নিজস্ব প্রতিনিধি, গণ্ডাছড়া, ২৪ মে: রাজ্যের অন্যতম প্রত্যন্ত অঞ্চল হিসেবে চিহ্নিত গন্ডাছড়া মহকুমা। মহকুমার বহু মানুষ অভাব অনটনের তাড়নায় জঙ্গলের শাক সব্জি খেয়ে বেঁচে আছেন। অনেকে জঙ্গল থেকে লাকড়ি, সবজি ইত্যাদি সংগ্রহ করে বাজারজাত করে জীবনজীবিকা নির্বাহ করছেন। কিন্তু এরই মধ্যে এক উপজাতি রমণী তার সদ্যোজাত শিশুসন্তানকে মাত্র সাড়ে পাঁচ হাজার টাকার বিনিময়ে বিক্রি করে দেওয়ার ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
এ ধরনের ঘটনা প্রশাসনকেও রীতিমতো বিপাকে ফেলেছে বলা যেতে পারে। এই সংবাদ ছড়িয়ে পড়তেই দৌড়ঝাপ শুরু হয়েছে বলে নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে। তবে প্রশাসনের তরফ থেকে এখনো প্রকাশ্যে এ বিষয়ে মুখ খোলা হচ্ছে না। ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ দিয়ে স্থানীয় একটি সূত্র থেকে জানানো হয়েছে, ধলাই জেলার গন্ডাছড়ায় অভাবের তাড়নায় দুই দিনের সন্তানকে বিক্রি করলেন এক জনজাতি মা। উত্তর গন্ডাছড়া এডিসি ভিলেজে, তারাবন কলোনির বাসিন্দা চার সন্তানের জননী মর্মরি ত্রিপুরা(৩৭), স্বামী মৃত্যু পূর্ণজয় ত্রিপুরা বিগত ৫ মাস আগে বিষ খেয়ে আত্মহত্যা করেন। সংসারে একমাত্র উপার্জনের কর্তা ছিলেন তিনি। স্বামী মারা যাওয়ার পর সংসারে উপার্জনের কেউ ছিলেন না। তাই তিনি বাধ্য হয়ে জঙ্গল থেকে লাকড়ি বিক্রি করে নুন ভাতের জোগাড় করেন।
স্বামী থাকাকালীন পঞ্চম সন্তান হতে চলেছিল। অভাবের তাড়নায় বাধ্য হয়ে অভাগানী মা গিয়েছিলেন গর্ভপাত করনোর জন্য। গন্ডাছড়া মহকুমা হাসপাতালের চিকিৎসক ডা:বিনয় দেবর্বমার কাছে আসলে উপদেশ দেন সন্তান নস্ট না করার জন্য। মর্মরী ত্রিপুরা বলেন যে আমি লাকড়ি বিক্রি করে যে টাকা পাই তাতে সংসার চলে না। কি করে সন্তানকে লালন পালন করব।তারপরও চার চার সন্তান । তার কথা শুনে ডা:বিনয় দেববর্মার মনে মায়া জাগে। তিনি বলেন ঔষধপত্র যা লাগে আমি বহন করব, সন্তান নস্ট করবেন না। মমরি এিপুরা চিকিৎসকের কথা শুনে রাজি হন।
গত ২২-০৫-২০২৪ইং নবজাত শিশুকে জন্ম দেওয়ার জন্য গন্ডাছড়া মহকুমা হাসপাতালে আসেন এবং এই দিনে এক শিশু কন্যার জন্ম দেন। ২৩মে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা রাতে কর্তব্যরত ডা: এবং নার্সদের ঘুমে রেখে গন্ডাছড়া মহকুমা হাসপাতাল থেকে পাঁচ হাজার পাঁচশত টাকার বিনিময়ে দুই দিনের শিশুকে বিক্রি করে দেন আগরতলার জনৈক দম্পতির কাছে।
গন্ডাছড়া হাসপাতাল থেকে এক উপজাতি রমণী শিশুসন্তান বিক্রি করে দেওয়ার সংবাদ ছড়িয়ে পড়তেই জনমনে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। কেননা এ ধরনের ঘটনা খুবই বিরল। ঘটনা এতটা রাজ্যজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।