বাংলা ভাষা নিয়ে কেন্দ্রীয় বঞ্চনার অভিযোগ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের

কলকাতা, ১১ জানুয়ারি (হি.স.) : বাংলা ভাষা নিয়ে কেন্দ্রীয় বঞ্চনার অভিযোগ তুললেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ বৃহস্পতিবার নবান্নে সাংবাদিক বৈঠক করে তিনি অভিযোগ করেন, দেশের বেশ কয়েকটি ভাষাকে ধ্রুপদী হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে৷ কিন্তু বাংলাকে ভাষাকে তা দেওয়া হয়নি৷ তাই এবার তিনি বাংলা ভাষার ধ্রুপদী স্বীকৃতির দাবিতে সরব হয়েছেন৷

বৃহস্পতিবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, এই দাবি পূরণের জন্য তিনি চিঠি লিখেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে৷

মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, বাংলা ভাষা সুপ্রাচীন। গত আড়াই হাজার বছর ধরে এই ভাষার বিবর্তন হয়েছে। তাই বাংলাকে এবার ধ্রুপদী ভাষা হিসাবে স্বীকৃতি দেওয়া হোক।
এদিন মন্ত্রিসভার বৈঠক ছিল নবান্নে। তারপর তাঁর উপদেষ্টা তথা প্রাক্তন মুখ্য সচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়কে পাশে নিয়ে সাংবাদিক বৈঠক করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, বাংলা ভাষার বিবর্তন ও ইতিহাস নিয়ে গবেষণার জন্য সরকার একটি কমিটি তৈরি করেছিল। ভাষাবিদ, পণ্ডিত এবং আমলাদের নিয়ে গঠিত কমিটি একটা চার খণ্ডের গবেষণাপত্র তৈরি করেছে। সেই গবেষণা লব্ধ রিপোর্ট কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের কাছে পাঠানো হচ্ছে।
অনেকের মতে, সাধারণ নির্বাচনের আয় বিজেপি যখন উগ্র জাতীয়তাবাদ ও হিন্দুত্বের জিগির তুলছে, সেই সময়ে কৌশলগত ভাবে বাংলার আবেগ উস্কে দিতে চাইলেন মমতা।
মুখ্যমন্ত্রী এদিন বলেন, বাংলা অনেক ব্যাপারে বঞ্চিত। বাংলা ভাষাকে ধ্রুপদী ভাষা হিসাবে স্বীকৃতি দেওয়ার উদ্যোগ অনেক আগেই নেওয়া উচিত ছিল। কিন্তু আমাদেরই অপদার্থতা। এর আগে যাঁরা ক্ষমতায় ছিলেন তাঁরা রাজনীতিই করে গেছেন শুধু। এ সব বিষয়ে মন ছিল না।
অথচ ইতিমধ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক বিভিন্ন মাপকাঠি মেনে গত বিশ বছর ধরে কিছু কিছু ভাষাকে ধ্রুপদি ভাষা হিসাবে স্বীকৃতি দিয়েছে। যেমন তামিল ভাষাকে ২০০০ সালে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে, তেলগু ও কন্নড় ভাষাকে ২০০৮ সালে, মালায়ামকে ২০১৩ সালে এবং ওড়িয়া ২০১৪ সালে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।