কলকাতা, ১৬ জানুয়ারি (হি.স.): ফের একবার কেন্দ্র রাজ্য কাজিয়ার বলি হতে চলেছে রাজ্যের পরিকাঠামো উন্নয়ন। অসহযোগিতার পথে হেঁটে মেট্রো রেলের জন্য দক্ষিণেশ্বর স্কাইওয়াক ভাঙার প্রশ্ন নেই বলে জানিয়ে দিল রাজ্য সরকার। মঙ্গলবার এ নিয়ে নবান্নে সাংবাদিক সম্মেলনে ক্ষোভ প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর কথায়, ‘‘শেষ রক্তবিন্দু থাকতে দক্ষিণেশ্বরের স্কাইওয়াক ভাঙতে দেব না।’’
দক্ষিণেশ্বর মেট্রো সম্প্রসারণের জন্য স্কাইওয়াকের একাংশ ভাঙা প্রয়োজন বলে নবান্নকে চিঠি দিয়েছিল মেট্রো রেল কর্তৃপক্ষ। মেট্রোর বক্তব্য, ৮০ মিটারের বদলে ৬০ মিটার হলেও চলবে। এই মুহূর্তে দক্ষিণেশ্বর মেট্রোয় নেই রেক ঘোরানোর জায়গা। ফলে ডাউন প্ল্যাটফর্মে যাত্রী নামিয়ে তাকে ফের আসতে হয় বরানগরের দিকে। সেখান থেকে লাইন বদল করে আপ লাইনে যেতে হয়। তারপর যাত্রী নিয়ে দমদমের উদ্দেশ্য মেট্রো ছাড়ে। এই পরিস্থিতিতে প্রায় ১০ মিনিট সময় নষ্ট হয়।
মঙ্গলবার নবান্ন সূত্রে জানা গিয়েছে, রাজ্যের তরফে জানানো হয়েছে মেট্রোর কাজের জন্য দক্ষিণেশ্বরের স্কাইওয়াক ভাঙা যাবে না। সূত্রের খবর, নবান্নের বক্তব্য, “প্রয়োজন হলে ওরা মেট্রো রুট ঘুরিয়ে নিক।” মেট্রো নিয়ে কার্যত অনড় অবস্থান নবান্নের।
ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। সাংবাদিক বৈঠকে তিনি বলেন, ‘‘দক্ষিণেশ্বরের স্কাইওয়াক হৃদয়ের মণিমুক্ত। পুলিশের হৃদয়ের মণিকোঠায় আলিপুর বডিগার্ড লাইন্স। এর কোনওটাই আমি ভাঙতে দেব না। দরকারে রুট বদলাতে সাহায্য করব।’’
মমতা বলেন, ‘‘আমি দীর্ঘদিন রেল মন্ত্রক সামলেছি, কোনও সমস্যা হলে কী ভাবে তার সমাধান করতে হয়, তা আমি জানি। বাংলায় মেট্রো জোন আমি তৈরি করেছিলাম। দিল্লির মেট্রোর সমস্যা আমি দূর করেছিলাম। আমি না থাকলে দিল্লি মেট্রোই হত না। জট ছিল। আমি ডেকে সমাধান করেছিলাম।’’
তিনি বলেছেন, “কেন হেরিটেজের উপর আঘাত হবে? দক্ষিণেশ্বরে ভবতারিণী কালী মায়ের মন্দির নিয়ে গোটা বাংলার আবেগ রয়েছে। আগে সংকীর্ণ পথ দিয়ে চলতে অসুবিধা হত দর্শনার্থীদের। সেই কারণেই স্কাইওয়াক তৈরি করেছিল সরকার। সে জন্য রাজ্য সরকারের প্রচুর অর্থ খরচ হয়েছে শুধু নয়, এতে লক্ষ লক্ষ দর্শনার্থীদের সুবিধা হয়েছে। রাজ্যের গর্বও এই স্কাইওয়াক।”
ফিরহাদ হাকিম জানিয়েছিলেন, রেলকে জমি দিতে হলে স্কাই ওয়াকের একটা অংশ ভাঙা সম্ভব নয়।” এবার বিষয়টি নিয়ে কড়া অবস্থান দেখাল নবান্নও।
মেট্রোর সূত্রে খবর, মেট্রোর লাইন ইচ্ছা মতো যে কোনও জায়গায় নিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। তাই যে জমির জন্য আবেদন করা হয়েছে তা না পেলে মেট্রো সম্প্রসারণ সম্ভব নয়। দক্ষিণেশ্বরে জমি না পেলে উত্তর – দক্ষিণ মেট্রোয় যাত্রার সময় কমানো সম্ভব নয়। তবে স্কাইওয়াক ভাঙা এবং নতুন করে তৈরির খরচ রেলইয়করবে। এর আর্থিক দায় রাজ্যকে নিতে হবে না।
একই সঙ্গে জোকা – বিবাদী বাগ মেট্রোর জন্য আলিপুর বডিগার্ড লাইনসের জমি দিতেও অস্বীকার করেছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার। বাম-কংগ্রেসের দাবি, কেন্দ্র-রাজ্য এই আকচা আকচিতে আসলে বঞ্জিত হচ্ছেন রাজ্যের মানুষ।

