নিজস্ব প্রতিনিধি, কাঞ্চনপুর, ২৯ মার্চ: জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত উত্তর জেলার কাঞ্চনপুর মহকুমার নেতাজি নগর এলাকা। হামলায় মহিলা সহ দুজন গুরুতরভাবে আহত হয়ে বর্তমানে উত্তর জেলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এ ব্যাপারে মামলা গৃহীত হয়েছে।। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় তীব্র ক্ষোভ উত্তেজনা বিরাজ করছে।
জমির সীমানা নিয়ে দুই গোষ্ঠীর মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে এক মহিলাসহ দুইজন গুরুতরভাবে আহত হয়েছেন। আহত দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের উত্তর জেলার ধর্মনগর জেলা হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে। পুলিশ ঘটনার সঙ্গে জড়িত মূল অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে। মহিলার উপর এধরনের জঘন্যতম ঘটনার খবর কাঞ্চনপুর মহকুমায় ছড়িয়ে পড়তেই অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্ৰহনের দাবি উঠেছে।
জানা গেছে কাঞ্চনপুর মহকুমার নেতাজী নগর এলাকায় শংকর পাল এবং মনোরঞ্জন পালের পরিবার দীর্ঘ বছর ধরে পাশাপাশি বসবাস করছেন। কিন্তু বুধবার রাতে বাড়ির সীমানা নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়। দীর্ঘক্ষন দুই পক্ষের মধ্যে বাক বিতন্ডার পর সংঘর্ষ বাঁধে। আচমকাই উত্তেজিত হয়ে অভিযুক্ত অমৃত পাল ধারালো অস্ত্র দিয়ে শংকর পাল, তার স্ত্রী অনিমা পালকে আক্রমন করে বলে অভিযোগ। সঙ্গে সঙ্গে শংকর পাল এবং তার স্ত্রী অনিমা পাল গুরুতরভাবে আহত হন।
পরে তাদের প্রথমে কাঞ্চনপুর মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় কিন্তু আঘাত গুরুতর হওয়ায় তড়িঘড়ি ধর্মনগর জেলা হাসপাতালে তাদের রেফার করা হয়। জানা গেছে আহত শংকর পাল স্থানীয় বিজেপি নেতা এবং দশ নম্বর বুথের সভাপতি এবং তার স্ত্রী অনিমা পাল কাঞ্চনপুর মহিলা মোর্চার সাধারণ সম্পাদিকা।
ঘটনার খবর পেয়েই বিজেপির উত্তর জেলা কমিটির সদস্য অরুণ চন্দ্র নাথ ও কাঞ্চনপুর মন্ডলের সাধারণ সম্পাদক তাপসেন্দু নাথ আহতদের দেখতে যান । আহতদের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য জেলা হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন।
উক্ত ঘটনায় মুল অভিযুক্ত অমৃত পাল নামে এক ব্যক্তিকে গ্ৰেপ্তার করেছে। যদিও এই সংঘর্ষের ঘটনায় অভিযুক্তরাও কাঞ্চনপুর থানায় দুটি মামলা দায়ের করেন। কাঞ্চনপুর থানার ওসি জানান ১৫ নং এবং ১৬ নং দুইটি মামলা দায়ের হয়েছে ৪৪৭/৩২৫/৩৫৪/৩৪ আই পি সি ধারায়। পুলিশ এই ঘটনায় যুক্ত অমৃত পাল নামে এক ব্যক্তিকে গ্ৰেপ্তার করেছে। কিন্তু তাকে বৃহস্পতিবার কাঞ্চনপুর ফৌজদারি আদালতে তোলা হলে বিচারক জামিন দিয়ে দেন। কিন্তু মহিলার উপর জঘন্যতম আক্রমন সংঘটিত করে যেখানে আক্রান্তরা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সেখানে কি ভাবে অভিযুক্ত জামিন পেয়েছে তাতে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তক্রমে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি উঠেছে।

