সন্দেশখালিকাণ্ডে ধৃত ৪ জনের জেল হেফাজত

উত্তর ২৪ পরগণা, ১৫ জানুয়ারি (হি.স.) : সন্দেশখালিতে ইডির উপরে হামলায় ধৃত ৪ জনেরই জেল হেফাজত হল। এখনও অধরা শেখ শাহজাহান, কাউকেই হেফাজতে চাইল না পুলিশ।

সন্দেশখালিতে ইডি-র উপর হামলার ঘটনায়, শুক্রবার দুপুরে মেহবুব মোল্লা ও সুকুমার সর্দার নামে ২ জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। রবিবার আরও ২ জনকে গ্রেফতার করে ন্যাজাট থানার পুলিশ। মিনাখাঁর খড়িবেড়িয়া থেকে আলি হোসেন ঘরামি এবং ন্যাজাট থেকে গ্রেফতার করা হয় সঞ্জয় মণ্ডলকে। সোমবার তাদের তাদের বসিরহাট মহকুমা আদালতে পেশ করা হয়।

এদিন ধৃতদের জামিনের আবেদন করে অভিযুক্তদের আইনজীবী দাবি করেন, ‘এফআইআরে নাম থাকা কাউকে বাঁচাতে নিরাপরাধদের ধরছে পুলিশ। প্রথমে ২জনকে গ্রেফতার করে বাকিদের নাম পাওয়া ছাড়া কোনও তথ্য নেই। এলাকায় ছিল না, তাও গ্রেফতার করা হয়েছে।’ পাল্টা দাবি করে জামিনের বিরোধিতায় সরকারি আইনজীবী বলেন, ‘সরকারি কর্মীদের মারধরে অভিযুক্ত ধৃতরা।’ জামিনের আর্জি খারিজ করে ধৃত ৪জনেরই ২৪ জানুয়ারি পর্যন্ত জেল হেফাজত দেয় আদালত।

প্রসঙ্গত, গত ৫ জানুয়ারি সন্দেশখালির তৃণমূল নেতা শাহজাহানের শেখের বাড়িতে রেশন দুর্নীতির তদন্তে তল্লাশি চালাতে গিয়ে গ্রামবাসীদের হাতে আক্রান্ত হন ইডির আধিকারিকেরা। সেদিন ইডির আধিকারিকেরা সন্দেশখালির সরবেরিয়া গ্রামে শাহজাহানের বাড়ির সামনে দীর্ঘ ক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকার পরও দরজা খোলেনি কেউ। ইডি মোবাইল টাওয়ারের অবস্থান পরীক্ষা করে দেখতে পায় শাহজাহান তাঁর বাড়ির ভিতরেই আছেন। ইডির আধিকারিকেরা এর পর দরজা ভেঙে ভিতরে ঢোকার চেষ্টা করতেই তাঁদের ঘিরে ধরেন হাজার খানেক গ্রামবাসী। ইট, পাথর, লাঠি নিয়ে তাঁরা চড়াও হন ইডি কর্তাদের উপর। ওই হামলায় জখম হন তিন ইডি কর্তা। তাঁদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালেও ভর্তি করাতে হয়। এর পরই সন্দেশখালির ঘটনা নিয়ে হাই কোর্টে মামলা করে ইডি।