নিজস্ব প্রতিনিধি, ধর্মনগর, ২৬ জুন: মিথ্যা মামলা থেকে রেহাই পেলেন এক বিজেপি নেতা। ঘটনা উত্তর ত্রিপুরা জেলার ধর্মনগর এর যুবরাজনগর বিধানসভা এলাকায়। আদালত ওই ব্যক্তিকে নির্দোষ প্রমাণিত করায় স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন তিনি।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, উত্তর জেলার যুবরাজনগর বিধানসভা এলাকার বাসিন্দা বিজেপি নেতা তথা পানিসাগর পঞ্চায়েত সমিতির প্রাক্তন ভাইস চেয়ারম্যান নারায়ন নাথ চৌধুরী ভুয়ো মামলা থেকে রেহাই পেলেন। প্রসঙ্গত আলোড়ন সৃষ্টিকারী এই মামলায় তৎকালীন সময়ে বিজেপির অভ্যন্তরে তোলপাড় পড়ে যায়। সালটা ছিল ২০২০। রাজ্যে প্রথমবারের মতো বিজেপি সরকার আসার পর, তৎকালীন পানিসাগর পঞ্চায়েত সমিতির ভাইস চেয়ারম্যান বিজেপি নেতা নারায়ণ নাথ চৌধুরীর বিরুদ্ধে মামলা করে বসেন কংগ্রেস নেত্রী অঞ্জলি নাথ চৌধুরী। অভিযোগ ছিল শ্লীলতাহানির। পারিবারিক দ্বন্দ্ব জমি বিবাদকে কেন্দ্র করে কিছু সংখ্যক রাজনৈতিক নেতার অঙ্গুলিহেলনে এই মামলা বলে প্রথম থেকেই দাবি জানিয়ে আসছিলেন নারায়ন নাথ চৌধুরী।
বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী ডক্টর প্রফেসর মানিক সাহা ছিলেন তৎকালীন সময়ে প্রদেশ বিজেপি সভাপতি। উনার নির্দেশে দলের আভ্যন্তরীণ তদন্তে নারায়ণনাথ চৌধুরীকে নির্দোষ বলে দলীয় রিপোর্ট আসে। এরপরও উত্তর জেলার দলীয় একটি গোষ্ঠীর চাপে পড়ে নারায়ণবাবু ভাইস চেয়ারম্যান পদে পদত্যাগ করতে বাধ্য হন। এদিকে মামলা চলতে থাকে জেলা দায়রা আদালতে।
দীর্ঘ চার বছর যাবৎ শুনানির পর আজ উত্তর জেলা দায়রা আদালতের জজ অংশুমান দেববর্মা রায় প্রদান কালে ঘোষণা করেন নারায়ণনাথ চৌধুরীর সম্পূর্ণ নির্দোষ। সরকার পক্ষে এই আলোড়ন সৃষ্টিকারী মামলাটি পরিচালনা করেন পিপি পার্থ প্রতিম পাল। নারায়ণ নাথ চৌধুরীর পক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন সিনিয়র এডভোকেট সুব্রত সরকার এবং ধর্মনগরের বিশিষ্ট আইনজীবী প্রদীপ কুমার নাথ। মামলা রায়ের পর সাংবাদিকদের উত্তম মামলার নির্দোষ প্রমাণিত হওয়া নারায়ন নাথ চৌধুরীর জানান বিচার ব্যবস্থার উপর উনার অগাধ বিশ্বাস ছিল, যে যাই বলুক না কেন উনি জানতেন যে উনি নির্দোষ। রাজনৈতিক ভাবে তাকে কলুষিত করতে ফাঁসানো হয়েছে। তাই একদিন না একদিন উনি নির্দোষ প্রমাণিত হবেন ।
নারায়ণ বাবু জানান উনি নিজের থেকেও বেশি চিন্তিত ছিলেন উনার কারণে দলের ভাবমূর্তি যেন নষ্ট না হয়। তাই তিনি আজ আদালতের রায়ে নির্দোষ প্রমাণিত হয়ে নিজেকে ভারমুক্ত মনে করছেন।