাস্থ্যের প্রভাবের ফলাফল লক্ষ্য করা গেছে। 

স্বচ্ছ ভারত মিশনের প্রবর্তনের পর আইএমআর, শিশু মৃত্যুর হার তিনগুন্ কমেছে |গবেষণাপত্রে আরও প্রকাশ হয় যে শিশু মৃত্যুর হার (আইএমআর) ২০০০-২০১৫ এর তুলনায় ২০১৫ থেকে ২০২০ এর মধ্যে তিনগুণ বেশি গতিতে হ্রাস পেয়েছে। এটি শিশু মৃত্যুর হার হ্রাস করার ক্ষেত্রে স্বচ্ছ ভারত মিশনের উল্লেখযোগ্য প্রভাব বলে দাবি করা হয়।

হিসেব অনুসারে, ২০০০ থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে আইএমআর মাত্র ৩% বার্ষিক হ্রাস হয়েছিল, সেখানে স্বচ্ছ ভারত মিশন বাস্তবায়নের পর সময়কালে আইএমআর হ্রাসের হার ৮-৯% -এ পৌঁছেছিল ।

গবেষণাপত্রে আরো দেখানো হয় যে, আইএমআর হার ২০১৪ সালে ৩৯ থেকে ২০২০ সালে ২৮-এ নেমে আসে, শহর ও গ্রামীণ আইএমআর-এর মধ্যে ব্যবধানও ১২ পয়েন্টে নেমে এসেছে।

গবেষণাপত্রে আরও প্রকাশ যে জেলাগুলিতে শৌচাগারের উচ্চ হরে প্রসার ঘটার ফলে প্রাতিষ্ঠানিক প্রসব, মাতৃ স্বাস্থ্য এবং প্রসবকালীন যত্নের উন্নতি সহ অধিকতর ভাল স্বাস্থ্যের প্রভাব অর্জিত হয়েছে। শৌচাগারের সংখ্যাও উচ্চ হরে বৃদ্ধির ফলে অধিকতর সংখ্যক মহিলা ও শিশুদের পোষণ অভিযান এবং পিএম মাতৃ বন্দনা যোজনার মতো পুষ্টি পরিষেবাগুলির সুবিধা নেবার প্রভাব লক্ষ্য করা গেছে। গবেষণাপত্রে আরও প্রকাশ  যে স্বচ্ছ ভারত মিশনের প্রভাব বেশি লক্ষ্য করা গেছে এমন জায়গাগুলিতে যেখানে নল বাহিত জল সরবরাহের সংখ্যা অধিক।

ফলে, জল জীবন মিশন বাস্তবায়িত হওয়ার সাথে স্বচ্ছ ভারতের ইতিবাচক স্বাস্থ্য সুবিধা আরও বৃদ্ধি হয়ে থাকবে। ওই গবেষণাপত্র অনুযায়ী, প্রায় ১২ কোটি গ্রামীণ বাড়িতে পাইপের মাধ্যমে পানীয় জল সরবরাহ করা হয়েছে এবং ৫ বছরে গ্রামীণ এলাকায় পাইপের মাধ্যমে জল সরবরাহের পরিধি ১৬% থেকে বেড়ে ৭৮% হয়েছে! 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *