গড়িয়া, ৪ ফেব্রুয়ারি (হি. স.) : দক্ষিণ ২৪ পরগনার গড়িয়ার ফরতাবাদে ইঞ্জিনিয়ারিং ছাত্রের দেহ উদ্ধারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ঘটনাস্থলে নরেন্দ্রপুর থানার পুলিশ এলে পুলিশের উপর হামলার অভিযোগ এলাকাবাসীর। পরে ঘটনাস্থলে বিশাল পুলিশ বাহিনী পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
বাড়ির পাশেই দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র বৃহস্পতিবার রাতে একটি বিয়ে বাড়িতে গিয়েছিলেন। রাতের খাওয়া-দাওয়া সেরে এলাকারই বেশ কয়েকজনের সাথে গল্প গুজব করছিল। তারপর বাথরুম পেয়েছে বলে নিচে নেমে আসে অপ্রতিম দাস নামে ওই যুবক। তারপর থেকে অপ্রতিমের আর কোন খোঁজ পাওয়া যায়নি বলে এলাকার বাসিন্দাদের এবং পরিবারের বক্তব্য। অপ্রতিম বারুইপুরের একটি বেসরকারি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র ছিল। এলাকায় মেধাবী ছাত্র হিসেবে পরিচিত ছিল সে।
অপ্রতিমকে খুজে না পেয়ে নরেন্দ্রপুর থানায় নিখোঁজের অভিযোগ দায়ের করে পুলিশ। বারবার পুলিশের সাথে যোগাযোগ করেন পরিবারের লোকজন। পরিবারের অভিযোগ পুলিশ তদন্তে গাফিলতি করেছে। রবিবার দুপুরে বাড়ির কাছাকাছি একটি জলাশয়ে অপ্রতীমের দেহ দেখতে পায় এলাকার বাসিন্দারা। খবর পেয়ে নরেন্দ্রপুর থানার পুলিশ এলে পুলিশের বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফেটে পড়ে স্থানীয় বাসিন্দারা। পুলিশের উপর হামলার অভিযোগও ওঠে। পরে খবর পেয়ে বিশাল পুলিশ বাহিনী এসে দেহ উদ্ধার করে নিয়ে যায়।
এই ঘটনায় বৃহস্পতিবার রাতেই নরেন্দ্রপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করে অপ্রতিমের পরিবার। তার মোবাইল ফোন থাকলেও বৃহস্পতিবার রাত থেকেই তার মোবাইল ফোন সুইচ অফ ছিল বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। নিখোঁজের অভিযোগ দায়েরের পরেই ঘটনার তদন্ত শুরু করে পুলিশ, এমনটাই জানা গিয়েছে পুলিশ সূত্রে। এলাকায় গিয়ে তদন্তের পাশাপাশি আশেপাশের বিভিন্ন থানাতেও জানানো হয়। এছাড়া রাজ্য পুলিশের যে মিসিং পোর্টাল রয়েছে সেখানেও তথ্য সহ ছবি সহ দেওয়া হয়েছিল বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।
সোমবার দেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হবে। অপ্রতিমের পরিবারের অভিযোগ খুন করা হয়েছে তাঁকে। কিন্তু কি কারণে এই ঘটনা সে বিষয়টি এখনও পরিস্কার নয়। পুলিশ গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। পাশাপাশি এটি খুন না এই মৃত্যুর পিছনে অন্য কোন কারণ রয়েছে সেটাও ক্ষতিয়ে দেখছে।