আগরতলা, ১৭ সেপ্টেম্বর: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আজ বিশ্বকর্মা জয়ন্তী উপলক্ষে নয়াদিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী বিশ্বকর্মা যোজনা চালু করেছেন। দিল্লিতে আয়োজিত মূল অনুষ্ঠানটি হয় আজকেই উন্মোচিত করা আন্তর্জাতিক মানের সম্মেলন স্থল যশোভূমিতে। যশো ভূমিতে এদিন পরম্পরাগত শিল্পকর্মের সাথে যুক্ত কারিগর ও শিল্পীদের নানান কাজকর্মের প্রদর্শনীও ছিল। প্রধানমন্ত্রী নানান বৃত্তির কারিগরদের এই সমস্ত বিবিধ কাজের প্রদর্শনী ঘুরে দেখেন ও তাদের সাথে মত বিনিময় করেন । পিএম বিশ্বকর্মা যোজনা চালু করার পর এই অনুষ্ঠানে, প্রধানমন্ত্রী সারা দেশ থেকে নির্বাচিত কয়েকজন বিভিন্ন পেশার কারিগরদের হাতে বিশ্বকর্মা পরিচিতি পত্রও তুলে দেন। প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে বিশ্বকর্মা পরিচিতি পত্র গ্রহণ করেন ত্রিপুরা থেকে একজন, কারিগর রত্না সরকার ভট্টাচার্য্য।
এই যোজনার উদ্বোধনের অংশ হিসেবে, আগরতলার রবীন্দ্র শতবার্ষিকী ভবনে আয়োজিত রাজ্য স্তরের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় সামাজিক ন্যায় ও ক্ষমতায়ন প্রতিমন্ত্রী প্রতিমা ভৌমিক। এই উপলক্ষে, কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী শ্রীমতি ভৌমিক বলেন, সমাজের পিছিয়ে থাকা অংশের জনগনের কল্যানে প্রধানমন্ত্রী এই যোজনা এনেছেন । প্রধানমন্ত্রী আজ যেসমস্ত পরম্পরাগত শিল্পকর্মের সাথে যুক্ত কারিগর ও শিল্পীদের কল্যানে প্রধানমন্ত্রী বিশ্বকর্মা প্রকল্প নিয়ে এসেছেন, সেই কারিগররা বছরের পর বছর ধরে অবহেলিত ছিল, কারণ, আগের কোনো সরকার তাদের কল্যানে নজর দেয়নি। আজ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জন্মদিন উপলক্ষে শ্রীমতি ভৌমিক তাঁর ভাষণে প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান।
শ্রীমতি ভৌমিক বলেন যে, প্রধানমন্ত্রী মোদীর দূরদর্শী পরিকল্পনার মধ্য দিয়ে আজ লক্ষ লক্ষ কারিগর পরিবারকে বিশ্বকর্মা হিসাবে একটি পরিচয় এবং শংসাপত্র দেওয়ার কাজ শুরু হলো। এই পরিচিতি দানের মধ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রী মোদি লক্ষ্ লক্ষ্ কারিগর পরিবারদেরকে অত্যন্ত মূল্যবান সামাজিক মর্যাদা দিয়েছেন।
এই যোজনায় যে সমস্ত কারিগররা সুবিধা পাবেন, তারা হলেন, রাজমিস্ত্রি, দর্জি, মুচি, কামার, কুমোর,, স্বর্ণকার, মৃৎশিল্প, ছুতার কাজ, চামড়ার কাজ, বাঁশ, ঝাড়ু ও মাদুর তৈরির পেশা, তালা তৈরি কাজ,নৌকা তৈরি, মাছ ধরার জাল তৈরির কাজে যুক্ত লোকেরা সহ এরকম ১৮ টি কারু-কর্মের সাথে জড়িত কারিগর। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বলেন, সমাজ ও দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সেবা প্রদানকারী এই সমস্ত কারিগরদের আর্থিকভাবে এবং দক্ষতা প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সহায়তা করা হবে, যাতে তারা তাদের পরিবার ও তাদের বৃত্তিগত ব্যবসাকে সমৃদ্ধ করতে পারে এবং দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে সমর্থ হন।
কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী বলেন, কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন এবারের ২০২৩-২৪ এর বাজেট পেশ করার সময়ই এই যোজনার জন্য ১৩,০০০ কোটি টাকার সংস্থান রেখেছিলেন। বিশ্বকর্মা যোজনার মূল দিক সম্পর্কে আলোচনায় শ্রীমতি ভৌমিক বলেন, যোজনায় সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বৃত্তির সাথে জড়িত লোকেদের নিজ নিজ বৃত্তি ক্ষেত্রে পাঁচ দিনের উন্নত ও আধুনিক মানের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। দ্বিতীয় পর্যায়ে এডভান্স প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে ১৫ দিনের জন্য। প্রশিক্ষণ কালে তাদের প্রতিদিন ৫০০ টাকা করে বৃত্তি দেওয়া হবে। আবার, প্রশিক্ষণ শেষে তাদের নিজ নিজ পেশার কাজে লাগে এরকম যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জাম কেনার জন্য ১৫ হাজার টাকা করে দেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, বিশ্বকর্মা যোজনায় এই প্রশিক্ষণ শেষে বিনা গ্যারান্টি ও বিনা সুদে ব্যাংক থেকে প্রথম পর্যায়ে ১ লাখ টাকার ঋনের বন্দোবস্ত করা হবে। ঋণের এই সুদের অর্থ পরিষোধ করবে সরকার। সুবিধাভোগীরা প্রথম ঋণ পরিশোধ করে নিলে, পরবর্তী সময়ে, কারিগরদের আরও ২ লাখ টাকার ব্যাংক ঋনের বন্দোবস্ত করা হবে।
নর্থ ইস্টার্ন ইলেক্ট্রিক পাওয়ার কর্পোরেশন লিমিটেড (নিপকো ) আয়োজিত রাজ্য স্তরের এই অনুষ্ঠানে অন্যান্য দের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের কৃষি ও বিদ্যুৎমন্ত্রী রতন লাল নাথ, শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী শান্তনা চাকমা, শিল্প ও বাণিজ্যের মুখ্য সচিব কে এস শেঠ, পশ্চিম জেলা ম্যাজিস্ট্রেট দেবপ্রিয় বর্ধন, নিপকো-র কারিগরি অধিকর্তা রণেন্দ্র শর্মা প্রমুখ। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন বিশ্বকর্মা পেশার শতাধিক কারিগর ও কারুশিল্পীরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে রাজ্যের কৃষিমন্ত্রী রতন লাল নাথ প্রধানমন্ত্রীর জন্ম দিন উপলক্ষে তাকে শুভেচ্ছা ও তাঁর দীর্ঘ জীবন কামনা করেন। তিনি বলেন, দেশে নরেন্দ্র মোদীর আমলে বহু যোজনা চালু করা হয়েছে, শুধু তাই নয়, সেসব যোজনা সাফল্যের সঙ্গে চলছে। দেশবাসী প্রভূত উপকৃত হচ্ছেন । রাজ্যের শিল্প মন্ত্রী শান্তনা চাকমা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জন্মদিনে শুভেচ্ছা জানান ও প্রধানমন্ত্রী বিশ্বকর্মা যোজনার লাভ গ্রহন করার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আহ্বান জানান ।