‘বিকশিত ভারত সংকল্প যাত্রা: সরকারি সুবিধা এখনও যারা পাননি, তাদের হাতে সেসব সুবিধা তুলে দেওয়াই লক্ষ্য’: প্রতিমা ভৌমিক

আগরতলা, ২১ নভেম্বর : ত্রিপুরা জুড়ে বিকশিত ভারত সংকল্প যাত্রা বিশেষ গতি পেয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকারের কল্যাণমূলক প্রকল্পগুলি সম্পর্কে জানতে সমাজের আর্থিকভাবে দুর্বলতর শ্রেণির মানুষজন বিশেষ উৎসাহ দেখাচ্ছেন। বিভিন্ন সুবিধাভোগীরা এই ‘বিকশিত ভারত সংকল্প যাত্রা’র মধ্য দিয়ে পেয়ে যাচ্ছেন নানা সরকারি সুযোগ সুবিধা। বিকশিত ভারত সংকল্প যাত্রার সপ্তম দিনে মঙ্গলবার ধলাই জেলার আমবাসা ব্লকের অধীন বলরাম ভিলেজ কমিটি এলাকায় উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় সামাজিক ন্যায় বিচার ও ক্ষমতায়ন মন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী শ্রীমতী প্রতিমা ভৌমিক।

অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বলেন, ২০৪৭ সালের মধ্যে বিকশিত ভারত গড়ে তোলার লক্ষ্যেই এই কর্মযজ্ঞ। কেন্দ্রীয় সরকারের জনমুখী বিভিন্ন প্রকল্প সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে আরো বেশী সচেতন করতে আধিকারিকরা এই অভিযানে যুক্ত হয়েছেন। বিভিন্ন জনমুখী প্রকল্প সম্পর্কে তথ্যাবলী জনগণের কাছে পৌঁছে দিতে একটি ভ্রাম্যমান আই ই সি ভ্যানও এই উদ্যোগে সামিল হয়েছে। এদিন অনুষ্ঠানে সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারাও সেখানে উপস্থিত ছিলেন। কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী শ্রীমতি ভৌমিক অনুষ্ঠানস্থলে উপস্থিত সুবিধাভোগীদের হাতে বিভিন্ন স্কিমের আওতায় বিভিন্ন সার্টিফিকেট ও মঞ্জুরিপত্র তুলে দেন। এদিন, উজ্জলা যোজনার গ্যাসের সংযোগ পেয়ে খুশি ব্যক্ত করেন উপস্থিত মহিলারা। পাশাপাশি অন্যান্য যে সমস্ত প্রকল্পেগুলো থেকে এতোদিন বঞ্চিত ছিল প্রকৃত সুবিধাভোগীরা তাদের হাতেও তুলে দেওয়া হয় শংসাপত্র।

প্রধানমন্ত্রী মাতৃবন্দনা যোজনার অঙ্গ হিসেবে গর্ভবতী মায়েদের মিষ্টিমুখ করান কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী। পাশাপাশি ছোট্ট শিশুদের জন্য আয়োজন করা হয় অন্নপ্রাশন অনুষ্ঠানের, শিশুদের অন্ন খাইয়ে সে অনুষ্ঠানের উদযাপন করেন শ্রীমতি ভৌমিক। উপস্থিত গ্রামবাসীদের জন্য বসেছিল বিনামূল্যে চিকিৎসা শিবির।

কেন্দ্রীয় সরকারের অত্যন্ত জনপ্রিয় এবং জনমুখী প্রকল্প প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার ঘর পেয়েছেন বলরাম ভিলেজ কমিটির বাসিন্দা প্রবীর দেবনাথ। তার সেই পাকা বাড়ির ফিতে কেটে দ্বারোদঘাটন করেন শ্রীমতি ভৌমিক। স্বাভাবিকভাবেই নতুন ঘর পেয়ে খুশি প্রবীর দেবনাথের পরিবার। শ্রীমতি ভৌমিক বলেন, ‘গত ছয় বছরে প্রায় চার লক্ষের মতো প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা ঘর পেয়েছেন ত্রিপুরার প্রান্তিক এলাকার বসবাসকারীরা যাদের স্বপ্ন ছিল তারাও একদিন পাকা ঘরে থাকবেন। দেশের যশস্বী প্রধানমন্ত্রী তাদের সেই স্বপ্ন পূরণে তাদেরকে পাকাঘর প্রদান করেছেন। তাছাড়াও প্রবীর দেবনাথ এর পরিবার পেয়েছেন পাকা শৌচালয় এবং পরিবার প্রতিপালন করার জন্য গৃহপালিত পশু’।

বিকশিত ভারত সংকল্প যাত্রার এদিনের অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী শ্রীমতি প্রতিমা ভৌমিক ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ধলাই জেলার জেলা সভাধিপতি অনাদি সরকার, ধলাই জেলার অতিরিক্ত জেলাশাসক বিশ্বজিৎ পাল প্রমুখ। কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী প্রতিমা ভৌমিক উক্ত ভিলেজ এলাকার বেশ কয়েকটি বাড়িতে পরিদর্শন করেন এবং এলাকার মানুষেরা সরকারি কি কি সুযোগ সুবিধা পেয়েছে সে বিষয়েও অবগত হন তিনি। কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী শ্রীমতী প্রতিমা ভৌমিক বলেন ‘২ লক্ষ ৭০ হাজার গ্রামে বিকশিত ভারত সংকল্প যাত্রা শুরু হয়েছে। এই যাত্রার মূল লক্ষ্য হলো যেসব সুবিধাগুলি কোন কারনে জনগণ পাননি সেইসব সুবিধা গুলি তাদের হাতে তুলে দেওয়া হবে। এই উদ্দেশ্য নিয়ে এই যাত্রা শুরু করেছেন প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদি।’

প্রসঙ্গত উল্লেখ করা যেতে পারে যে গত ১৫ নভেম্বর, ২০২৩ তারিখে ‘জনজাতীয় গৌরব দিবস’ উপলক্ষে ঝাড়খণ্ডের কুন্তি জেলায় ‘বিকশিত ভারত সঙ্কল্প যাত্রা’র আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদী। কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রক এবং রাজ্য সরকার এই অভিযানকে সফল করে তোলার কাজে সচেষ্ট হয়েছে। এই বিশেষ প্রচারাভিযান চলবে আগামী ২৪ জানুয়ারি, ২০২৪ পর্যন্ত।