কলকাতা, ৫ সেপ্টেম্বর (হি. স.) : কথা না শুনলে এখানে ‘টিট ফর ট্যাট’। কোনও আপোষ নয়। দেখি আপনি কোন কলেজের, কোন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বেতন দেন। মঙ্গলবার শিক্ষক দিবসে রাজ্যে গুণী শিক্ষকদের সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যপালকে সতর্কবার্তা দিতে এভাব হুঁশিয়ারি দিলেন।
রাজভবনের সঙ্গে নবান্নের সংঘাত চরমে পৌঁছে গেল। রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস ইচ্ছা মতো বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নিয়োগ করে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে অপমান করছেন বলে সোমবারই অভিযোগ করেছিলেন শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এদিন বলেন, “আমরা কখনও শিক্ষাক্ষেত্রে রাজনীতি আনতে চাইনা। কারণ আমরা মনে করি আপনারা আমাদের গুরুজন, শিক্ষাগুরু। বাবা-মায়ের মত শিক্ষা দেন, দীক্ষা দেন। আর এখন গুরুজন এসেছে কারা? যারা বাংলাটাকে চেনেই না।
আগে এ রাজ্যে ২-৩টি বিশ্ববিদ্যালয় ছিল এখন ৪২-৪৩টি হয়েছে। এসব জায়গায় যাকে তাকে এনে উপাচার্যের দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে অন্তত ১০ বছর পড়ানোর অভিজ্ঞতা না থাকলে কাউকে এই পদে দায়িত্ব দেওয়া যায় না।
মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যপালকে উদ্দেশ করে বলেন, “মধ্যরাতের অন্ধকারে যাদবপুরের ভিসি বদলে গেল ১৬ জনকে টপকে। বিজেপি-র প্রেসিডেন্ট না কী, তাকে করে দেওয়া হল ভিসি। এটা কী হচ্ছে? হঠাৎ শুনলাম কেরলের একজন আইপিএস অফিসারকে আলিয়ার মত সংবেদনশীল বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্যের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তাঁর শিক্ষায় কোনও যোগ্যতা নেই।
রবীন্দ্রভারতীতে করে দিয়েছে প্রাক্তন বিচারপতি শুভ্রকমল মুখোপাধ্যায়কে। ওঁকে আমি চিনি। আমার সঙ্গে এমএ পড়েছে। আমি তাঁর বিরুদ্ধাচারণ করছি না। সে আইনি কাজ করেছে। সে আইনি কাজে যেতে পারে। কিন্তু শিক্ষায় কী করে?
তার মানে টা কী? শিক্ষার কাঠামোঠা ভাঙার চেষ্টা করছে। এই চক্রান্ত আমরা মানব না।
রাজ্যপাল যদি মনে করেন তিনি সব করবেন, তাহলে নির্বাচিত সরকারের প্রয়োজন নেই।
আমি ওনাকে বলেছি, আমরা নির্বাচিত সরকার। আর আপনি প্রথাগতভাবে, দেখাশোনার জন্য। নিছক মনোনীত।
আপনি যদি কোনও কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ে হস্তক্ষেপ করেন, আর কোনও কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় আপনার কথা শুনে চলে, আমি কিন্তু অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা জারি করব।
রাজ্য-রাজভবন সংঘাত নতুন নয়। একাধিক ইস্যুতে বারবারই রাজ্য সরকারের সঙ্গে রাজ্যপালের মতানৈক্য হয়েছে। জগদীপ ধনকর রাজ্যপাল থাকাকালীন এই সংঘাতে প্রায় প্রতিদিনই নয়া মোড় নিত। তবে রাজ্যের সাংবিধানিক প্রধান বদলের পরও ‘সেই ট্র্যাডিশন সমানে চলছে।’ কখনও রাজ্য সরকারের সঙ্গে আলোচনা না করেই নতুন সিদ্ধান্ত কার্যকর করা, কখনও আবার বিধানসভা থেকে পাঠানো বিল আটকে রাখা – এমনই নানা অভিযোগে রাজ্যপালকে নিশানা করেছেন রাজ্যের মন্ত্রীরা। সাম্প্রতিকতম বিষয়টি হল একক সিদ্ধান্তে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নিয়োগ।

