চুরাইবাড়িস্থিত ভারতীয় খাদ্য গুদামের চালকদের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিনিধি, চুরাইবাড়ি, ২২ জুন: চুরাইবাড়িস্থিত ভারতীয় খাদ্য গুদামে চালকদের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। বস্তা বস্তা চাল চুরি করে অন্যত্র বিক্রি করার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনায় নীরব দর্শকের ভূমিকায় দপ্তর‌। চুরাইবাড়ি খাদ্য গুদাম থেকে বস্তা বস্তা চাল চুরি করছে লরি চালক ও সহ চালকরা। দিন দুপুরেই এক গাড়ি থেকে অন্য গাড়িতে বিভিন্ন কৌশলে চালের বস্তা গুলো নামিয়ে নিচ্ছে ঐ চালকরা। এমনই অভিযোগ উঠেছে।

উল্লেখ্য চলতি মাসের গত ১১ তারিখ বিকেল পাঁচটা নাগাদ গুদামে প্রবেশের মুখে টিআর০৫- ই – ১৭২৩ নম্বরের গাড়ি থেকে চার বস্তা চাল টিআর০২- বি – ১৭৫৪ নম্বরের গাড়িতে দিয়ে ঐ গাড়ি থেকে বিনিময়ে সম ওজনের লোহার সামগ্ৰী দিয়ে দেওয়া হয়। তাতে নিমিষেই দুই কুইন্টাল চাল নিজেদের আয়ত্বে নিয়ে নেয় চালক ও সহচালকরা। এভাবে এই দুটি গাড়িতেই যে চাল আদান প্রদান করা হয়েছে এমন নয়, প্রায় প্রতি গাড়িতেই চার-পাঁচ বস্তা করে চাল চুরি হচ্ছে। সেই চালগুলো আবার অন্যত্র নিয়ে বিভিন্ন দোকানে স্বল্প দামে বিক্রি করা হচ্ছে।

এখন সব থেকে লক্ষ টাকার প্রশ্ন হচ্ছে গুদামে থাকা সিকিউরিটি গার্ড কিংবা অন্যান্য কর্মীরা কি এই সব দেখে না, নাকি সবকিছু জেনেশুনেও ধৃতরাষ্ট্রের ভূমিকা পালন করছেন ? নাকি গুদামের শ্রমিকরাও একাজে জড়িত। উকি দিচ্ছে বিভিন্ন প্রশ্ন ! নাহলে এই ঘটনা নতুন কোন বিষয় নয়।

বিগত প্রায় কুড়ি পঁচিশ বছর ধরে লরি চালকরা এভাবে চুড়িকান্ড সংঘটিত করে আসলেও তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এভাবে চাল চুরির মাধ্যমে স্থানীয় কিছু অস্থায়ী খাদ্য গুদামের কর্মীর আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হয়ে গেছে।

পূর্বে চুরাইবাড়িতে বড়ো মাপের ভারতীয় খাদ্য গুদাম ছিলো যেখানে প্রতিদিন চালক, সহচালক, শ্রমিক ও অস্থায়ী কর্মীরা কাজের সুবাদে বস্তা বস্তা চাল চুরি করে নিয়ে যেতো। একসময় অনেকটা ক্ষতির মুখও দেখতে হয়েছে এফসিআইকে। তাই চুরাইবাড়ি থেকে সেই বড়ো গুদাম তুলেও নেওয়া হয়েছে। কিন্তু বর্তমানে যে গুদামটিতে ধর্মনগর থেকে চাল নিয়ে আসে লরি চালকরা সেখানেই তাদের ভাগ বসানোর একমাত্র সুযোগ। আর তা হচ্ছেও প্রতিনিয়ত। কে রুখবে এই চুরি কান্ড এটাই এখন দেখার বিষয়!