আগরতলা, ২ আগস্ট: ত্রিপুরায় গত ছয় বছর যাবৎ অপশাসন চলছে। তারই পরিণাম গন্ডছড়ার অনভিপ্রেত ঘটনা। ওই ঘটনায় ১৬৫টি পরিবার শরণার্থী শিবিরে আশ্রয় নিয়েছেন। কিন্তু দু:খের বিষয় গন্ডাছড়ার বিধ্বস্ত এলাকা এবং শরণার্থী শিবির পরির্দশনে যাননি মুখ্যমন্ত্রী অধ্যাপক (ডা.) মানিক সাহা। আজ সাংবাদিক সম্মেলনে গন্ডাছড়ার পরিস্থিতি নিয়ে এমনটাই অভিযোগ তুলে বিজেপি সরকারকে কাঠগড়ায় দাঁড় করালেন বিরোধী দলনেতা জিতেন্দ্র চৌধুরী। সাথে তিনি যোগ করেন, বর্তমান রাজ্যে এক অস্বাভাবিক পরিস্থিতি চলছে। তাই পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে সরকারের নিকট একাধিক দাবি জানানো হয়েছে।
প্রসঙ্গত, গতকাল গন্ডাছড়ার বিধ্বস্ত এলাকা এবং শরণার্থী শিবির পরিদর্শনে গিয়েছিলেন বিরোধী দলনেতা জিতেন্দ্র চৌধুরী, বিধায়ক রামু দাস, সুদীপ সরকার, নয়ণ সরকার, নরেশ জমাতিয়া, সুধন দাস সহ আরও নেতৃত্বরা। এদিন তাঁরা ২০ কার্ড, ৬-৭ কার্ড, ১২ কার্ড, দূর্গাপুর, পিছলিঘাটপর এম.আর.দাস. পাড়া, সরমা বাজার,গন্ডাছড়া দ্বাদশ শ্রেনী বিদ্যালয়ের শরণার্থী শিবির সহ আরও একাধিক জায়গা। এদিন তারা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সাথে কথাবার্তা বলেন এবং নিহত পরমেশ্বর রিয়াং-এর পরিবারের সদস্যদের সাথে ও কথাবাতা বলেন। আজ গন্ডাছড়ার পরিস্থিতি নিয়ে সাংবাদিক সম্মেলন করেন বাম নেতৃত্বরা।
আজ সাংবাদিক সম্মেলনে বিরোধী দলনেতা জিতেন্দ্র চৌধুরী বলেন, গত ৭ জুলাই পরমেশ্বর রিয়াং-এর ঘটনা পূর্ব পরিকল্পিত ঘটনা নয়। সে দূর্ঘটনার শিকার হয়েছে কিন্তু তারপর গন্ডাছড়াকে ধ্বংসস্তূপের পরিণত করা পূর্ব পরিকল্পিত ঘটনা। ত্রিপুরায় গত ছয় বছর যাবৎ অপশাসন চলছে। তারই পরিণাম গন্ডছড়ার অনভিপ্রেত ঘটনা।
তাঁর দাবি, পরিদশর্নকালে নিহত পরমেশ্বর রিয়াং-এর বাবা বলেন, তার ছেলে নেশাগ্রস্ত ছিল বলে প্রচার করা হয়েছে। কিন্তু তা সম্পূর্ণ ভুল প্রচার করা হয়েছে। পাশাপাশি এদিন শ্রী চৌধুরী গন্ডাছড়ার বীভৎস চেহারা সাংবাদিক সম্মেলনে তুলে ধরেন।
এদিম তিনি বলেন, ২০ কার্ড এবং ৩০ কার্ড এলাকায় ঢুকতে একের পর এক বীভৎস চেহারা সামনে আসতে থাকে। বসতঘর, দোকানপাট, পোল্ট্রি ফার্ম, গবাদি পশু পুড়িয়ে দিয়েছে দুবৃত্তরা। ওই ঘটনায় ১৬৫টি পরিবার শরণার্থী শিবিরে আশ্রয় নিয়েছেন। প্রায় ৭২টি পরিবার সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে গিয়েছে। শরনার্থী শিবিরে ওই ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের সদস্যরা করুণ অবস্হায় দিন কাটাচ্ছেন।
তাঁর অভিযোগ, পাকা ফ্লোরে একটি পাতলা পলিথিন ও একটি বিছানার চাদরে ঘুমিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন তারা। পাশাপাশি, পানীয় জলের ব্যবস্থা নেই, শৌচালয়ের ব্যবস্থা নেই।
এদিন শ্রী চৌধুরী বলেন, অন্ততকালের জন্য কেউ শিবিরে আসেন না। কঠিন সময়ে শিবিরে আসতে হয়। কিন্তু শিবির জীবন দীর্ঘায়িত হওয়া কোনোভাবে উচিত নয়। তাই রাজ্য সরকারের নিকট তাঁদের সঠিক ক্ষতিপূরন দিয়ে বাড়ি ফেরার ব্যবস্থা করার জন্য দাবি জানিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি, গ্রামে উপযুক্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা, যতদিন তাঁরা বাড়ি মা ফিরছেন ততদিন চিকিৎসা সহ সমস্ত খরচ বহন করা, তদন্ত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দোষীদের শাস্তিী ব্যবস্থা করা এবং শান্তি সাম্প্রতি বজায় রাখতে প্রসদশন কার্যকরী উদ্যোগ নেওয়ার জন্য দাবি জানিয়েছেন।

