কলকাতা, ২৩ আগস্ট (হি. স.) : যাদবপুরকাণ্ড নিয়ে তৃণমূল সরকারকে কটাক্ষ করলেন বিজেপি সাংসদ দিলীপ ঘোষ। বুধবার তিনি কাসাই নদীর উপরে মেদিনীপুরের বীরেন্দ্র সেতু পরিদর্শনে আসেন। এরই সঙ্গে তিনি সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দেন।
মেদিনীপুরের সাংসদ বলেন, “যাদবপুরের রহস্য অনেকদিন ধরে চলছে। মন্ত্রী থেকে রাজ্যপাল হেনস্তা হয়, কিন্তু কেউ হাত দেয় না। আজকে রাজ্য সরকারের টনক নড়েছে। বহু গরীব মেধাবী পড়ুয়া এখানে পড়তে আসে সেটাকে বরবাদ করা হচ্ছে।”
প্রসঙ্গত, ২০১৭-র ২০ ও ২১ সেপ্টেম্বর যাদবপুরে গিয়ে হেনস্থা হতে হয়েছিল তৎকালীন কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়কে। ২০১৯-এর ২৪ ডিসেম্বর যাদবপুরের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে এসে হেনস্থা হতে হয়েছিল তৎকালীন উপাচার্য জগদীপ ধনকরকে। মঞ্চে ফাঁকা পড়ে থাকে তাঁর জন্য নির্দিষ্ট আসন। ‘আচার্য’-কে ছাড়াই যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয় সমাবর্তন উৎসব। এর আগে ২৩ ডিসেম্বর কোর্ট মিটিং ঘিরে দিনভর টানাপোড়েনের পর ২৪শে সকালে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালেয় সমাবর্তন অনুষ্ঠানে যোগ গিয়ে তুমুল বিক্ষোভের মুখে পড়েন রাজ্যপাল। তাঁর গাড়ি ঘিরে বিক্ষোভ দেখানো হয়। গো-ব্যাক স্লোগান দেওয়া হয়। গাড়ি থেকে নেমে উপাচার্যের সঙ্গেও কথা বলেন রাজ্যপাল। কিন্তু তাতেও কোনও সুরাহা হয় না। দেড় ঘণ্টা ধরে গাড়িতেই অপেক্ষা করে শেষে ফিরে যান রাজ্যপাল।
পরদিন সকালেই সমাবর্তন অনুষ্ঠানে যোগ দিতে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে চলে আসেন রাজ্যপাল। গেটেই তাঁকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখান তৃণমূল সমর্থিত শিক্ষাকর্মী সংগঠনের সদস্যরা। কালো পতাকা দেখানো হয় রাজ্যপালকে। অন্যদিকে ‘নো এনআরসি’ ব্যাজ পরে সমাবর্তন অনুষ্ঠানে যোগ দেন পড়ুয়ারা। বিক্ষোভের মধ্যে গেট থেকেই উপাচার্যকে ফোন করে রাজ্যপাল। উপাচার্য তাঁকে বলেন, “সমাবর্তন অনুষ্ঠান থেকে আমাকে যেতে দিচ্ছে না তৃণমূল সমর্থিত স্টাফরা। আমি কী করব!” এ কথায় যারপরনাই ক্ষুব্ধ হন রাজ্যপাল। বলেন, “এটা একেবারেই বিশৃঙ্খলা। বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিন।” এরপরই সাংবাদিকদের সামনে বিক্ষোভে ফেটে পড়েন রাজ্যপাল। বলেন, “রাজ্যপাল ছাড়া কোনও সমাবর্তন হতে পারে না। আইন শৃঙ্খলা ভেঙে পড়েছে। আগুন নিয়ে খেলা করা হচ্ছে। মুষ্টিমেয় কয়েকজন একাজ করছে।” একইসঙ্গে উপাচার্যের উদ্দেশে রাজ্যপাল বলেন, “যিনি দায়িত্ব নিতে পারছেন না তাঁর চেয়ারে থাকার এক্তিয়ার নেই।”

