মেজিয়া তাপবিদ্যুৎ প্রকল্পে ব্রেকার বিস্ফোরণে  অগ্নিদগ্ধ হয়ে গুরুতর জখম পাঁচ

বাঁকুড়া, ৮ আগস্ট(হি.স.) : মেজিয়া তাপবিদ্যুৎ প্রকল্পের ২ নম্বর ইউনিটের ব্রেকার বিস্ফোরণে  অগ্নিদগ্ধ হয়ে গুরুতর ভাবে জখম হলেন পাঁচ  জন। হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে  এদের মধ্যে ৩ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। জখম হয়েছেন ডিভিসির সিনিয়র ডিভিশনাল ইঞ্জিনিয়ার (ইলেক্ট্রিক্যাল) বিজয় মন্ডল, ২ জন বার্ষিক মেইনটেনেন্স ঠিকা শ্রমিক বড়জোড়ার বাসিন্দা কমল গোস্বামী ও বাঁকুড়ার সুখেন বাউরি এবং ২ জন সাপ্লাই লেবার রাহুল দাস ও ঈশ্বর দে। এদের বাড়ি গঙ্গাজলঘাটি থানার ঘনশ্যামপুর। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০ টা নাগাদ বিদ্যুৎ প্রকল্পের ২ নম্বর ইউনিটের পাওয়ার হাউসের দোতলার ৬.৬ এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর সঙ্গে সঙ্গে তাদের এমটিপিএস হাসপাতালে আনা হয়। প্রাথমিক চিকিৎসার পর ৫ জনকেই দুর্গাপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। প্রকল্পের ঠিকা শ্রমিক সংগঠনের পক্ষে প্রণব কর্মকার ও উজ্জ্বল ঢাং বলেন, গত ১ আগস্ট থেকে ওভার ওয়েলিং এর জন্য ২ নম্বর ইউনিট শাট ডাউন নেওয়া হয়েছে। তারই সংস্কারের কাজ চলছিল। ডিভিসির ইঞ্জিনিয়াররা ঠিকা কর্মীদের নির্দেশ দেন ওই এলাকার ব্রেকার থেকে যে কেবল লাইন বেরিয়েছে তাতে যে কার্বন ও নানা রকম নোংরা জমে আছে তা পরিষ্কার করার। তাদের সঙ্গে ডিভিসির এক ইঞ্জিনিয়ারও ছিলেন। ইউনিট শাট ডাউন আছে নিশ্চিত জেনে কাজ হচ্ছিল। ব্রেকার ডাউন করতেই বিস্ফোরণ হয়। তাতেই ৫ জন ঝলসে যান। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে চরম অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে। তৃণমূল শ্রমিক সংগঠনের বাঁকুড়া জেলা সভাপতি রথীন বন্দ্যোপাধ্যায় এই ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে  বলেন, ইউনিট শাট ডাউন থাকা মানে তাতে বিদ্যুৎ সরবরহ বন্ধ। গত ৪৮ ঘন্টা ধরে সেখানে কাজ হচ্ছে অথচ এদিন কী করে ২০০০ এমপিআর ব্রেকারে বিদ্যুৎ সংযোগ রয়ে গেল? এর জন্য ডিভিসি কর্তৃপক্ষের গাফিলতিকেই দায়ী করেছেন তিনি।  ডিভিসির স্থায়ী শ্রমিক সংগঠন আইএনটিইউসি নেতা অরিন্দম ব্যানার্জি, সিটু নেতা সুমন গোস্বামী ও স্টাফ অ্যাসোসিয়েশন নেতা বিদ্যুৎ কর্মকার বলেন, ডিভিসিতে দীর্ঘদিন কর্মী নিয়োগ বন্ধ । প্রায় সমস্ত দক্ষ কর্মী অবসর নিয়েছেন। ফলে ঠিকা শ্রমিকদের উপর ভরসা করেই কারখানা চালাতে হচ্ছে। আমরা টেকনিক্যাল কর্মী নিয়োগের দাবি জানিয়ে আসছি বহুদিন থেকে। কিন্তু তা কার্যকর করা হচ্ছে না। এবিষয়ে ডিভিসির  কর্তারা নিশ্চুপ।