নিজস্ব প্রতিনিধি, ধর্মনগর, ৩১ জুলাই:
শিক্ষক শিক্ষিকারা হচ্ছেন সমাজের আদর্শ, সমাজ গড়ার কারিগর, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের দিক নির্দেশক। শিক্ষকেরাই পারেন একটা সুস্থ ও পবিত্র সমাজ গঠন করতে। কাজেই এদিক থেকে একজন আদর্শ শিক্ষক শিক্ষিকাকে হতে হবে প্রকৃত জ্ঞান ও আদর্শের অধিকারী যাতে ছাত্র-ছাত্রীরা তার আচরণে অনুপ্রাণিত হয়ে তার আচরণকে অনুকরণ করে।
কিন্তু বর্তমান সমাজ ব্যবস্থায় দেখা যায় কতিপয় শিক্ষক-শিক্ষিকা রয়েছেন যারা সেই আদর্শতাকে বৃদ্ধাঙ্গুষ্ট দেখিয়ে শিক্ষকতার নামে শিক্ষাকে কলঙ্কিত করছেন। এমনই এক অভিযোগ উঠেছে উত্তর জেলার ধর্মনগর মহকুমার মন্টেসরি শিক্ষা নিকেতনের এক শিক্ষিকা দীপশ্রী দাসের বিরুদ্ধে ।
অভিযোগ তিনি মন্টেসরি শিক্ষানিকেতনে পিজিটি হিসেবে রাষ্ট্রবিজ্ঞানের শিক্ষিকা হিসেবে নিযুক্ত রয়েছেন। কিন্তু বিষয় শিক্ষক হিসেবে তার শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে সর্বত্রই তীব্র সমালোচনা দেখা দিয়েছে। অভিযোগ একাদশ দ্বাদশ শ্রেণীর শিক্ষক শিক্ষিকা হিসেবে নিযুক্ত হতে হলে তাকে যে বিষয়টির পড়াবেন সে বিষয়ে মাস্টার ডিগ্রী থাকা দরকার। কিন্ত তার নাকি বিষয় শিক্ষকতার ডিগ্রী নেই অথচ তিনি বিদ্যালয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞানের বিষয় শিক্ষক হিসেবে নিযুক্ত রয়েছেন বলে অভিযোগ এবং একাদশ দ্বাদশ শ্রেণীর রাষ্ট্রবিজ্ঞান পড়াচ্ছেন বলে জানা গেছে।
তার ডিগ্রি নিয়ে অভিভাবক ও বিদ্যালয় এর শিক্ষক-শিক্ষিকাদের মধ্যে চরম ক্ষোভ দেখা দিয়েছে কিভাবে তিনি এলএল বি ডিগ্রী নিয়ে বিষয় শিক্ষক হিসেবে নিযুক্ত হয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞান পড়াচ্ছেন । এছাড়াও ওই শিক্ষিকার আচরণ এবং ব্যবহার নিয়েও অভিভাবকদের মধ্যে চরম ক্ষোভ রয়েছে বলে জানা গেছ। বিদ্যালয়ে শিক্ষকের সঙ্গে শিক্ষকের সম্পর্ক শিক্ষকের সঙ্গে শিক্ষিকার সম্পর্ক শিক্ষক-শিক্ষিকার সঙ্গে ছাত্রছাত্রীর সম্পর্ককে তিনি বিভিন্নভাবে ষড়যন্ত্র করে পরিস্থিতিকে বিশৃঙ্খল করার অপচেষ্টা সব সময় করে থাকেন বলে কান পাতলেই শোনা যায়। এমনকি কিছুদিন হয় তিনি বিভিন্ন ষড়যন্ত্রের জাল বুনে ওই বিদ্যালয়ের একজন অভিজ্ঞ শিক্ষক বলে পরিচিত একজন শিক্ষককে বিদ্যালয় ছাড়া করতে বাধ্য করেছেন বলে অভিভাবকদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে ।
প্রশ্ন দেখা দিয়েছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়েও। প্রশ্ন উঠছে কিভাবে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জেনেশুনে বিষয় এর উপর মাস্টার ডিগ্রী ছাড়াও এল এল বি ডিগ্রি প্রাপ্ত একজন ব্যক্তিকে বিষয়-শিক্ষিকা হিসেবে নিয়োগ করলো । আরো জানা যায় এর পূর্বে ওই শিক্ষিকা ধর্মনগর শহরের একাধিক স্কুলে নিযুক্ত হয়েছিলেন অবশ্য স্কুল কর্তৃপক্ষ কিছুদিনের মাথায় উনাকে বিদ্যালয়ে ছাড়া করতে বাধ্য হয় ওনার শিক্ষিকা সুলভ আচরণহীনতার কারণে। তার আচরণের চরম ক্ষুব্ধ অবিভাবক সহ ছাত্রছাত্রীরা । সকলেই তাঁর আচরণের তীব্র নিন্দা ও সমালোচনা করছেন বলে জানা যায় । এখন দেখার বিষয় মন্টেসরি স্কুল কর্তৃপক্ষ তার এই কার্যকলাপে কি ব্যবস্থা নেয়।