নিজস্ব প্রতিনিধি, কৈলাসহর, ৭ ফেব্রুয়ারি: বর্তমান কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারের স্বাস্থ্যক্ষেত্রে অন্যতম একটি দৃষ্টিভঙ্গি হচ্ছে যে, স্বাস্থ্য পরিষেবার সম্প্রসারণের মাধ্যমে হাসপাতালগুলিতে রোগীদের ভীড় কমানো। এই মনোভাব নিয়েই চালু হয়েছে কেন্দ্রীয় সরকারের স্বাস্থ্য দপ্তরের ই-সঞ্জীবনি টেলি মেডিসিন ওপিডি।
কিন্তু দেখা গেছে, এই ই-সঞ্জীবনিতে ডাক্তার দেখাতে গিয়ে রোগীরা ত্রিপুরার চিকিৎসক খুঁজে পাচ্ছেন না। অথচ ভারতবর্ষের অন্য রাজ্যের চিকিৎসকরা এই অনলাইন টেলি মেডিসিন ওপিডিতে উপস্থিত হয়ে রোগীদের পরামর্শ দিচ্ছেন। নাতিদীর্ঘ কথায় বলা যায়, কেন্দ্রীয় আয়ুষ্মান ভারতের অধীনে সবাইকেই একটি করে “আভা” কার্ড করতে হবে। “আভা” মানে আয়ুষ্মান ভারত হেলথ অ্যাকাউন্ট।
আভা কার্ডের ওয়েবসাইটে গিয়ে আধার নম্বর দিলেই মোবাইলে আসা ওটিপি সাবমিট করলে সাথে সাথে হয়ে যাচ্ছে ব্যক্তিগত নম্বরযুক্ত আভা কার্ড। এই আভা কার্ডের নম্বর এবং আধার কার্ডের সঙ্গে যুক্ত মোবাইল নম্বর সহ কিছু ব্যক্তিগত তথ্য ই-সঞ্জীবনির আ্যপে বা ই-সঞ্জীবনির সাইটে সাবমিট করলে, ই-সঞ্জীবনিতে বিভিন্ন বিভাগের ডাক্তার দেখানো যাচ্ছে।
কিন্তু আশ্চর্য বিষয় হচ্ছে যে, এই সরকারি অনলাইন টেলিমেডিসিন সাইটে ভারতবর্ষের প্রায় সব রাজ্যের ডাক্তাররা সকাল দশটা থেকে বিনা পয়সায় পরিষেবা দিলেও ত্রিপুরা রাজ্যের কোনো চিকিৎসক উপস্থিত থাকছেন না। ফলস্বরূপ এদিককার রোগীরা অন্য রাজ্যের ডাক্তারদের শরণাপন্ন হচ্ছেন। স্বাভাবিকভাবেই অন্য রাজ্যের ডাক্তারবাবুরা রাজ্যের রোগীদের দেখতে চাইছেন না কিংবা অনেক সময় করুণাবশতঃ দেখলেও ভাষাগত সমস্যার উদ্ভব হচ্ছে।
ই-সঞ্জীবনির মুখ্য উদ্দেশ্য হচ্ছে, মোবাইলে ভিডিও কলের মাধ্যমে রোগী দেখা ও সাথেসাথেই ব্যবস্থাপত্র দেওয়া। কিন্তু এই সাইটে ত্রিপুরার কোনো চিকিৎসক উপস্থিত না থাকায়, রাজ্যের পাশাপাশি ঊনকোটি-উত্তর জেলার মানুষেরাও বিভ্রান্ত হচ্ছেন।
এমনিতেই ইন্ডিয়ান পাবলিক হেলথ সার্ভিস অনুযায়ী, ঊনকোটি-উত্তর জেলায় বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের সংখ্যা কম। তাই সঙ্গত কারণেই দাবী উঠছে, ডিজিট্যাল যুগের ডাবল ইঞ্জিনের সরকারের যুগে স্বাস্থ্যক্ষেত্রে বিপ্লব আনতে চলা বর্তমান সরকার এই সরকারি টেলি মেডিসিন অর্থাৎ ই- সঞ্জীবনিতে দৃষ্টিক্ষেপ করলে, রোগীরা যেমন ঘরে বসেই পরিষেবা পাবেন, তেমনি রাজ্যের হাসপাতালগুলিতেও চাপ কমবে।