হাফলং (অসম), ১৫ আগস্ট (হি.স.) : একটা সময় ছিল, যখন শুধু দুর্নীতি ও খারাপ খবরের জন্য শিরোনামে ছিল ডিমা হাসাও জেলা। তবে এখন পরিস্থিতি পাল্টেছে। দ্রুতগতিতে উন্নয়নের শিখরে উঠছে এই জেলা। তাই এখন ভালো খবরের জন্য শিরোনামে ওঠে আসছে অসমের অন্যতম পাহাড়ি এই জেলা। মন্তব্য উত্তর কাছাড় পার্বত্য পরিষদের মুখ্য কার্যনির্বাহী সদস্য দেবোলাল গার্লোসার।
দেশের ৭৭-তম স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষ্যে ডিমা হাসাও জেলা সদর হাফলং জেলা ক্রীড়া সংস্থার মাঠে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করে দেবোলাল গার্লোসা বলেন, দীর্ঘ দিন এই পাহাড়ি জেলায় অশান্তির বাতাবরণ ছিল। তবে পাহাড়ি জেলায় শান্তি ফিরে আসার পর দ্রুতগতিতে চলছে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পের কাজ।
তিনি বলেন, ২০১৬ সালের আগে ডিমা হাসাও জেলার অবস্থা কী ছিল তা সবারই জানা। তবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও অসমের মুখ্যমন্ত্রী ড. হিমন্তবিশ্ব শর্মার সহযোগিতায় অসমের এই অন্যতম পাহাড়ি জেলা দ্রুতগতিতে উন্নয়নের পথে এগিয়ে চলছে।
প্রচণ্ড বৃষ্টি উপেক্ষা করে স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে উপস্থিত সহস্রাধিক জনতার উদ্দেশ্যে ভাষণ দিতে গিয়ে দেবোলাল, বলেন প্রধানমন্ত্রী মোদীর জন্যই আজ দিল্লিতে ডিমাসা ভবন নির্মাণ হচ্ছে। তিনি বলেন, শিক্ষা থেকে শুরু করে স্বাস্থ্য পরিষেবা, সড়ক নির্মাণের কাজ ও অন্যান্য উন্নয়নমূলক কাজের সফল রূপায়ণ হচ্ছে। বিশেষ করে, এই কয় বছরে শিক্ষা ক্ষেত্রে ডিমা হাসাও জেলা অনেক এগিয়ে গিয়েছে। উত্তর কাছাড় পার্বত্য স্বশাসিত পরিষদের কর্মচারীদের বেতন সমস্যার সমাধান সম্ভব হয়েছে। এমন-কি পার্বত্য পরিষদের কর্মচারীদের সপ্তম পে কমিশন অনুসারে বেতন প্রদান করা হচ্ছে। তাছাড়া পার্বত্য পরিষদের নিজস্ব রাজস্ব সংগ্রহ বৃদ্ধি হয়েছে।
দেবোলাল গার্লোসা বলেন, পিআরসি ভেরিফিক্যাশন ও জমির পাট্টা ইস্যু নিয়ে বিরোধীরা বিভিন্ন অভিযোগ উত্থাপন করলেও ডিমা হাসাও জেলার স্থায়ী বাসিন্দাদের পিআরসি ও জমির পাট্টা নিয়ে কোনও সমস্যায় পড়তে হবে না।
আজ মঙ্গলবার হাফলং এনএল দাওলাগাপু স্পোর্টস কমপ্লেক্সে ৭৭-তম স্বাধীনতা দিবসে প্রধান অতিথি হিসেবে উত্তর কাছাড় পার্বত্য স্বশাসিত পরিষদের মুখ্য কার্যনির্বাহী সদস্য দেবোলাল গার্লোসা প্রথমে শহিদ তর্পণ করেন। তার পর তিনি অসম পুলিশ, পঞ্চম অসম পুলিশ ব্যাটালিয়ন, গৃহরক্ষী বাহিনী, এনসিসি, স্কাউট অ্যান্ড গাইডদের অভিভাদন গ্রহণ করেন। এর পর সকাল ৯-টায় আনুষ্ঠানিকভাবে ত্রিবর্ণ রঞ্জিত পতাকা উত্তোলন করেন পার্বত্য পরিষদের মুখ্য কার্যনির্বাহী সদস্য দেবোলাল গার্লোসা।
স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ডিমা হাসাওয়ের জেলাশাসক সীমান্তকুমার দাস, পুলিশ সুপার ময়ঙ্ক কুমার, উত্তর কাছাড় পার্বত্য পরিষদের অধ্যক্ষ রাণু লাংথাসা, পরিষদের কার্যনির্বাহী সদস্য সহ সরকারি আধিকারিকরা।
এদিন স্বাধীনতা দিবসের বিভিন্ন অনুষ্ঠানের মধ্যে ছিল মার্চপাস্ট, বিভিন্ন জাতি-জনগোষ্ঠীর পরম্পরাগত লোকনৃত্য, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, হাফলং সেইন্ট অ্যাগনেস কনভেন্ট হায়ার সেকেন্ডারি স্কুলের ছাত্রীদের ব্যান্ড ডিসপ্লে ইত্যাদি। তাছাড়া বিকেলে জেলা ক্রীড়া সংস্থার মাঠে অনুষ্ঠিত হয়েছে স্বশাসিত পরিষদ একাদশ ও জেলা প্রশাসন একাদশের মধ্যে প্রীতি ফুটবল ম্যাচ।
এদিকে মাইবাঙে ৭৭-তম স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন মহকুমাশাসক মেঘঞ্জয় থাওসেন। তাছাড়া পাহাড়ি জেলার প্রতিটি ব্লকে যথাযোগ্য মর্যাদায় উদযাপন করা হয় ৭৭-তম স্বাধীনতা দিবস।