উপভোট আসন্ন, ১৭তে মনোনয়নপত্র দেবে বিজেপি, রাজনৈতিক দলগুলির মধ্যে তোড়জোড় অব্যাহত

আগরতলা ,১৪ আগস্ট : বছর ঘুরলে দেশে রাজনৈতিক তাপমাত্রা চড়িয়ে শুরু হবে ২০২৪ লোকসভা ভোট। তার আগে বেশ কয়েকটি রাজ্যে রয়েছে বিধানসভা ভোট পর্ব। তবে তারও আগে, সামনেই বহু রাজ্যে উপনির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণা হয়ে গিয়েছে। ফলে এবার কোমর বেঁধে শক্তি পরীক্ষার লড়াই শুরুর পালা। ত্রিপুরায় সেপ্টেম্বরে রয়েছে ধনপুর ও বক্সনগরে উপনির্বাচন। আর এই ভোট ঘিরে কার্যত বিরোধী শিবির এক সাথে বিজেপির বিরুদ্ধে মাঠে নেমেছে। সেপ্টেম্বর মাসের ৫ তারিখ রয়েছে  সিপাহিজলা জেলার ধনপুর ও  বক্সনগরে উপনির্বাচন। ভোটের ফলপ্রকাশ ৮ সেপ্টেম্বর। ত্রিপুরার রাজনীতির মানচিত্রে এবার এই দুই নির্বাচন ঘিরে বিরোধী জোট ঐক্যের পথে হাঁটছে। লক্ষ্য একটাই, বিজেপির বিরুদ্ধে দাপুটে জয় ছিনিয়ে আনা। জানা গিয়েছে, তবে ইতিমধ্যেই বামফ্রন্ট দুটি কেন্দ্রেই প্রার্থীর নাম ঘোষনা করেছে। তবে তিপ্রা মথা এবং কংগ্রেসের তরফে এখনো প্রার্থীর নাম ঘোষনা হয়নি।
বিরোধী দলনেতা অনিমেষ দেববর্মা জানিয়েছেন, বিরোধীদের এক জোট থাকতে হবে। যাতে কোনভাবেই বিজেপি জয়ী না হতে পারে। তা থেকে এক প্রকার স্পষ্ট তিপ্রা মথা উপ নির্বাচনে দুটি কেন্দ্রে প্রার্থী নাও দিতে পারে।  ত্রিপুরার রাজনৈতিক অঙ্ক তুলে ধরে তিপ্রা মোথা পার্টির তরফে অনিমেষ দেববর্মা বলেন, ‘বিজেপি ৪০ শতাংশের এর কম ভোট পেয়েও ক্ষমতায় এসেছে, আর বিরোধী দলগুলি ৬০ শতাংশ এর বেশি ভোট পেয়েও বিরোধী বেঞ্চে বসে আছে। ১:১ প্রতিদ্বন্দ্বিতা হওয়া উচিত এবং বিরোধী ভোট যাতে ভাগ না হয় তা দেখা উচিত। আমরা শাসক বিরোধী ভোটের দিকে নজর দিচ্ছি।’”
এদিকে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি আশীষ কুমার সাহা বলেন বিরোধীদের এক জোটে থাকার জন্য বৈঠক হয়েছিল তিনটি দলের মধ্যেই। তবে বামফ্রন্ট দুটি কেন্দ্রে প্রার্থী দিয়েছে। বামেরা কিছুটা তাড়াহুড়ো করেই এই কাজটি করল বলে একপ্রকার অসন্তোষ প্রকাশ করলেন কংগ্রেস সভাপতি। তবে তিনি জানান তিনি শীর্ষ নেতৃত্বদের এ বিষয়টি জানিয়েছেন। তারা যে সিদ্ধান্ত নেবেন সেটাই করবেন তিনি। এদিকে মঙ্গলবার রাজ্য কার্যালয়ে বিজেপি বৈঠকে বসে। এই বৈঠকেই প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত হয়েছে বলে খবর। আগামী ১৭ আগস্ট বিজেপি দলের দুটি কেন্দ্রের মনোনীত প্রার্থী মনোনয়নপত্র পেশ করবেন। তার আগেই প্রার্থী তালিকা ঘোষণা হবে বলে জানিয়েছেন প্রদেশ বিজেপি সভাপতি রাজিব ভট্টাচার্য।

রাজ্যের দুটি কেন্দ্রে নির্বাচন হলেও দুটি কেন্দ্রকে নিয়ে যথেষ্ট তৎপর শাসক এবং বিরোধীরা। এক প্রকার বিধানসভা নির্বাচনের মতোই তোড়জোড় দেখা যাচ্ছে রাজনৈতিক দলগুলির মধ্যে। লোকসভা নির্বাচনের আগে এই উপনির্বাচনে জনগণের মতামত কোন দিকে যায় সেটাই এখন দেখার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *