নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ১৭ মার্চ: সমাজকল্যাণ দপ্তরের চাইল্ড ওয়েলফেয়ার কমিটির সদস্য ও চেয়ারপার্সন নিয়োগ বাছাই-এর চুড়ান্ত প্রার্থী তালিকাটি মাঝপথে বদলে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। গত ১৫ মার্চ সমাজ কল্যাণ দপ্তরের ওয়েবসাইটে তালিকাটি প্রকাশ হতেই এর ইন্টারভিউ প্রক্রিয়ার সাথে যুক্তদের মধ্যে ব্যাপক অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে।
ত্রিপুরা হাইকোর্টের সদ্য অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি জাস্টিস সত্যগোপাল চট্টোপাধ্যায় এর তত্বাবধানে এই নিয়োগ বাছাই-এর যাবতীয় প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হয়েছিল। তিনি এই সিলেকশান কমিটির চেয়ারপার্সন।
এই কমিটির অন্যান্য সদস্যরা ছিলেন রাজ্য সমাজ কল্যান ও সমাজ শিক্ষা দপ্তরের অধিকর্তা স্মিতা মল, ত্রিপুরা শিশু সুরক্ষা কমিশনের চেয়ারপার্সন জয়ন্তী দেববর্মন, আগরতলা মেডিক্যাল কলেজের প্রিন্সিপাল, ত্রিপুরা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপিকা ডঃ মিলন রানী জমাতিয়া, শিল্পী সোসাইটি’ নামে একটি এন জি ও-এর সভাপতি চন্দন দেবনাথ ও ‘বিবেক জ্যোতি সামাজিক সংঘ’ নামে অন্য একটি এনজিও এর প্রতিনিধি শ্রীমতি অপরাজিতা সিনহা।
জানাগেছে, চাইল্ড ওয়েলফেয়ার কমিটির সদস্য ও চেয়ারপার্সন পদে নিয়োগের প্রামথিক শর্ত হিসাবে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ডিগ্রী সহ শিশু সুরক্ষা সংক্রান্ত গভীর অভিজ্ঞতা ও আইনি জ্ঞান থাকতে হবে। এবং যিনি আবেদন করবেন তিনি কোনভাবেই কোন রাজনৈতিক দলের সাথে যুক্ত থাকতে পারবেন না।
গত ৪ জানুয়ারি এই অনুযায়ী পশ্চিম জেলা, সিপাহিজলা, খোয়াই, ধলাই, দক্ষিন ও উত্তর জেলার চাইল্ড ওয়েলফেয়ার কমিটির চেয়ারপার্সন ও সদস্যদের নিয়োগের জন্য রাজ্য সমাজ কল্যান দপ্তর বিজ্ঞপ্তি জারি করেছিল। ছয়টি জেলার ছয়টি চেয়ারম্যান পদে নিয়োগের জন্যে ৩৬ জনকে এনং ছয় জেলার ১৯টি সি ডবলু সি সদস্য পদে লোক বাছাই-এর জন্য ১০৫ জনকে স্ক্রুটিনির পর ইন্টারভিউতে ডাকা হয়।
কিন্তু দেখা গেছে, সিলেকশান কমিটি বেশ কয়েকজন এমনসব লোকদেরও ইন্টারভিউতে ডেকেছেন যারা সরাসরি রাজনীতির সাথে যুক্ত। অভিযোগ উঠেছে একাধিক বার একাধিক চাইল্ড ওয়েলফেয়ার কমিটিতে যোগ্যতার সাথে কাজ করেছেন এমন বহু যোগ্য প্রার্থীকে বাদ দেওয়া হয়েছে।
গত ১৫ মার্চ এই নিয়োগ বাছাই-র চুড়ান্ত তালিকাটি সমাজ কল্যান দপ্তরের ওয়েবসাইটে প্রকাশের পর ইন্টারভিউ দিয়েছেন বঞ্চিত এমন একাধিক প্রার্থী অভিযোগ করেছেন যে, রাজ্য সমাজ কল্যান দপ্তর সিলেকশান কমিটির সব সদস্যদের সাক্ষর করা চুড়ান্ত নিয়োগ বাছাই-র তালিকাতে ব্যাপক রদবদল করেছেন।
সিলেকশান কমিটির চূড়ান্ত বাছাই-র তালিকাটি সচিবালয়ে সমাজ কল্যান দপ্তরের মন্ত্রীর অফিসে যাওয়ার পর দ্বিতীয় বার সিলেকশান কমিটির বৈঠক বসিয়ে তালিকাতে রদবদল করিয়েছেন। উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত হলেই জাস্টিস (অবসরপ্রাপ্ত) শ্রী সত্যগোপাল চট্টোপাধ্যায় -এর নেতৃত্বে গঠিত সিলেকশান কমিটি প্রকৃতপক্ষে কাদের চুড়ান্ত বাছাই তালিকায় নাম রেখেছিলেন তা প্রকাশ্যে আসবে। এমনই দাবি জানিয়েছেন চাকরিপ্রার্থীরা।

