নিজস্ব প্রতিনিধি, কৈলাসহর, ২১ মে:
ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো সরকারি সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত। প্রশাসনের তরফ থেকে ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করা হলেও এখনো পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলিকে আর্থিক সহায়তা প্রদান করেনি প্রশাসন। তাতে তীব্র ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলিকে অবিলম্বে ক্ষতিপূরণ প্রদানের দাবি উঠেছে।
ঊনকোটি জেলার কৈলাসহরের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে ভয়ানক ঘূর্ণিঝড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি সাধিত হয় । কৈলাসহর জুড়ে ঘূর্ণিঝড়ে অনেকের ঘরের টিনের ছাদ যেমন উড়ে যায় ,তেমনি বিশাল বিশাল গাছ বিদ্যুতের তারের খুঁটি সহ বিভিন্ন জায়গায় উপড়ে পড়ে। শিলাবৃষ্টিতে বিশাল অংশের মানুষের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয় কিছুদিন আগের প্রাকৃতিক দুর্যোগের ফলে।
সরকারিভাবে খুব দ্রুত উদ্যোগ নেওয়া হয় যাতে তাৎক্ষণিক বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা পুনরায় চালু করা যায়। বিভিন্ন জায়গায় ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তা সারাইয়েরও খুব দ্রুত উদ্যোগ নেয় পূর্ত দপ্তর। কৈলাসহর পুর পরিষদের চেয়ারপারসন চপলা দেবরায় এর সাথে ক্ষতিগ্রস্ত জনগণকে সরকারি সাহায্য প্রদানে কি ভূমিকা নেওয়া হয়েছে এ ব্যাপারে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি জানান যে বিভিন্ন এলাকায় ডিসিদেরকে নিয়োগ করা হয়েছে ।ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের বাড়ি পরিদর্শনপূর্বক রিপোর্ট জমা দেওয়ার জন্য।
সেই মোতাবেক যাতে খুব দ্রুত তাদেরকে আর্থিক সাহায্য প্রদান করা হয় এ ব্যাপারে সরকারি সিদ্ধান্ত করা হয়েছে। কৈলাশহরের বিভিন্ন অঞ্চলে বিভিন্ন ডিসি যারা এ ব্যাপারে কাজে নিযুক্ত হয়েছেন তারা তাদের কাজ অনেকটাই শেষ করে ফেলেছেন বলে জানিয়েছেন চেয়ারপার্সন। ইতিমধ্যেই অনেকেই তাদের ক্ষতিপূরণের টাকাও পেয়ে গেছেন। যদিও বিভিন্ন জায়গায় অনেকের বক্তব্য, যে পরিমাণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন তারা ঘূর্ণিঝড় আর শিলাবৃষ্টিতে সেই মোতাবেক তারা ক্ষতিপূরণ পাননি।
অন্যদিকে লক্ষ্মীপুর তহশীল কাছারি এবং টিলাগাঁও তহশীল কাছারীতে পরিদর্শনের কাজে নিযুক্ত হয়েছেন ডিসি রাজীব দত্ত। যারা ক্ষতিপূরণের জন্য আবেদন করেছেন পরিদর্শন সম্পূর্ণ হয়েছে তাদের অল্প কয়েকজনের । বিশাল অংশের মানুষের বাড়িতে আজ পর্যন্ত পরিদর্শনই সম্পন্ন হয়নি বলে অভিযোগ । কবে পরিদর্শন সম্পন্ন হবে এবং কবে তারা ক্ষতিপূরণ পাবেন । বিষয়টা প্রশ্নঃ চিহ্ন। অনেকে বলাবলি করছেন যে গতিতে পরিদর্শন চলছে এবং ক্ষতিপূরণ প্রদানের কাজ চলছে। তাতে করে এই কাজ সম্পূর্ণ হতে হতে অন্য ঘূর্ণিঝড় চলে আসতে পারে। তাই অতিদ্রুত পরিদর্শন শেষে সাহায্য প্রদান করার দাবি উঠেছে।