বৃহস্পতিবার উত্তর জেলা সফরে গেলেন মুখ্যমন্ত্রী, দিনভর ছিল বিভিন্ন কর্মসূচি

আগরতলা,২৮ সেপ্টেম্বর : বৃহস্পতিবার একগুচ্ছ পরিকল্পনা নিয়ে উত্তর জেলা সফরে আসেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডঃ মানিক সাহা।এদিন প্রথমে বাগাবাসা পূর্ণাঙ্গ পুলিশ স্টেশনের উদ্বোধন করেছেন তিনি। বাগবাসা পূর্ণাঙ্গ পুলিশ স্টেশনের উদ্বোধনের পর তিনি চলে যান জয়পুর উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে। সেখানে নতুন নির্মাণ দ্বিতল ভবনের দ্বার উদ্ঘাটন করেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখানে ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে ভাবের আদান প্রদান করেন এবং বিদ্যালয়ে কি কি দরকার তা নিয়ে ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে বাতানুবাদ করেন। সেখান থেকে তিনি চলে যান কালাছড়া উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ভবনের শিলান্যাসে। এই শিলা ন্যাস অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রীর সফর সঙ্গী ছিলেন বাগবাসা বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক যাদব লাল দেবনাথ, পানিসাগর বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক বিনয় ভূষণ দাস, কালা ছড়া পঞ্চায়েত সমিতির চেয়ারপারসন টিংকু শর্মা, রাজ্য টিআইডিসির চেয়ারম্যান নবাদুল বণিক, ঊনকোটি জেলার পুলিশ সুপার কান্তা জাহাঙ্গীর, উত্তর জেলা শাসক নাগেশ কুমার বি, উত্তর জেলা শিক্ষা অধি কর্তা সনৎ কুমার নাথ এবং ছাত্র-ছাত্রী ও অভিভাবক বৃন্দ। বৃক্ষে জল দানের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করে মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডঃ মানিক সাহা বলেন সরকার ছাত্র-ছাত্রী এবং অভিভাবকদের উন্নতি চায়। যারা ভবিষ্যতের কারিগর তাদের পর্যাপ্ত সুবিধা দেওয়ার ক্ষেত্রে সরকার বদ্ধপরিকর। তাদের প্রকৃত শিক্ষাদানের জন্য যা যা দরকার তার সরকার করে চলেছে। যে দ্বিতল ভবনের  কাজ শুরু হচ্ছে তাতে প্রায় নয় কোটি টাকা ব্যয় করা হবে। এই বিদ্যালয়ের ফলাফল বলে দিচ্ছে বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য কি পরিমান পরিশ্রম করে। তা না হলে ১০০ শতাংশ কৃতকার্য দেখানো সম্ভব হতো না বলে অভিমত প্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। 

১৯৪৯ সালে এই বিদ্যালয়টি শুরু হয়েছিল। তারপর থেকে এলাকাবাসীদের কঠোর পরিশ্রম এবং শিক্ষকদের পরিশ্রমের ফলে গুটি গুটি করে বিদ্যালয়েটি এগিয়ে গেছে। রাজ্য সরকার প্রত্যন্ত এলাকায় শিক্ষার উন্নতি হোক তাই চায়। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেছেন উত্তর-পূর্বাঞ্চলের উন্নতি না হলে সারা ভারতবর্ষের উন্নতি হওয়া সম্ভব নয়। রাজ্য যোগাযোগ ব্যবস্থায় প্রভূত উন্নতি করেছে বিশেষ করে রেল যোগাযোগের ক্ষেত্রে। প্রতিটি বিদ্যালয়ের পরিকাঠামোর উন্নতির দিকে সরকার নজর রেখে চলেছে। কারণ ভবিষ্যৎ প্রজন্ম সঠিকভাবে উন্নয়নের মাধ্যমে এগিয়ে না আসলে কখনো দেশের উন্নতি সম্ভব নয়। তিনি নিজের ছাত্র জীবন এবং শিক্ষাগত জীবনের অভিজ্ঞতা গুলি ছাত্রছাত্রী এবং শিক্ষক দের মধ্যে তুলে ধরেন। প্রখর দ্বিপ্রহরের রোদের মধ্যে পরপর তিনটি অনুষ্ঠানে যোগদান করে তিনি চলে যান কুমার ঘাটে সেখান থেকে যাবেন ফটিকরায় অটল স্মৃতি ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলার উদ্বোধন করতে। রাতে রেল যোগাযোগে রাজধানীর উদ্দেশ্যে পাড়ি দিয়েছেন তিনি। 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *