আগরতলা, ২ সেপ্টেম্বর : ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে কাটা তারের বেড়ার দেড়শ গজের ভেতরে নাবালিকার মৃতদেহ উদ্ধার হয়েছে। সম্ভবত, বাংলাদেশে অস্থিরতার কারণে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে অবৈধভাবে সীমান্ত ডিঙিয়ে ভারতে প্রবেশের সময় বিজিবির গুলিতে ওই বাংলাদেশী নাগরিক ওই নাবালিকার মৃত্যু হয়েছে। ষোড়শী ওই নাবালিকা স্বর্ণা দাস বলে পরিচিতি মিলেছে। আপাতত, তাঁর মৃতদেহ কৈলাসহর জেলা হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। আগামীকাল তাঁর ময়না তদন্ত হবে।
আজ সকালে কৈলাসহরে ইরানী থানার অন্তর্গত টিলাগাওঁ পঞ্চায়েতের অধীন কালেরখান্দি সীমান্তে কাটা তারের বেড়ার ওপারে নাবালিকার মৃতদেহ উদ্ধারে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। এবিষয়ে ইরানী থানার ওসি অরুনোদয় সাহার বক্তব্য, লাটিয়াপুড়া বিওপি-র ইস্টার্ন কমান্ড্যান্ট থেকে খবর পেয়েছিলাম, সীমান্তে কাটা তারের বেড়ার ৫০ মিটার পশ্চিমে নাবালিকার মৃতদেহ দেখা গেছে। ওই খবরের ভিত্তিতে ঊনকোটি জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, ডিসিএম, এসডিপিও এবং ফরেন্সিক টিম সাথে ইরানী থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছেছে। সেখানে সমস্ত আইনী প্রক্রিয়া মেনে মৃতদেহ উদ্ধার করে ঊনকোটি জেলা হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। আগামীকাল ময়না তদন্ত হবে, জানিয়েছেন তিনি।
পুলিশ সুত্রে খবর, বাংলাদেশী নাগরিক ওই নাবালিকা স্বর্ণা দাস(১৬) বলে পরিচিতি মিলেছে। রবিবার রাতে অবৈধভাবে সীমান্ত ডিঙিয়ে ভারতে প্রবেশের সময় বিজিবির গুলিতে তাঁর মৃত্যু হয়েছে। সূত্রের খবর, বাংলাদেশে মৌলভীবাজার জেলায় কুলাউড়া থানাধীন জুড়ি এলাকার বাসিন্দা ছিলেন স্বর্ণা। দালালের সহযোগিতায় বাবা রেবতী দাস ও মা রাণী দাসকে সাথে নিয়ে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশের চেষ্টায় ছিলেন ওই নাবালিকা। কিন্তু, বিজিবি-র নজরে পড়তেই বেঘোরে প্রাণ গেল তাঁর। সূত্রের দাবি, অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রম নজরে আসতেই বিজিবি গুলি ছুড়েছে। তাতে, স্বর্ণা দাস গুলিবিদ্ধ হয়ে প্রাণ বাঁচাতে ভারতের দিকে ছুটে গেছে। কিন্তু, সীমান্তের খুব কাছাকাছি এসেই মাটিতে লুটিয়ে পড়েছে। এদিকে, তাঁর বাবা ও মা প্রাণ বাঁচিয়ে বাংলাদেশের দিকে ছুটেছেন।