কলকাতা, ২০ সেপ্টেম্বর (হি. স.) : ডিএ আন্দোলনকারীদের সংগ্রামী যৌথ মঞ্চে ফের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। বিধায়ক হিসেবে নিজের বর্ধিত বেতন আন্দোলনকারীদের হাতে তুলে দেওয়ার প্রস্তাব দিলেন বিরোধী দলনেতা। মঞ্চ থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারকে নিলেন একহাত। একাধিক ইস্যুতে চড়ালেন সুর।
শুভেন্দুবাবু বলেন, “বিস্তীর্ণ লালমাটি এলাকাতে বিপুল পরিমাণ প্রাকৃতিক সম্পদ প্রকৃতি মা দিয়েছেন। সেখান থেকে কী হচ্ছে ? এই যে বীরভূমে ডিসিআর, ভূমি দফতর যদি ২০০টি ডিসিআর কাটে, ৮০০টি নন-ডিসিআর পাথর চলে যাচ্ছে। বালি, কয়লা। একইভাবে ১০ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব ভূমি দফতর থেকে আসার কথা। রাজ্যের কোষাগারে ১ হাজার কোটি জমা হচ্ছে। ৯ হাজার কোটি টাকা আপনার ভাইপো খেয়ে ফেলছেন। নিয়ে চলে যাচ্ছে। লাইন দিয়ে ওভার লোডিং গাড়ি স্লিপ দেখিয়ে যাচ্ছে।”
মুখ্যমন্ত্রীকে একহাত নিয়ে বিরোধী দলনেতা বলেন, “এই রাজ্যের অর্থনৈতিক অবস্থা বেহাল। শিক্ষা শেষ করেছেন। ২০২৩ সালে রেজিস্ট্রেশন করার পরেও ৪ লক্ষ ছেলে-মেয়ে মাধ্যমিকে পরীক্ষা দিতে আসেনি। ২ লক্ষ উচ্চ মাধ্যমিকে অ্যাডমিট কার্ড নিয়েও পরীক্ষা দিতে আসেনি। কারণ, আগের দিনে লক্ষ্য ছিল শিক্ষিত হও, জ্ঞানার্জন করো। নিজেকে মানুষ হিসাবে তৈরি করো।
আজ উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত হতে গেলে অর্থ লাগে। বাবা-মাকে অভিভাবককে খরচ করতে হয়। প্রত্যেকে চায়, কেরানি বা চতুর্থ শ্রেণির কাজ বা প্রাইমারি শিক্ষকতা বা চুক্তিভিত্তিক কাজ হলেও একটা কম বেতেনের কর্মীর কাজ করে ছেলে পরিবারের অর্থনৈতিক দায়িত্ব নিক। কিন্তু, আপনার রাজ্যে চাকরি নেই বলে উচ্চ মাধ্যমিকে ২ লক্ষ ও মাধ্যমিকে ৪ লক্ষ ৮০ হাজার ছেলে-মেয়ে এমনটা করেছে !”
তিনি মাটির লটারির পাশাপাশি একহাত নেন ডিয়ার লটারির। বলেন, গত ‘২২-‘২৩ অর্থবর্ষে সাদা টাকায় তৃণমূলের ফান্ডে ইলেক্টোরাল বন্ডে ৩০০ কোটি টাকা এসবিআই থেকে চাঁদা দিয়েছে। সাদা টাকায়, কালো টাকায় কী করেছে জানি না। এমনকী ডিয়ার লটারি মুখ্যমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে ‘২২-‘২৩ অর্থবর্ষে মুখ্যমন্ত্রীকে টাকা দিয়েছে।
শুভেন্দুবাবুর প্রশ্ন, “কী দিয়েছেন রাজ্যে ? গত ১২ বছরে ২১ হাজার মদের দোকান দিয়েছেন। ছেয়ে গেছে মদের দোকানে। আমি বিরোধী দলনেতা প্রকাশ্যে বলছি। প্রমাণ, নথিপত্র নিয়ে বলছি। তার পরেও আপনি এদের (ডিএ আন্দোলনকারীদের) বঞ্চিত করছেন।”