পূর্ব মেদিনীপুর, ২৭ জানুয়ারি, (হি.স.) : আমেরিকায় ইঞ্জিনিয়ারিং পড়তে গিয়েছিল ছেলে। পড়াশোনাও চলছিল জোরকদমে। বন্ধুদের সঙ্গে ভাবও ছিল বেশ। ছেলেকে নিয়ে বেশ স্বস্তিতেই ছিল পরিবার। কিন্তু জন্মদিনের দিন দুই পেরোতে না পেরোতেই এল ছেলের মৃত্যু সংবাদ। ২৭ জানুয়ারি দেশে ফেরার কথা ছিল যে ছেলের, এ দিন কফিনবন্দি হয়ে ফিরল তার দেহ।
২৬ বছরের বিনয়কুমার জানার বাড়ি রামনগরের পিছাবনীর সটিলাপুর এলাকায়। বিনয় থাকতেন আমেরিকার ন্যাশভিলে। সেখানে তিনি নামি কলেজের ছাত্র ছিলেন। পরিবারের দাবি, গত ৪ জানুয়ারি ছিল বিনয়ের জন্মদিন। সেদিন নাকি বন্ধু-বান্ধবদের সঙ্গে কেক কেটে জন্মদিনও পালন হয়। কিন্তু তার কয়েকদিন পরেই আসে ছেলের মৃত্যু সংবাদ।
জন্মদিনের ২ দিন পরে ৬ জানুয়ারি নাকি মৃত্যু হয় বিনয়ের। সে-কথা তাঁরা জানতেও পারেননি। পরিবারের লোকেরা ১১ জানুয়ারি ফোনে জানতে পারেন ছেলের মৃত্যুর কথা। কীভাবে মৃত্যু হয়েছে, তা যদিও তখনও জানা যায়নি। তখন শুধু তাঁদের জানানো হয় যে, বিনয় যে বাড়িতে ভাড়া থাকতেন, সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে।
পরিবার জানায়, ২৭ জানুয়ারি বিনয়ের বাড়ি ফেরার কথা ছিল। কিন্তু ফিরল বিনয়ের নিথর দেহ। আকস্মিক এই ঘটনায় শোকস্তব্ধ পরিবার। কান্নায় ভেঙে পড়েন বিনয়ের বাবা অমল কুমার জানা এবং তাঁর পরিবারের লোকজন। বিনয়রা দুই বোন, এক ভাই। ছেলের এভাবে চলে যাওয়া কোনমতেই মেনে নিতে পারছেন না বাবা । কারণ যে ছেলের সঙ্গে প্রতিনিয়ত যোগাযোগ হয়েছে, সে কি করে এভাবে চলে গেল, ভেবে পাচ্ছেন না বাবা।
পরিবারের কথায়, জন্মদিনের পরেও কথা হয়েছিল পরিবারের সঙ্গে। কিন্তু তারপরই সব শেষ ! ১১ তারিখ ছেলের মৃত্যুর খবর পেলেও দেহ পেতে ভয়ঙ্কর জটিলতার সম্মুখীন হতে হয় পরিবারকে। অবশেষে মৃত্যুর ১৮ দিন পরে ছেলের মৃতদেহ সেখান থেকে ফেরানো সম্ভব হল।
পরিবারের দাবি, সাংসদ শিশির অধিকারীর সাহায্যেই দেহ ফেরত পাওয়ার জট কেটেছে। বিনয়ের বাবার কথায়, নইলে হয়ত ছেলের মুখটাই দেখা হত না। শনিবার ভোরে মৃতদেহ এসে পৌঁছায় বাড়িতে। পরে দিঘায় বিনয়ের দেহ সৎকার করা হয়। কী কারণে মৃত্যু হয়েছে তা এখনো পর্যন্ত কিছুটা হলেও ধোঁয়াশায় রয়েছেন পরিবারের লোকজনেরা।
পরিবারের দাবি, আমেরিকার পুলিশ এটি আত্মহত্যা বলে জানিয়েছে। তাদের পাঠানো কাগজে সই করার পরেই দেহ হস্তান্তর করা হয়। আমেরিকায় পড়তে যাওয়া ওই পড়ুয়ার কীভাবে মৃত্যু হল, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা।

