আগরতলা ,১৪ আগস্ট : চলে গেলেন ত্রিপুরার কৃতী সন্তান, অবসরপ্রাপ্ত আই,এ, এস, অফিসার কুলেশ প্রসাদ চক্রবর্তী। খুব আশা ছিল আগামী নভেম্বর মাসে কলকাতায় গিয়ে তাঁর জন্মশতবর্ষ উদযাপন করবো। সেই সুযোগ দিলেন না। একজন সৎ, দক্ষ ও দায়িত্বশীল কর্মকর্তা হিসেবে তিনি অনন্য ভূমিকা পালন করে গেছেন। আজ ১৪/০৮/২০২৩ ইং সকালে তিনি পরলোকগমন করেন (৯৯)। তিনি ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আগরতলায় আগমনের শেষ সাক্ষী। সদরের জ্যোনাল এস ডি ও হিসেবে তিনিই শেখ মুজিবুর রহমানকে জিরানীয়া থেকে আগরতলায় নিয়ে আসেন। ১৯৬৩ সালে তিনি উদয়পুরে জ্যোনাল এস ডি ও হিসেবে বদলি হয়ে এখানে আসেন। ১৯৬৪ সালের ৬ জুন প্রতিষ্ঠা করেন শ্রীশ্রী রামকৃষ্ণ পাঠচক্র,যা বর্তমানে রামকৃষ্ণ আশ্রম।
১৯৭১ সালে তিনি অবিভক্ত দক্ষিণ জেলার জেলা শাসক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং তাঁর উদ্যোগ ও প্রচেষ্টায় জেলা শাসককের অফিসের পরিকাঠামো গড়ে তুলেন। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি জেলা প্রশাসক হিসাবে অসাধারন ভূমিকা পালন করেছিলেন। তিনি ছিলেন প্রচার বিমুখ। ফলে তাঁর অবদানের বিষয়টি প্রচারের আলোয় আসেনি। আমরা মুক্তিযুদ্ধের সময় তাঁর কাছ থেকে প্রচুর সাহায্য পেয়েছি।
উদয়পুরে ১৯৬৪ সালের ৬ জুন শ্রীরামকৃষ্ণ পাঠচক্র যা বর্তমানে আশ্রম প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি ছিলেন এই প্রতিষ্ঠানের প্রথম সভাপতি। আমার বাবার সঙ্গে তাঁর গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার সম্পর্ক ছিল। আমাকে খুব স্নেহ করতেন। আমাদের পরিবারের একজন শুভাকাঙ্ক্ষী ও হিতৈষী ব্যক্তিকে হারালাম। তাঁর বড় ছেলে দেশের বাইরে আছেন ছেলের কাছে। আশিস ছেলে, বৌমা সহ আজই ফিরবেন। বন্ধু আশিস ও কুলেশ প্রসাদ চক্রবর্তীর একমাত্র কণ্যা অর্পিতার সঙ্গে কথা হয়েছে। তাঁর প্রয়াণের সঙ্গে সঙ্গে ইতিহাসের একটি উজ্জ্বল অধ্যায় শেষ হয়ে গেল। গত ২১ শে অক্টোবর ২০২২ ইং তাঁকে শেষ বার দেখে এসেছিলাম। এ দেখাই শেষ দেখা হবে স্বপ্নেও ভাবিনি। মেশোমসাইকে বিনম্র শ্রদ্ধা ও প্রণাম জানাই। আশিস,অম্লান,অঞ্জন ও অর্পিতা সহ সকল আত্মীয় স্বজনদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাই। ওঁ শান্তি।
2023-08-14