বেহাল রাস্তায় জর্জরিত গণ্ডাছড়া মহকুমার গিরিবাসীরা, দ্রুত সারাইয়ের দাবি

নিজস্ব প্রতিনিধি, গণ্ডাছড়া, ১৪ মে: রাজ্য সরকার ও কেন্দ্রীয় সরকার রাজ্যের উপজাতি অধ্যুষিত এলাকার উন্নয়নে নানা প্রকল্পে  অর্থ বরাদ্দ করলেও সেগুলোর সঠিক বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। রাজ্যের সবচেয়ে পিছিয়ে পড়া প্রত্যন্ত মহকুমা হিসেবে পরিচিত গন্ডাছড়া মহকুমা। কিন্তু মহকুমার পানীয় জল, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ইত্যাদি এখনো সঠিকভাবে উন্নত হয়নি।

এলাকার রাস্তার বেহাল দশা, যার ফলে দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন সীমান্তবর্তী পাড়ার জনজাতিরা। ধলাই জেলার প্রত্যন্ত মহকুমা হিসেবে পরিচিত গন্ডাছড়া। যার পূর্ব- দক্ষিণ অংশ জুড়ে রয়েছে বাংলাদেশ। ভারত-বাংলা সীমান্তবর্তী বেশ কিছু গ্রাম রয়েছে। এর মধ্যে একটি জেসি পাড়া। সেখানে ৪৫ পরিবারের বসবাস। তারা সবাই রিয়াং সম্প্রদায়ের। জুম চাষই তাদের জীবিকার একমাত্র উৎস। পাড়ার জনজাতিরা জানান, স্বাধীনতার ৭৭ বছর পর আজও তাদের যোগাযোগের জন্য ভাল রাস্তা নেই। যদিও গত ১০ বছর আগে এনপিসিসি হাতিমাথা বাজার থেকে জেসি পাড়া পর্যন্ত প্রায় ১৪ কিলোমিটার রাস্তা সংস্কারের কাজে হাত দেয়। 

এলাকার গিরিবাসীরা আরো জানান, এনপিসিসি ৫০ শতাংশ রাস্তার কাজ করেই মাঝপথে পালিয়ে যায়। বর্তমানে রাস্তার মারাত্মক অবস্থা। বিশেষ করে জয়রাম পাড়া থেকে নিউ জেসি পাড়া যাওয়ার পথে প্রায় ১০০ মিটার একটি উঁচু রাস্তা ভয়ানক আকার ধারণ করে আছে। এই রাস্তা ধরে বৃষ্টি হলে গাড়ি চলাচল তো দূরের কথা মানুষ পর্যন্ত পায়ে হেঁটে  চলাচল করতে পারছে না। এই বেহাল উঁচু রাস্তা ধরে এলাকার জনজাতিরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে।

শুধু তাই নয়, সীমান্তবর্তী বাহিনী বিএসএফ তাদের রেশন সামগ্রী নিয়ে যেতে পারছেনা। তাছাড়া বেহাল এই রাস্তার দরুন বর্ডার ফেন্সিং কাজের নির্মান সামগ্রী নিয়ে যেতেও দারুন অসুবিধায় পড়তে হচ্ছে। এরপরও রাস্তা সারাইয়ের জন্য পঞ্চায়েত, ব্লক, পূর্ত দপ্তর, গ্রাম উন্নয়ন দপ্তর এমনকি পিজিপি দপ্তর কেউই  উদ্যোগ নিচ্ছে না।

দেখা যায় রাস্তা সংস্কারের জন্য এক দপ্তর অন্য আর এক দপ্তরের উপর ঠেলে দিয়ে পার পাওয়ার চেষ্টা করছে। এমনকি জনপ্রতিনিধিদের উন্নয়ন তহবিল থেকেও রাস্তা সারাইয়ের কোন উদ্যোগ লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। অথচ ভোট আসলে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা-নেত্রীরা সেখানে ছুটে যায় এবং সেখানকার গিরিবাসী’দের নানান প্রতিশ্রুতি দিয়ে আসেন। আর ভোট শেষ হতেই তাদের আর খুঁজে পাওয়া যায় না। এভাবে ভোট আসে ভোট যায় তবুও পাড়ার গিরিবাসীদের ভাগ্যের কোন পরিবর্তন ঘটছে না। এখন দেখার খবর প্রকাশিত হওয়ার পর কোন দপ্তর বা জনপ্রতিনিধিরা রাস্তা সংস্কারে এগিয়ে আসে কিনা তার দিকে তাকিয়ে আছেন সীমান্তবর্তী পাড়ার জনজাতিরা।