নিজের জেলাতেই “বিস্মৃত” ডাঃ আর জি কর, আক্ষেপ রাধাগোবিন্দের পরিবারের

সৌম্যজিৎ চক্রবর্তী

হাওড়া, ১৮ আগস্ট (হি.স.): দিনকয়েক পরেই তাঁর জন্মদিবস। ঘটনাচক্রে সেই জন্মমাসেই ধ্বংসলীলা চললো তাঁর নামাঙ্কিত হাসপাতালে। তিনি রাধাগোবিন্দ ওরফে ডাঃ আর জি কর।

আর জি কর হাসপাতালে সাম্প্রতিক দুষ্কৃতী হামলার পরে অনেকেরই বক্তব্য, এটা শুধু চিকিৎসাব্যবস্থা ও হাসপাতালের ওপরই আক্রমণ নয়; তিলে তিলে যে হাসপাতাল গড়েছিলেন রাধাগোবিন্দ, তা ধূলিসাৎ করার চেষ্টা তো আদতে সরাসরি আঘাত ডাঃ আর জি করের সম্মানেও। এই ঘটনার পরে তাঁর পরিবার থেকেও প্রশ্ন উঠছে, তিনি শুধু নিজের নামাঙ্কিত হাসপাতালেই অসম্মানিত হলেন না, প্রয়াণের ১০৫ বছর পরেও তিনি অবহেলিত রয়ে গেছেন নিজের জেলাতেই।

হাওড়ার বেতড়ে আজও মাথা উঁচিয়ে দাঁড়িয়ে কয়েক শতাব্দী প্রাচীন বিখ্যাত কর বাড়ি। শুধু বাড়ির পূর্বপুরুষের জন্যই নয়, প্রাচীনত্বের দিক থেকেও এই বাড়ির ঐতিহাসিক গুরুত্ব অপরিসীম। পলাশির যুদ্ধের ঠিক আগের বছর ১৭৫৬ সালে বেতড়ে বাড়ি গড়লো কর পরিবার। ব্রিটিশ আমল, স্বাধীনতা-উত্তর অনেক ওঠাপড়ার সাক্ষী এই ভিটে। ১৮৫০-এর ২৩ আগস্ট এই বাড়িতেই জন্ম আর জি করের। যে দালানে রাধাগোবিন্দের জন্ম, সেটি রয়েছে আজও, তবে ভগ্নদশায়।

ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষের দিকে কলকাতায় প্লেগ মহামারী রুখতে ভগিনী নিবেদিতার সঙ্গে চিকিৎসক হিসেবে একযোগে কাজ করলেন ডাঃ আর জি কর। এসবের আগেই অবশ্য তিনি প্রতিষ্ঠা করে ফেলেছেন এশিয়ার প্রথম বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজ ক্যালকাটা স্কুল অব মেডিসিন। একাধিক ঠিকানা ও নাম পরিবর্তনের পরে রাধাগোবিন্দের  নামাঙ্কিত হয় আজকের আর জি কর হাসপাতাল।

১৯১৮ সালের ১৯ ডিসেম্বর প্রয়াত হলেন ডাঃ আর জি কর। তাঁর মৃত্যুর পর পেরিয়ে গিয়েছে ১০৫ বছর। তারপরেও মেলেনি প্রাপ্য সম্মানটুকু, এমনটাই আক্ষেপ তাঁর পরিবারের তরফে।

এবিষয়ে তাঁর পরিবারের সদস্য তথা প্রখ্যাত চিত্রগ্রাহক পার্থ কর বলেন, যিনি অসংখ্য পীড়িতের সেবায় উৎসর্গ করলেন নিজের জীবন, গড়লেন এমন এক ঐতিহাসিক হাসপাতাল, কিন্তু তাঁর নিজের জেলাতেই আজ পর্যন্ত একটা মূর্তি স্থাপনও হলোনা। প্রশাসনের কাছে দরবার করেও জেলায় তাঁর জন্য কোনও উদ্যোগ চোখে পড়েনি বলে বক্তব্য তাঁর। আর তাঁর নামাঙ্কিত হাসপাতালেই মহিলা চিকিৎসকের সঙ্গে অমন নারকীয় কাণ্ড ও ধ্বংসলীলা যেন সরাসরি আঘাত হেনেছে বিলেতফেরত আদ্যন্ত বাঙালি এক রোগীদরদী চিকিৎসক রাধাগোবিন্দের সম্মানেই!

চিকিৎসক তথা হাওড়া জেলার ইতিহাস গবেষক ডাঃ সুকান্ত মুখোপাধ্যায় এবিষয়ে বলেন, জেলার কৃতী সন্তান ও মানবদরদী চিকিৎসক হিসেবে ডাঃ আর জি করের যে বিপুল অবদান, তারপরেও তাঁর প্রতি হাওড়াবাসীদের এমন বিস্মৃতিই কি প্রাপ্য ছিল ওঁর?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *