মণিপুরে গোলাগুলি, হত চার, শতাধিক বাসিন্দাকে অন্যত্র স্থানান্তরিত

ইমফল, ১১ জানুয়ারি (হি.স.) : ফের গোলাগুলিতে অশান্ত হয়ে পড়েছে মণিপুর। এবার দফায় দফায় গোলাগুলির ঘটনা সংগঠিত হয়েছে বিষ্ণুপুর এবং চূড়াচাঁদপুর জেলার সীমান্তবর্তী গ্রামে। গোলাগুলির ঘটনায় চার জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের যথাক্রমে ওইনাম রোমেন মেইতি (৪৫), আহানথেম দারা মেইতই (৫৬), থৌদাম ইবোমচা মেইতেই (৫৩) এবং থৌদাম আনন্দ মেইতেই (২৭) বলে শনাক্ত করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে দুজন একই পরিবারের, আহানথেম ও তার ছেলে আনন্দ। এছাড়া শতাধিক বাসিন্দাকে অন্যত্র স্থানান্তর করেছে নিরাপত্তা বাহিনী।

আজ বৃহস্পতিবার বিষ্ণুপুরের কুম্বি থানা সূত্রে প্রাপ্ত খবরে জানা গেছে, বুধবার বিকাল প্রায় সাড়ে তিনটা নাগাদ মণিপুরে সহিংসতার আরেকটি ঘটনা সংগঠিত হয়েছে চূড়াচাঁদপুর এবং বিষ্ণপুর জেলার সীমান্তবর্তী হাওতাক ফাইলেন গ্রামে। দুই গোষ্ঠীর মধ্যে তীব্র বন্দুকযুদ্ধে চারজন নিহত হয়েছেন। বিষ্ণুপুর জেলার অন্তর্গত হাওতাক ফাইলেন গ্রাম মেইতেই জনগোষ্ঠী অধ্যুষিত। গ্রামটি বিষ্ণপুর জেলা সদর থেকে প্রায় ৩৮ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।

গ্ৰামবাসীদের উদ্ধৃতি দিয়ে পুলিশের সূত্রটি জানিয়েছে, হাওতাক ফাইলেন গ্রামের উত্তর-পূর্বে অবস্থিত নিকটবর্তী গ্রাম তামফা খুনউ থেকে কুকি জনগোষ্ঠীয় একদল বন্দুকধারী গ্রামে ঢুকে। তারা গ্রামের জঙ্গলে অবাধে কাঠ কাটা এবং আদা তুলতে শুরু করে। বেআইনি কার্যকলাপের খবর পেয়ে গ্রামের স্বেচ্ছাসেবকরা গিয়ে তাদের গাছ কাটা ও আদা তুলতে বাধা দেয়। অবৈধ কার্যকলাপ ব্যর্থ করায় দুষ্কৃতীরা গুলিবর্ষণ শুরু করে। গোলাগুলি প্রায় এক ঘন্টার বেশি সময় ধরে চলে। এতে চারজন গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যুবরণ করেন। তারা সবাই মেইতেই সম্প্রদায়ভুক্ত।

সূত্রের খবর, প্ৰথমে বিষ্ণুপুরের কুম্বি থানায় চারজনের নিখোঁজ সংক্ৰান্ত এফআইআর দায়ের করা হয়েছিল। পরে নিরাপত্তা বাহিনী উদ্ধার অভিযানে নেমে নিহত তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করেছে। সূত্রের দাবি, অত্যাধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র থেকে গুলি চালানোর পাশাপাশি ছয় রাউন্ড মর্টার চালানো হয়েছে।

ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলের ছুটে যায় নিরাপত্তা বাহিনী। তাঁরা শূন্যে গুলি বর্ষণ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। এরই মধ্যে গ্রামের শতাধিক বাসিন্দাকে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যান নিরাপত্তা কর্মীরা। জানা গেছে, আজও দফায় দফায় গুলি বর্ষণ হচ্ছে। ঘটনস্থলের উদ্দেশ্যে অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাহিনী রওয়ানা হয়েছে বলে সূত্রের খবর।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *