বিদ্যুৎ দপ্তরের গাফিলতিতে ফের মৃত্যু এক গবাদি পশুর

আগরতলা ,১৪ আগস্ট : উত্তর জেলার কাঞ্চনপুর মহকুমার অন্তর্গত প্রত্যন্ত এলাকাগুলিতে বিদ্যুৎ দপ্তরের গাফিলতিতে দুর্ঘটনার শিকার হন সাধারণ মানুষেরা। কখনো গরু বাছুর বিদ্যুৎপৃষ্ট হয়। আবার কখনো গাছপালা ভেঙ্গে পড়ে বিদ্যুৎ এর তার ছিড়ে বিদ্যুৎ পরিষেবা থেকে বঞ্চিত হন ওই এলাকার মানুষেরা। গত ৭ ইং আগস্ট ডানছড়া এলাকার বাসিন্দা অবনী নাথের ৮ মাসের একটি বাছুর গরু হারিয়ে যায়। এলাকায় সারা দিনব্যাপী খোঁজাখুঁজি করেও পাননি বাছুর গরুটিকে। মঙ্গলবার সকালে ৮ ইং আগস্ট অবনী নাথের পুত্র অসিত নাথ বাছুর গরুটিকে খোঁজাখুঁজি করতে গিয়ে বাড়ির পাশে টেন্স মেমোর গণ্ডির ভিতরে মৃত অবস্থায় দেখতে পায়। এলাকার মানুষেরা প্রত্যক্ষ করতে গিয়ে বলেন যে টেন্স মেমোর গণ্ডির ভিতরে প্রচন্ড ঘাস ও জঙ্গল থাকার কারণে বাছুর গরুটি ঘাস খেতে টেন্স মেমোর গণ্ডির ভিতর প্রবেশ করতেই বিদ্যুৎ শর্ট হয়ে মৃত্যু হয়।গরুটিকে প্রত্যক্ষ করে সঙ্গে সঙ্গে বিদ্যুৎ অফিসে টেলিফোন করে এই কথা জানান অবনী নাথের পুত্র অসিত নাথ। পরে ওই এলাকায় সারাদিনব্যাপী বিদ্যুৎ পরিষেবা বন্ধ থাকে। দীর্ঘ পাঁচ ঘন্টা পর বিদ্যুৎ দপ্তরের জুনিয়র ম্যানেজার সহ বিদ্যুৎ দপ্তর থেকে এক প্রতিনিধিদল ঘটনাস্থলে এসে টেন্স মেমোর লাইন কেটে দেয়। পরে গরুর মালিক বাছুর গরুটিকে উদ্ধার করে সৎকারের জন্য নিয়ে যান। এই ঘটনায় বিদ্যুৎ দপ্তরের জুনিয়র ম্যানেজারের কাছে ক্ষতিপূরণের দাবি করলে ম্যানেজারের কথা অনুযায়ী গরুর মালিক সুনিশ্চিত হতে পারেননি। তাই সরকারি পশু হাসপাতালে খবর দিলে সেখান  থেকে পশুদের চিকিৎসক ঘটনাস্থলে এসে প্রাথমিক চিকিৎসা করে। পরে পশু হাসপাতাল থেকে বাছুর গরুটির মৃত্যুর কারণ জনিত চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী রিপোর্ট নিয়ে কাঞ্চনপুর থানায় এজাহার দাখিল করেন বয়স বৃদ্ধ গরুর মালিক অবনী নাথ। অবনী নাথ বয়স বৃদ্ধ হওয়ায় উনার পুত্র অসিত নাথ সাংবাদিকের মুখোমুখি এক সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে বলেন যে ৮ মাসের বাছুর গরুটি বিদ্যুৎপৃষ্ট হয়ে মৃত্যু হয়েছে। তবে তার কারণ টেন্স মেমোর গণ্ডির ভিতরে প্রচন্ড ঘাস ও জঙ্গল থাকার কারণে বাছুর গরুটি সেখানে যায় ও তার মৃত্যু হয়। তার জন্য বাছুর গরুটির সম্পূর্ণ ক্ষতিপূরণ  বিদ্যুৎ দপ্তরকে বহন করতে হবে। তাদের দাবি না মানা হলে এই দুর্ঘটনা জনিত ঘটনাকে কেন্দ্র করে বহু দূর জল গড়াবে বলে হুশিয়ারি দিয়েছেন তারা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *