নিজস্ব প্রতিনিধি, শান্তিরবাজার, ৩০ আগস্ট: পশ্চিমবঙ্গে আর জি করের ঘটনা নিয়ে ভারতবর্ষ যখন তোলপাড় , ঠিক এই সময়ে মধ্যে ত্রিপুরা রাজ্যে তথা দক্ষিণ ত্রিপুরা জেলা সাব্রুম মহকুমা, মনু বাজার থানার অন্তর্গত কালী বাজার এলাকায় আপন মাসির সাহায্যে শারীরিক ভাবে নির্যাতনের শিকার হয়েছে এক উপজাতি নাবালিকা মেয়ে।
মুহুরিপুর এলাকার উপজাতি নাবালিকা মেয়েটি ঘুরতে আসে মাসীর বাড়িতে। কিন্তু মাসি সুপ্রিয়া ত্রিপুরা ও মেসো সুকান্ত ত্রিপুরা ওই ১৪ বছরের নাবালিকাকে একটি ছেলের সঙ্গে পাঠিয়ে দেয়, শারীরিক সম্পর্ক তৈরি করার জন্য।
তার কিছুদিন পর পুনরায় ২৪ জুলাই রাত্রিবেলা ঐ নাবালিকা উপজাতি মেয়েটিকে অন্য একটি ছেলের সঙ্গে পাঠিয়ে দেয় মাসি। মেয়েটি ওই ছেলের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক তৈরিতে বাধা দিলে মেয়েটিকে মাটিতে ফেলে গলায় চেপে ধরে মেয়েটির গোপনাঙ্গে গরম জল ঢুকিয়ে দেয়ে পালিয়ে যায় ওই উপজাতি নাবালক যুবক।
আর এই ঘটনার খবর পেয়ে রাতেই মনু বাজার থানার পুলিশ ছুটে গিয়ে নাবালিকা মেয়েটিকে কলাছড়া হাসপাতালে নিয়ে যায়। হাসপাতালে কর্মরত চিকিৎসক অবস্থা বেগতিক দেখে সাথে সাথে মেয়েটিকে শান্তিবাজার জেলা হাসপাতালে রেফার করা হয়।
বর্তমানে নাবালিকা মেয়েটি চূড়ান্তভাবে অসুস্থ অবস্থায় শান্তিরবাজার জেলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে মনু বাজার থানা মামলা রুজু করে তদন্তে নামে। আজ দুপুরবেলা মনু বাজার থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত ইনচার্জ বিষ্ণুপদ ভৌমিক জানান, এই নাবালিকা মেয়েটিকে আপন মাসি সুপ্রিয়া ত্রিপুরা প্রথমে গত এক মাস আগে একটি উপজাতি নাবালক ছেলেটির হাতে তুলে দেন শারীরিক সম্পর্ক করার জন্য। কিছুদিন পর আবারও মাসি অন্য আরেকটি উপজাতি নাবালক ছেলের হাতে তুলে দেন শারীরিক সম্পর্ক করার জন্য। গতকালকে মনু বাজার থানা ঐ দুই উপজাতি নাবালক যুবক আটক করে থানায় নিয়ে আসে। আজ ঐ দুই অভিযুক্তকে সাব্রুম মহকুমা আদালতে হাজির করেন। ওসি আরো জানান, নির্যাতিতা নাবালিকা উপজাতি মেয়েটির মাসি সুপ্রিয়া ত্রিপুরা এবং মেসো সুকান্ত ত্রিপুরাকে এখনো গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। ঘটনার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।